kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

গুজব প্রতিরোধে কোরআনের সতর্কবার্তা

মারজিয়া আক্তার   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গুজব প্রতিরোধে কোরআনের সতর্কবার্তা

কিছু মানুষ আশপাশে যা কিছু ঘটে, সব কিছু নিজের বিরুদ্ধে মনে করে। সব সময় তাদের ভেতর সন্দেহ ও দোষারোপের মনোভাব কাজ করে। এটা দুর্বলচিত্ত ও কপটতাপূর্ণ বিশ্বাসের লক্ষণ। এমন মানুষ সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, ‘তারা প্রতিটি বিকট শব্দ বা চিৎকারকে  তাদের বিরুদ্ধে মনে করে।’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত : ৪)

কোনো বিষয়ে স্বচ্ছ জ্ঞান ও পরিস্কার ধারণা না থাকলে তা বলা, বিশ্বাস করা ও প্রচার করা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য এমন : ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬)

নিজস্ব চিন্তা কিংবা দল-মতের রংচং মাখিয়ে খবর আংশিক বা পুরোপুরি পরিবর্তন করে প্রচার করা ইসলাম কিছুতেই সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০)

খবরের তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিরূপণ করা অপরিহার্য। কোনো খবর পেলে তা যাচাই-বাছাই করা মুমিনের দায়িত্ব। গুজবে কান দিলে নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অন্যরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ৬)

গুজবে কান দেওয়া মিথ্যাবাদী হওয়ার নামান্তর। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যা শুনবে, তা-ই (যাচাই করা ছাড়া) বর্ণনা করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (মুসলিম শরিফ : ১/১০)। তবে সত্য তথ্য থাকলে তা প্রকাশে কোনো বাধা নেই। সত্য গোপন করাকে ইসলাম পাপ হিসেবে বিবেচনা করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না, আর যে ব্যক্তি তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৩)। মহান আল্লাহ আমাদের গুজব ও মিথ্যাচার থেকে হেফাজত করুন।



সাতদিনের সেরা