kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

হাদিসশাস্ত্রে ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর অবদান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাদিসশাস্ত্রে ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর অবদান

হিজরি তৃতীয় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। সিয়াহ সিত্তার (হাদিসের বিখ্যাত ছয়টি গ্রন্থ) সব গ্রন্থই এ শতকে সংকলিত হয়েছে। আর এ ছয়টি গ্রন্থের অন্যতম একটি গ্রন্থ হলো ‘সুনানু ইবনি মাজাহ।’ শুধু ইবনে মাজাহ নয়; বরং তিনি মহাগ্রন্থ আল কোরআনের তাফসির গ্রন্থ এবং তত্ত্ব ও তথ্যনির্ভর ইতিহাসগ্রন্থ প্রণয়ন করে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। এখানে ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর প্রকৃত নাম মুহাম্মাদ। পিতার নাম ইয়াজিদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ, উপাধি আল-হাফিজুল কাবির।

ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর ‘মাজাহ’ নামটি কার উপাধি—এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, মাজাহ তাঁর পিতার উপাধি, আবার কেউ বলেন, তাঁর দাদার উপাধি।

তিনি ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের প্রসিদ্ধ শহর কাজভিনে জন্মগ্রহণ করেন। মুসলিম জাহানের তৃতীয় খলিফা ওসমান বিন আফফান (রা.)-এর খেলাফতকালে এ শহর বিজিত হয়।

ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) নিজ দেশেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেন। এরপর তিনি কোরআন হিফজ (মুখস্থ) সম্পন্ন করেন। অতঃপর উচ্চশিক্ষা অর্জন এবং হাদিস সংগ্রহের জন্য তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ ও জনপদের যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইমাম ইবনে মাজাহ ২৩০ হিজরি মোতাবেক ৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে ২২ বছর বয়সে হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শহরের মুহাদ্দিসদের কাছে গমন করেন।

হাদিস সংগ্রহের জন্য কষ্টকর দেশ ভ্রমণের পর তিনি ১৫ বছরের বেশি সময় ইলমচর্চায় নিমগ্ন থাকেন।

ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) বহুসংখ্যক গ্রন্থ রচনা না করলেও যে তিনটি গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন তা খুবই মূল্যবান, কল্যাণকামী ও সুপ্রসিদ্ধ। সেগুলো হলো—

১. (সুনানু ইবনি মাজাহ) : এটি হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের অন্যতম গ্রন্থ। এ গ্রন্থ সংকলনের মাধ্যমেই তিনি মুসলিম জাতির হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

২. তাফসিরুল কোরআনিল কারিম : হাদিসের ভিত্তিতে রচিত এটি তাঁর একটি মূল্যবান তাফসির গ্রন্থ।

৩. তারিখু মালিহ : কোনো কোনো মনীষী এ গ্রন্থকে তারিখু কামিল বলে উল্লেখ করেছেন। এটি নির্ভরযোগ্য তথ্য ও তত্ত্বে ভরপুর একটি প্রামাণ্য ইতিহাসগ্রন্থ।

ইবনে মাজাহ (রহ.) নির্দিষ্ট কোনো মাজহাবের অনুসারী ছিলেন কি না—এ ব্যাপারে মতভেদ আছে। আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) বলেন, তিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ.) বলেন, তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।

ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে মতভেদ আছে। ইবনে কাসির (রহ.) ও জামালুদ্দিন ইউসুফ আল-মিজ্জি (রহ.) তাঁর মৃত্যু তারিখ, জানাজা ও দাফনকার্য সম্পাদন সম্পর্কে বলেন, ইবনে মাজাহ (রহ.) ২৭৩ হিজরি ২২ রমজান মোতাবেক ২০ নভেম্বর ৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। পরের দিন মঙ্গলবার তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

কেউ কেউ বলেন, তিনি ২৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন সুপ্রসিদ্ধ সুনান গ্রন্থপ্রণেতা, যা তাঁর ইলম, আমল এবং সুন্নতের অনুসরণসহ বিভিন্ন শাখায় অগাধ পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য বহন করে।’

ইমাম যাহাবী বলেন, ‘ইবনে মাজাহ (রহ.) ছিলেন হাদিসের হাফেজ, রাবি (হাদিস বর্ণনাকারী) সমালোচক, সত্যবাদী ও অগাধ জ্ঞানের অধিকারী।’

মহান আল্লাহ তাঁর খেদমত কবুল করুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা