kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

যে ইমামের প্রতি মুসল্লিরা অসন্তুষ্ট থাকে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নামাজের ইমামতি শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নোল্লিখিত শর্তগুলো বিদ্যমান থাকা আবশ্যক—

১. পুরুষ হওয়া। ২. মুসলমান হওয়া। ৩. বালেগ হওয়া। ৪. বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। ৫. নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিরাত পড়তে সক্ষম হওয়া। ৬. নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার যতগুলো শর্ত আছে, তার মধ্য থেকে যদি শুধু একটি শর্তও পাওয়া না যায়, তাহলে তার ইমামতি শুদ্ধ হবে না। নামাজ সহিহ হওয়ার শর্ত যেমন—পবিত্রতা, সতর ঢাকা ইত্যাদি। আর যার নামাজই হবে না, তার ইমামতির প্রশ্নই আসে না। ৭. ওজর তথা যাবতীয় অপারগতামুক্ত হওয়া। যেমন—নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া, প্রস্রাব ঝরা, সর্বক্ষণ বায়ু নির্গত হওয়া ইত্যাদি। (বাদায়ে : ২/৫৪)

৮. শব্দের সঠিক উচ্চারণে সক্ষম হওয়া। যে ব্যক্তি ‘রা’ বলতে ‘গাইন’, ‘হা’ বলতে ‘খা’ উচ্চারণ করে, এরূপ লোকের ইমামতি শুদ্ধ হবে না।

যে ইমামের প্রতি মুসল্লিরা অসন্তুষ্ট থাকে, সে ইমামের পরিণতি সম্পর্কে প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ তিরমিজি শরিফে একটি অধ্যায় আনা হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি হাদিস আনা হয়েছে। যদিও আরো কয়েকটি হাদিসের কিতাবে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাসান (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলল্লাহ (সা.) তিন ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন। তারা হলো, যে ব্যক্তি মুসল্লিদের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে; যে নারী স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায় এবং যে ব্যক্তি ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ শুনেও তাতে সাড়া দেয় না (জামাতে উপস্থিত হয় না)।

একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লোকেরা যদি ইমামকে খারাপ জানে তাহলে তাদের ইমামতি করা তার জন্য মাকরুহ। কিন্তু ইমাম যদি জালিম (প্রকৃত অপরাধী) না হয়, তাহলে যারা তাকে খারাপ জানে তারা গুনাহগার হবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহ.) বলেছেন, যদি এক-দুই অথবা তিনজন লোক তাকে খারাপ জানে, তাহলে তার ইমামতি করাতে কোনো অপরাধ নেই। হ্যাঁ, যদি বেশির ভাগ মুসল্লি তাকে খারাপ জানে তাহলে তাদের ইমামতি করা তাঁর জন্য ঠিক হবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৮)

আমর ইবনুল হারিস ইবনু মুস্তালিক (রহ.) বলেন, ‘দুই ব্যক্তির ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ শাস্তি হবে। যে নারী তার স্বামীর অবাধ্য আচরণ করে এবং কোনো গোত্রের ইমাম, যাকে তারা অপছন্দ করে।’ (তিরমিজি,  হাদিস : ৩৫৯)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কান অতিক্রম করে না (কবুল হয় না)। পলায়নকারী দাস, যে পর্যন্ত তার মালিকের কাছে ফিরে না আসে; যে নারী তার স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায় এবং যে ইমামকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা পছন্দ করে না। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০)

মহান আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

 

 

 

মন্তব্য