kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ধর্মতত্ত্ব

অজু-গোসল আত্মার পবিত্রতায় প্রভাব ফেলে

আল্লামা আশরাফ আলী থানভি (রহ.)   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খারাপ চরিত্র ও ভ্রান্তধারণা থেকে পবিত্র থাকার শিক্ষা দেওয়া ইসলামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কেননা ভ্রান্তধারণা ও খারাপ চরিত্র মানুষের আাাত্মাকে এমন কলুষিত করে তোলে, যেমন মানুষের দেহ নাপাক ও নোংরামি দ্বারা অপবিত্র হয়। এ জন্য ইসলাম এসব থেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকার আদেশ দিয়েছে। এই আত্মিক পবিত্রতার মাঝে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে জৈবিক চাহিদা, মনের লোভ ও দাম্ভিকতার অপবিত্রতা থেকে পাকসাফ হয়ে যাওয়া। তেমনি কারো অধিকার নষ্ট না করাও আত্মিক পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত। দেহের পবিত্রতার মাঝেও আত্মিক পবিত্রতার দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। তাই অজু ও গোসলসংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো—

হাতের পবিত্রতা : হাদিস শরিফে পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বা অংশ বলা হয়েছে। তাই মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো, পবিত্রতার মর্ম ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হয়ে তার মান ও মর্যাদা রক্ষা করা। হাত দিয়ে এমন বস্তু ধরা বা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা, যার দ্বারা আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হয়। অন্যায়ভাবে কাউকে প্রহার করা, কারো সম্পদ গোপন করা এবং কাউকে ক্ষতি করার জন্য হাত প্রসারিত না করা। এদিকে ইঙ্গিত করেই এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে, সেই প্রকৃত মুসলমান।’ (বুখারি)

মুখের পবিত্রতা : যখন মুখ পরিষ্কার করার জন্য মুখে পানি ঢালবে তখন হারাম বস্তু পানাহার থেকে এবং হারাম কথা বের করা থেকে মুখকে পবিত্র রাখার প্রতি খেয়াল রাখবে। অবৈধ কথা মুখ থেকে বের করা এবং অবৈধ খানা মুখে নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেন মুখ রুহানি নাপাকি দ্বারা অপবিত্র হয়ে অভিশাপের উপযুক্ত না হয়। মুখ দিয়ে এমন কথা বের করার জন্য প্রস্তুত থাকবে, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সওয়াব লাভ হয় এবং ফেরেশতাদের কাছে প্রশংসিত হয়।

নাকের পবিত্রতা : যখন নাককে পবিত্র করার জন্য নাকে পানি ঢালবে তখন কল্যাণ ও সুগন্ধির জন্য উৎসাহিত হবে এবং নোংরামি ও অনিষ্টের দুর্গন্ধ নিক্ষেপ করবে। নাকের পবিত্রতার ক্ষেত্রে আত্মম্ভরিতা থেকে পবিত্র থাকার চেষ্টা করবে। কেননা আত্মম্ভরিতা এমন জিনিস, যার কারণে মানুষ নিজের বড়ত্ব কামনা করে এবং আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার খেয়াল সৃষ্টি হয়।

চেহারার পবিত্রতা : চেহারা ধৌত করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও কামনা-বাসনাকে দূরে রাখবে এবং এমন কাজ করা থেকে বিরত রাখবে, যেগুলো আল্লাহর উদ্দেশে হয় না। নিজের মুখের ওপর লজ্জার পানি ঢালবে, আল্লাহ তাআলা ও লোকদের সামনে লজ্জার পর্দা সরাবে না।

গর্দানের পবিত্রতা : গর্দান মাসেহ করার সময় আল্লাহ তাআলার সামনে নত হওয়া, তাঁর বিধানের আনুগত্য করা, ইবাদতের হক আদায় করা এবং তাঁর অবাধ্যতার খেয়াল পরিহার করার প্রতি উৎসাহিত হওয়া। যেন এমন বস্তুর আনুগত্যের বেড়ি থেকে নিজের গ্রীবা স্বাধীন হয়ে যায়, যা আল্লাহর দরবারে উপস্থিতির প্রতিবন্ধক।

পিঠের পবিত্রতা : পিঠ ধৌত করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ওপর ভরসা করা এবং কোনো সত্যবাদী ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির দোষচর্চা থেকে বিরত থাকার প্রতি দৃষ্টি রাখা।

বক্ষের পবিত্রতা : বক্ষ ধৌত করার সময় আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাদের ধোঁকা দেওয়ার ইচ্ছা অন্তর থেকে বের করে দেবে।

পেটের পবিত্রতা : পেট ধৌত করার সময় হারাম ও সন্দেহজনক বস্তু পানাহার থেকে পেটকে পবিত্র রাখার প্রতি দৃষ্টি রাখবে।

লজ্জাস্থান ও রানের পবিত্রতা : লজ্জাস্থান ও রান ধৌত করার সময় সব নিষিদ্ধ বিষয়ের জন্য ওঠা-বসা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করবে।

পায়ের পবিত্রতা : পা ধৌত করার সময় লোভ ও প্রবৃত্তির চাহিদার জন্য চলা এবং সৃষ্টজীবের ক্ষতি হয়, এমন বিষয়ের দিকে পা ফেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সংকল্প করবে।

 

আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে থেকে

ভাষান্তর করেছেন মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা