• ই-পেপার

দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করবেন না

চীনে ব্যস্ততা প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করা প্রয়োজন : তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিপটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্ক্যাপ’ সেশনে অংশগ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক
চীনে ব্যস্ততা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করা এবং পাশাপাশি ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-কে কার্যকর করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এ ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিপটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্ক্যাপ’ শীর্ষক সেশনে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে চীনের দালিয়ান শহরের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দালিয়ান থেকে আজ বুধবার দুপুরে হাইস্পিড ট্রেনে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর মূল চীন সফর শুরু হবে আজ থেকে। বেইজিং সফরে চীনের সঙ্গে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা থাকবে আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে। গ্রীষ্মকালীন দাভোস সেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ‘প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজন’ও অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। এর আগে সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। চীনের দালিয়ান শহরে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলছে ডব্লিউইএফের গ্রীষ্মকালীন দাভোস। ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্পকাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও এর বিস্তৃত অর্থনৈতিক সুফলের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানোর বিষয়টি এবারের সম্মেলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০-এর বেশি সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে করসুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করবে। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী : চীন সফরে অত্যন্ত ব্যস্ততম সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিনিয়োগ, ব্যবসাবাণিজ্যসহ এ অঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল করতে বাংলাদেশকে অংশীদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্ক্যাপ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন তারেক রহমান। সেখানে আজ ২৪ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি কিয়াং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া আগামীকাল ২৫ জুন বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা এবং দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশেই যেমন জনগণের আস্থা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাচ্ছেন। গতকাল চীনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দালিয়ানের সাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় ফলপ্রসূ সফরের ধারাবাহিকতায় চীনেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে বর্তমানে বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন। মাহদী আমিন সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত সামার দাভোস-২০২৬ বর্তমানে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিদল, আমন্ত্রিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ ও করপোরেট নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। একজন সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগদান করবেন তারেক রহমান। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একসঙ্গে ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা উত্থাপন : মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানিব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজশিল্পের বিকাশে পাটশিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেক্ট্রিক ভ্যাহিকেল চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশগ্রহণ : সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রিমিয়ার তথা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসোরিন উচরাল, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকটেনভের সঙ্গে, অর্থাৎ সাত দেশের সরকারপ্রধানের একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং উন্মুক্ত আলাপচারিতার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিংয়ে’ যোগ দেবেন : মাহদী আমিন জানান, আজ বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অন্যান্য বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পলিসি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন।

দুপুরে দালিয়ানা থেকে বেইজিংয়ে একটি হাইস্পিড ট্রেনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্দেশে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা স্থানীয় সময় বেলা ২টায় বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন।

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও সম্মানজনক অবস্থান : মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মযজ্ঞের ফলে দীর্ঘদিন পর বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমন একজন স্টেটসম্যান, যিনি সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আকাক্সক্ষাকে কার্যকরভাবে ধারণ করছেন, নিশ্চিত করছেন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থান। তিনি জানান, দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোসে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের বেস্ট প্র্যাকটিস গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কী আছে : প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো নদী তিস্তার সঙ্গে রয়েছে উত্তরের ২৫টি নদীর প্রবাহ। ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। তিস্তা নদীকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না বা পাওয়ার চায়নার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মহাপরিকল্পনায় পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির আদলে তিস্তার দুই পারে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার চীনের সেই প্রস্তাবনার আলোকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে চীন গেলেন দুই মন্ত্রী : চীনের বেইজিংয়ে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হতে গতকাল রাতে চীন গেলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে তাঁরা চীনের উদ্দেশে রওনা করেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ইস্যুতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী আছেন বলেও জানান তিনি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

৫৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
৫৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে।

তিনি বলেন, দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত গুটিকয়েক প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই বেশি ঘনীভূত। শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কাঠামোগত নির্ভরশীলতার কারণেই এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।  

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

জাতীয় সংসদে মন্ত্রীর উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল ঘাটতির মূল কারণ হলো- চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের উচ্চ আমদানি। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। 

বাণিজ্য ঘাটতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হলেও এর বিপরীতে তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য এবং ভোগ্যপণ্যের বিপুল আমদানির কারণে এই বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেশ চোখে পড়ার মতো, যা মূলত এই অঞ্চল থেকে মধ্যবর্তী পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাকে নির্দেশ করে। এই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই ঘাটতি ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। 

