kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হংকং সংকটে যেভাবে সাম্রাজ্য রক্ষা করেন ধনকুবের লি

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকং সংকটে যেভাবে সাম্রাজ্য রক্ষা করেন ধনকুবের লি

সিকে হাটসিজন হোল্ডিংস লিমিটেডের সিনিয়র উপদেষ্টা লি কা-শিং

ছয় হাজার ৫০০ ডলার সঞ্চয় আর কিছু ঋণ নিয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে প্লাস্টিকের ব্যবসা শুরু করেন হংকংয়ের অন্যতম ধনকুবের লি কা-শিং। সেই ব্যবসা এখন বন্দর, টেলিকম, আবাসন, জ্বালানি ও খচুরাসহ আরো অনেক খাতে বিস্তৃত। ২০১৯ সালে এসে তার নেট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২৮.১ বিলিয়ন ডলার, তিনি বিশ্বের ২৮তম ধনী। বর্তমানে তিনি নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান সিকে হাটসিজন হোল্ডিংস লিমিটেডের সিনিয়র উপদেষ্টা।

যে শহরটিকে ঘিরে লির ব্যবসা সেই হংকং কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে, আর এ সংকটের মাঝেই লি কা-শিং রক্ষা করেছেন তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য। কিন্তু কিভাবে? জানা যায়, নিজের সম্পদ শুধু হংকংয়েই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বিনিয়োগ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এর ফলে সহিংসতার কবলে পড়া হংকংয়ের সংকট থেকে নিজের ফ্ল্যাগশিপ কম্পানি বাঁচাতে পেরেছেন লি কা-শিং।

৯১ বছর বয়সী এ অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে সংঘটিত সহিংসতা থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন কম্পানির পুরো ব্যবসা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করলে বড় ঝুঁকি থেকে যাবে। তা বুঝতে পেরে ২৫ বছর আগে তিনি বিনিয়োগ বৈচিত্র্যায়ন শুরু করেন। তিনি কানাডাভিত্তিক হাস্কি ওয়েল কম্পানি কিনে কানাডায় ব্যবসা বাড়ান, এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় টেলিকম ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন। এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর ব্যবসা। গত বছর স্থানীয় বাজার হংকংয়ে তাঁর কম্পানির রাজস্ব এসেছে মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি সিংহভাগ রাজস্বই দেশের বাইরে থেকে আসে।

বর্তমান বিশ্বের ৫০ দেশে তাঁর কম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। কর্মীসংখ্যা তিন লাখ ২০ হাজার। ২০১৫ সালে সিকে অ্যাসেট হোল্ডিংস নামের আরেকটি কম্পানি করে তিনি আবাসন ব্যবসা আলাদা করে ফেলেন। দীর্ঘ মেয়াদে সাফল্যের কারণেই বন্ধুরা তাঁকে ‘সুপারম্যান’ বলে ডাকেন।

২০১৮ সালের মে মাসে লি কা-শিং কম্পানির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে গিয়ে সিনিয়র উপদেষ্টা হন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন সন্তান ভিক্টর। তিনিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাবার পথেই হাঁটছেন। হংকংয়ের এবারের সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছিল তাঁদের আবাসন ব্যবসা। কারণ সিকে অ্যাসেটের ৭৩ শতাংশ রাজস্বই আসে হংকং ও চীন থেকে। ভিক্টর এখন আবাসন ব্যবসাও বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

চীনের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী লি কা-শিংয়ের জন্ম ১৯২৮ সালে। তিনি এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, শীর্ষ বন্দর বিনিয়োগকারী, মানবহিতৈষী হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে। লি কা-শিং ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত ২.৬ বিলিয়ন ডলার দান করেছে, যার ৮০ শতাংশ ব্যয় হয় বৃহত্তর চীনে। লাইভমিন্ট, ফোর্বস ম্যাগাজিন, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা