kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

হে আল্লাহ, তোমার কাছে ফরিয়াদ

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী   

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাঁটি হাঁটি পায়ে রহমত, মাগফিরাত পেরিয়ে নাজাতের দশকের একেবারে শেষের দিকে এসে দাঁড়িয়েছি আমরা। হে আল্লাহ! তুমি তো জানো, পৃথিবীর মানুষ আজ কতটা বিপদের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। তুমি তো জানো, মানুষ আজ কত বেশি অসহায়। পুরো পৃথিবী আজ তোমার রহমতের ভিখারি। হে আল্লাহ! আমাদের এক ফোঁটা রহম করো। করোনা নামক মহামারি দিয়ে তুমি আমাদের ধ্বংস করে দিয়ো না। আমরা ধ্বংস হলে তোমাকে কে ডাকবে। হে আল্লাহ! এই রমজানে আমাদের তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও। আমাদের পবিত্রতা অর্জনকারীদের একজন বানিয়ে দাও। আমাদের জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও। আমাদের শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখো। আমাদের ও আমাদের গুনাহগুলোর মাঝখানে দূরত্ব সৃষ্টি করো, যেভাবে দূরত্ব সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন করো, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত করা হয়। আমাদের কাছ থেকে মন্দ আচরণ দূর করে দাও হে মহামহিম।

হে দরদি পাঠক! হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, মহামারি হলো আল্লাহ তাআলার এক ধরনের আজাব। আল্লাহ কোনো প্রজন্মের ওপর রাগ হলে তাদের ওপর মহামারি চাপিয়ে দেন। হে আল্লাহ! আধুনিক এই সভ্য যুগের মানুষ আমরা। বিজ্ঞানের উৎসকর্ষে আমরা এমনই বেপরোয়া হয়ে উঠেছি যে একদল মানুষ তোমার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে বসেছে। হে আল্লাহ! তোমাকে আর কী বলব। যারা তোমার শক্তি নিয়ে সন্দেহ করত, তোমার নিদর্শন নিয়ে হাসি-তামাশায় মেতে ছিল, তারা আর কেউ নয়, মুসলমানেরই সন্তান। তাই কি তুমি আমাদের ওপর এত রাগ করেছ? হে আল্লাহ! তোমার নাজিল করা সর্বশেষ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের অনুসারী আমরা। কিন্তু হায়! আমরা না কোরআন নিয়ে গবেষণা করেছি, না কোরআন বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা নানা অজুহাতে কোরআন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকেছি। পুরো মুসলিম বিশ্বে কোরআনের সমঝদার খুব কম লোকই পাওয়া যাবে। কোরআনের আধুনিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কজনই বা জানে। তুমিই তো পবিত্র কোরআনে বলেছ, অতীতে বহু প্রজন্মকে তুমি আজাব-গজব-মহামারি দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছ শুধু তোমার নাজিল করা কিতাব গবেষণা না করার কারণে। তোমার নাজিল করা হিদায়াত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করার জন্য। হে আল্লাহ! আমরা তো কোরআন পড়ি না। নয়তো কেন গজব আসে, গজব এলে কিভাবে তোমার কাছে সমর্পিত হতে হয় তা আমরা আগে থেকেই জানতাম।

হে পৃথিবীর মানুষ! হে বিশ্বাসী সম্প্রদায়! আমাদের আদি পিতা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-কে যখন আল্লাহ তাআলা জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন, ‘তোমরা দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাও। আমার পক্ষ থেকে যে হিদায়াত তোমাদের কাছে আসবে, সেই হিদায়াত মেনে জীবন পরিচালনা করলে তোমাদের কোনো ভয় নেই, চিন্তাও নেই।’ আজ বিশ্ববাসী যে ভয়ে মুষড়ে আছে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে গেছে—এটার সমাধান একটাই, তা হলো জীবনের প্রতি পদক্ষেপে বিজ্ঞানময় কোরআনের নির্দেশগুলো মেনে চলা। জীবনের যেখানে যেখানে কোরআনবিরোধী আচরণ আছে, সমাজে ও রাষ্ট্রের যেখানে কোরআনবিরোধী কার্যক্রম আছে, সেগুলো থেকে সচেতনভাবে ফিরে এসে কোরআনের দিকনির্দেশনা মতে সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা করা। কোরআন নামক সোনার খনি পরিত্যক্ত না রেখে তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা। এভাবে কোরআনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমার চাদরে জড়িয়ে নেবেন। হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আমাদের কোনো আশ্রয় নেই। তুমি ছাড়া আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। তুমিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা। আমাদের পরম আশ্রয় দাও এবং আমাদের জীবনকে করে দাও কোরআনময়। আমিন।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি; পীর সাহেব, আউলিয়ানগর

www.selimazadi.com

 



সাতদিনের সেরা