kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

স্তরভেদে জিনা-ব্যভিচারের ভয়াবহতা

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিজ প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা সাধারণ ১০ নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করার চেয়ে ভয়ংকর।’ [ মুসনাদ আহমাদ ৬/৮; সহিহ তারগির ওয়াত তারহিব, হাদিস : ২৪০৪ ]

 

জিনা-ব্যভিচার সর্বাবস্থায় গর্হিত অপরাধ। কিন্তু স্তরভেদে কখনো কখনো সেটি তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। যেমন—

১. অবিবাহিতা মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচার। এতে মেয়েটির সম্মানহানি ও চরিত্র বিনষ্ট হয়। কখনো কখনো ব্যাপারটি সন্তান হত্যা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং মেয়েটির জীবন হুমকির মুখে পড়ে।

২. বিবাহিতা নারীর সঙ্গে ব্যভিচার। এতে উপরন্তু স্বামীর সম্মানও বিনষ্ট হয়। তার পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। তার বংশ পরিচয়ে ব্যাঘাত ঘটে। কারণ সন্তানটি তারই বলে বিবেচিত হয়; অথচ সন্তানটি মূলত তার নয়। যেন এমন ঘটনা ঘটতে না পারে সে জন্য রাসুল (সা.) স্বামী অনুপস্থিত—এমন নারীর বিছানায় বসা ব্যক্তির এক ভয়ানক রূপ চিত্রায়ণ করেছেন। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বামী অনুপস্থিত—এমন কোনো নারীর বিছানায় বসে, তার দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো যাকে কিয়ামতের দিন কোনো বিষাক্ত সাপ দংশন করে।’ (সহিহ তারগির ওয়াত তারহিব, হাদিস : ২৪০৫)

৩. প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে ব্যভিচার। এতে উপরন্তু প্রতিবেশীর অধিকারও বিনষ্ট হয় এবং তাকে চরম কষ্ট দেওয়া হয়। মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিজ প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা সাধারণ ১০ নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করার চেয়ে ভয়ংকর।’ (মুসনাদ আহমাদ ৬/৮; সহিহ তারগির ওয়াত তারহিব, হাদিস : ২৪০৪)

রাসুল (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬)

৪. যে প্রতিবেশী নামাজের জন্য অথবা ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য কিংবা জিহাদের জন্য ঘর থেকে বের হয়েছে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার মারাত্মক অন্যায়। বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুজাহিদদের স্ত্রীদের সম্মান যুদ্ধে না গিয়ে ঘরে বসে থাকা লোকদের কাছে তাদের মায়েদের সম্মানের মতো। কোনো ঘরে বসে থাকা ব্যক্তি যদি কোনো মুজাহিদ পুরুষের পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তাদের তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে আমানতের খিয়ানত করে তখন তাকে মুজাহিদ ব্যক্তির প্রাপ্য আদায়ের জন্য কিয়ামতের দিন দাঁড় করিয়ে রাখা হবে। অতঃপর মুজাহিদ ব্যক্তি ঘরে বসা ব্যক্তির আমল থেকে যা মনে চায় নিয়ে নেবে। রাসুল (সা.) বলেন, তোমাদের কি এমন ধারণা হয় যে তাকে এতটুকু সুযোগ দেওয়ার পরও সে এ প্রয়োজনের দিনে ওর সব আমল না নিয়ে ওর জন্য এতটুকুও রেখে দেবে?’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৯৭)

৫. আত্মীয়া নারীর সঙ্গে ব্যভিচার। এতে উপরন্তু আত্মীয়তার বন্ধনও বিনষ্ট করা হয়।

৬. মাহরাম বা বেগানা (যে নারীকে বিবাহ চিরতরে হারাম) নারীর সঙ্গে ব্যভিচার অমার্জনীয় অপরাধ। এতে ব্যভিচারের পাপের পাশাপাশি মাহরামের অধিকারও বিনষ্ট করা হয়।

৭. বৃদ্ধ ব্যক্তির ব্যভিচার। এটি অত্যন্ত মারাত্মক ব্যাপার। বৃদ্ধ বয়সেও সে ব্যভিচার করে বসল, অথচ জীবনের ভাঙা-গড়া সে শেষ করে এতদূর এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের গুনাহ্ থেকে পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে দয়ার দৃষ্টিতেও তাকাবেন না এবং তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি : বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যুক রাষ্ট্রপতি এবং অহংকারী গরিব।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৭)

মহান আল্লাহ আমাদের এমন অপকর্ম থেকে হেফাজত করুন।