kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

জাকারিয়া (আ.)-এর জীবনে অলৌকিক ঘটনা

মুহাম্মাদ তাহলিল আজিম   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পবিত্র কোরআনে যেসব নবী-রাসুলের বর্ণনা এসেছে জাকারিয়া (আ.) তাঁদের অন্যতম। মহান আল্লাহর এ প্রেরিত পুরুষের জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনাবলিতে বর্ণিল। যার অন্যতম বার্ধক্যে সন্তান লাভ। কোরআনের বর্ণনার আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

অনুগ্রহপ্রাপ্তির আশা : বনি ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান নবী ছিলেন জাকারিয়া (আ.)। ঈসা (আ.)-এর মা মারিয়াম (আ.)-এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ দেখে আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্তির আশা জেগে ওঠে জাকারিয়া (আ.)-এর অন্তরে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এটি আপনার রবের বান্দা জাকারিয়ার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহের বর্ণনা। তিনি গোপনে তাঁর রবকে ডাকেন। তিনি বলেন, হে রব, আমার অস্থি দুর্বল হয়ে পড়ে। বার্ধক্যে আমার মাথা শুভ্রজ্জ্বল হয়েছে। হে আমার প্রতিপালক, আপনাকে ডেকে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি। আমি আশঙ্কা করি আমার পর আমার স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে। আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে উত্তরাধিকারী দান করুন।’ (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ২-৫)

আল্লাহর অলৌকিক অনুগ্রহ :  জাকারিয়া (আ.)-এর স্ত্রী বন্ধ্যা ছিলেন। বয়সও অনেক হয়। কিন্তু তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। তবে আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি তাঁরা হতাশ ছিলেন না। তাই গোপনে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন তিনি। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর জাকারিয়া মহান রবকে ডাকতে শুরু করে, ‘হে আমার রব, আমাকে একাকী ছেড়ে দেবেন না, আপনি সর্বোত্তম উত্তরাধিকারক। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিই, ইয়াহইয়া নামে একজন সন্তান দিই এবং তাঁর স্ত্রীকে উপযুক্ত করে তুলি, তাঁরা কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী ছিলেন, আমাকে তাঁরা আগ্রহ ও ভয়ে ডাকত, আসলেই তাঁরা আমাকে অনুগত ছিল।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৯-৯০)

আল্লাহর কাছে গোপনে দোয়া : জাকারিয়া (আ.) ও তাঁর স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন ছিল আনন্দে ভরপুর। জাকারিয়া (আ.) ছিলেন বনি ইসরায়েল বংশোদ্ভূত। তাঁর স্ত্রীর নাম ইতিহাস বা তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ হয়নি। তবে খতিব আল উমারি তাঁর নাম ‘ইশাআ’ বলে উল্লেখ করেন। আর জাকারিয়া (আ.)-এর স্ত্রী ছিলেন মারিয়ামের মা ও ইমরান (আ.)-এর স্ত্রী হান্নাহর বোন। আল্লাহ তাআলা জাকারিয়া (আ.)-কে একজন সুসন্তান দান করেন। আর জন্মের আগেই সন্তানের নবী হওয়ার সুসংবাদ দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তাঁর (মারিয়াম) রব তাঁকে কবুল করেন এবং উত্তমরূপে গড়ে তোলেন, জাকারিয়া তাঁর তত্ত্বাবধান করেন, যখনই মারিয়ামকে জাকারিয়া দেখতে আসতেন তাঁর কাছে খাদ্যসামগ্রী দেখতেন, তখন তিনি বলতেন, হে মারিয়াম, তোমার কাছে এগুলো কোত্থেকে এলো? মারিয়াম বলতেন, তা আল্লাহর কাছ থেকে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে অগণিত রিজিক দেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৭-৪১)

আল্লাহর পরীক্ষা : আল্লাহ তাআলা জাকারিয়া (আ.)-এর পরিবারের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলেন। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর সন্তানের সুন্দর নাম রাখেন। ইয়াহইয়া (আ.)-এর নামে এর আগে কারো নামও রাখা হয়নি। নবীদের মধ্যে বিরল সম্মাননার পাশাপাশি ইয়াহইয়া (আ.)-এর ওপর অনেক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। দ্বিনের ওপর অবিচল ও কঠিন অবস্থায় ধৈর্যধারণ করে নিজের একনিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হয়। নিজ জাতি বিশ্বাসঘাতকতা করে জাকারিয়া (আ.) ও পরবর্তী সময়ে ইয়াহইয়া (আ.)-কে হত্যা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইয়াহইয়া, আপনি শক্ত করে কিতাব আঁকড়ে ধরুন, আমি তাঁকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান। আমার কাছ থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা। সে ছিল মুত্তাকি, পিতা-মাতার প্রতি অনুগত এবং সে ছিল না উদ্ধত ও অবাধ্য। তার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্ম লাভ করে, যেদিন সে জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবে।’ (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ১২-১৫)

সন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা জাকারিয়া (আ.)-এর প্রতি অনুগ্রহ করলেও তাঁর বংশধারা অব্যাহত ছিল না; বরং ইয়াহইয়া (আ.) পর্যন্ত তাঁর বংশধারা জারি থাকে। বনি ইসরায়েল থেকে ঈসা (আ.) পর্যন্ত নবুয়তের ধারাবিকতা থাকে। এর দীর্ঘকাল পর মহানবী মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত লাভ করেন।

 

মন্তব্য