kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরিয়তের বিধান পালন

অসুস্থ ব্যক্তি কত দিন অবকাশ পাবে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসুস্থ ব্যক্তি কত দিন অবকাশ পাবে

ইসলাম অসুস্থ ও অপারগ ব্যক্তিকে শরিয়ত পরিপালনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবকাশ দিয়েছে। তবে এই ছাড় খণ্ডকালীন। ব্যক্তি যখন সুস্থ হয় বা তার অপারগতা দূর হবে তখন সে  স্বাভাবিকভাবে দ্বিন পালন করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পার। সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩-১৮৪)

অসুস্থ ব্যক্তি কত দিন অবকাশ পাবে : অসুস্থ ও অপারগ ব্যক্তি তার অসুস্থতা ও অপারগতার সময় পর্যন্ত শরিয়তের বিধান পালনের ক্ষেত্রে অবকাশ লাভ করবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা নিরাপত্তা বোধ করবে তখন সালাত যথারীতি আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত নির্ধারিত সময়ে মুমিনদের এক অবশ্য পালনীয় কাজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)

আলোচ্য আয়াতটি সালাতুল খাউফের (যুদ্ধকালীন ভয়ের সময়, যা আদায় করা হয়) ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে আয়াতের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, আপতিত পরিস্থিতি এবং অপারগতা দূর হয়ে গেলে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা জরুরি। অন্যান্য বিধানকেও এর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

সুযোগ গ্রহণ করা কতটা বৈধ? : অসুস্থ ও অপারগ ব্যক্তির জন্য শরিয়ত অনুমোদিত অবকাশ গ্রহণ করা জায়েজ। জীবনের ঝুঁকি ও অঙ্গহানির মতো ভয় থাকলে তা গ্রহণ করা আবশ্যক। কিন্তু যথাযথ নিয়মে তা আদায় করতে না পারায় মুমিনের অন্তরে কষ্ট ও অনুতাপ থাকবে এবং যথাযথ সম্ভব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার চেষ্টা করবে। সাহাবিদের আমলে এমনটিই দেখা যায়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, নামাজের জামাত থেকে পিছিয়ে থাকত কেবল এমন মুনাফিক, যার নিফাক স্পষ্ট ছিল অথবা অসুস্থ ব্যক্তি। তবে আমরা অসুস্থদেরকেও দেখতাম, দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে তারা নামাজের জন্য চলে আসত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৮৫)

অপারগ না হয়েও অবকাশ গ্রহণ করা : কোনো ধরনের অপারগতা ছাড়া যদি কেউ অবকাশ গ্রহণ করে তবে পরিণতি ভয়াবহ হয়। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি অপারগতা ছাড়া নামাজের জামাতে অনুপস্থিত থাকে, তবে তার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হুঁশিয়ারি হলো—‘যারা জামাতে উপস্থিত হচ্ছে না তারা যেন এ কাজ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত হয়। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর সেঁটে দেবেন। অতঃপর তারা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে, যারা (দ্বিন ও ঈমানের ব্যাপারে) উদাসীন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৯৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিন পালনে পূর্ণ মনোযোগী ও যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।



সাতদিনের সেরা