এছাড়া, এই অঞ্চলের অন্য দুটি দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, যার পরিমাণ যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন এবং ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে। এর মধ্যে কাতারের সঙ্গে ঘাটতি ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। 

পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯.৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। 

দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার।

ইউরোপ ও ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে, রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। 

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যার পর রয়েছে আর্জেন্টিনা ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার। 

আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর সঙ্গে সামগ্রিক বাণিজ্যের আকার তুলনামূলক ছোট হলেও ঘাটতির চিত্রটি বেশ বিস্তৃত। আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সঙ্গে ৫১১ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার, বেনিনের সঙ্গে ৪৬৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার, ক্যামেরুনের সঙ্গে ২৭২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার, মালির সঙ্গে ২৪৭ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার, বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে ১৯৫ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার, মোজাম্বিকের সঙ্গে ৯৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং নাইজেরিয়ার সঙ্গে ৯১ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। 

এ ছাড়া, ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারে।

১৬ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা, ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১৬ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা, ঝড়ের শঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্রবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নির্বাচিত সরকারেই আস্থা আইএমএফের

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মেরূকরণ জট খুলছে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার

অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচিত সরকারেই আস্থা আইএমএফের

প্রায় দুই বছরের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার ফল  ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে সরকার। এর অংশ হিসেবে এডিবি বাজেট সহায়তা দিয়েছে এক বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের নতুন একটি ঋণচুক্তির জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এ মাসেই। যার একটি বড় অংশ দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে কাজে লাগানো হবে। এদিকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের যে অবনতি ছিল সেটাও অনেকটা কেটে গেছে। জাইকা, ইএসএইড, ইউএনডিপি, আইডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন করে ঋণ ও সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। এবার ২০২৬-২৭ বাজেটে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাজে মালয়েশিয়া ও চীন সফল করছেন। যা দেশের কূটনৈতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে ভেঙে পড়ে আর্থিক কাঠামো। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেটা টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কারের মনোযোগী হয় সরকার। এর ফলে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তিন মাসের ব্যবধানেই। বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। তবে বর্তমান সরকার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অর্থনীতিতে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এতে অবশ্য সরকার অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণও করতে পেরেছে। এখন দরকার দূরদর্শী পরিকল্পনা। যা দেশকে সত্যিকারের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এ ধরনের সহায়তা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হলো সংস্কার বাস্তবায়ন। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা কার্যকর সংস্কার এনে দেশ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাই। দেশের জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখে ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। এতে তরুণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির আলোচনা শুরু : ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচিত সরকার ছাড়া চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির বাকি দুই কিস্তির অর্থ ছাড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল আইএমএফ। ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংস্থাটি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে। ওই পুরোনো ঋণের অবশিষ্ট কিস্তির সঙ্গে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির প্রস্তাব দেয় নির্বাচিত সরকারকে।

জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে।

এডিবি দিয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার : চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)। এই অর্থ প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। গড়ে মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরলে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ মানদণ্ড (কমপক্ষে তিন মাস) ছাড়িয়ে গেছে।

অতীতে রিজার্ভ চাপের মুখে পড়ে ব্যবহারযোগ্য অংশ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল। সেই সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে দেড় বিলিয়ন ডলার : চলতি মাসেই তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার অনুমোদন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চাপে পড়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। এই তহবিলের মধ্যে, র‌্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) উইন্ডোর আওতায় চলমান প্রকল্প ঋণ থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্নির্ধারণ (রিপারপাস) করা হবে। সার আমদানি ও খাদ্য সহায়তার জন্য দেওয়া হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন ডিসি এবং ঢাকা উভয় স্থানেই কয়েক দফা আলোচনার পর এই বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করবে চীন : চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে ইতিবাচক খবর পাবে বাংলাদেশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে আছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর।

অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। এর বাইরে অন্য যেকোনো উপযুক্ত স্থানে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে উড়াল মহাসড়ক, ঢাকার জন্য সাবওয়ে ও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ আসতে পারে। এক সমীক্ষায় রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন