• ই-পেপার

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলা

শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

রাতের ভোটের ৩২ ডিসিকে অবসরে পাঠাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাতের ভোটের ৩২ ডিসিকে অবসরে পাঠাল সরকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তাঁরা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন।

গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে অবসর দেওয়া হয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার ডিসি মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

এ ছাড়া অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বলে বিবেচনা করায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, তাঁরা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন। এর আগে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩৩ জেলা প্রশাসককে ওএসডি করা হয়েছিল। সে সময় তাঁরা যুগ্ম সচিব হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

উক্তি

উক্তি

গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার দায়িত্ব পালন করে।

জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে আগামী সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে আগামী সপ্তাহে
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

চলমান গ্যাসসংকট আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, গ্যাসসংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প-কারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরকার আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে এই সংকট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে সংকট নিরসন সম্ভব না হলেও আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ দ্রুত বিদেশ থেকে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব যন্ত্রাংশ এয়ার ফ্রেইটে দেশে পৌঁছার পর সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে কাস্টমস ছাড়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা যাচ্ছে না। কারণ এর আগেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। যন্ত্রাংশ খুলে মেরামতের সময় নতুন নতুন কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো বলেন, আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক করা গেলে পরবর্তী সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎসর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার উদ্যোগ, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় সরকার একযোগে কাজ করছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর জন্য নতুন বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে, যার সময়সীমা আগামী নভেম্বরে শেষ হবে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইয়াবা কারবারে আরো সক্রিয় রোহিঙ্গারা

সীমান্তের বিভিন্ন পথে ঢুকছে ইয়াবা

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার
ইয়াবা কারবারে আরো সক্রিয় রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারে ২০টি রুটে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক আনা হচ্ছে। তাতে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে ২৫টি চক্র। মূল পয়েন্ট ২০টি হলেও স্থল ও সাগরপথসহ পুরো সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটার কারবারিরা ব্যবহার করছে ইয়াবার চালান পাচারের কাজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা পাচারে আরো তৎপর হয়েছে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচার, বহন ও সরাসরি কারবারে জড়িত। ক্যাম্পগুলো ইয়াবার একেকটি গুদাম। রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহু সদস্য ইয়াবা কারবারে জড়িত। তদুপরি রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে চক্র গড়ে তুলে এবং স্থানীয় কারবারিদের সঙ্গে যৌথভাবে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মান্নান বলেন, দেশে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মাদক প্রবেশ করে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মাদক কক্সবাজার অঞ্চল দিয়ে দেশে আসে, যার বড় অংশই ইয়াবা। তাঁর দাবি, কক্সবাজার অঞ্চলে ১০০ জন শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন বিদেশে অবস্থান করেও চক্র পরিচালনা করছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেকনাফে দেশে প্রথমবারের মতো ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ২৫২ জন মাদক কারবারির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন হচ্ছেন ইয়াবার সবচেয়ে বড় ডিলার। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ৫০ জনের নাম এর আগে পুলিশের সন্দেহভাজন তালিকায়ও ছিল না। পরে তাঁদের অনেককে ইয়াবা চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জেলা পুলিশের তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, ২৫২ জনের মধ্যে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ৫৩ জন, টেকনাফ পৌরসভার ২১ জন, শাহ পরীর দ্বীপের সাতজন, হ্নীলা ইউনিয়নের ৭৪ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭০ জন এবং অন্যান্য এলাকার ২৭ জন ছিলেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টেকনাফে ৫৭৫ জন ইয়াবা কারবারির তথ্য উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ইয়াবা কারবারের নিয়ন্ত্রণে আবদুর রহমান বদির প্রভাবের কথাও উল্লেখ ছিল।

এদিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের একটি সীমান্ত এলাকা নিয়েও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে কয়েকজন পুরনো কারবারি ইয়াবা পাচারে যুক্ত রয়েছেন। পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়াটি হচ্ছে নাফ নদের পারের সবচেয়ে বড় ইয়াবা পাচারের পয়েন্ট। পয়েন্টটি নিয়ন্ত্রণ করছেন একজন প্রভাবশালী নেতা। সঙ্গে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই সমর্থক। সোনা মিয়া নামের আরেক কারবারি কয়েক শ শ্রমিক নিয়ে নাফ নদের আঞ্জুমান ঘাট দিয়ে ওপারে নিত্যপণ্য পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা পাচারে জড়িত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক পাচারের মামলাসহ সার পাচারেরও মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার পুলিশ এবং বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। টেকনাফ সীমান্তেও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সক্রিয় থাকা কারবারিরা এখনো ইয়াবা পাচারে জড়িত রয়েছেন। সাবেক এমপি বদির ভাগ্নে কিং সালমানও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি স্থানীয় একজন জামায়াত নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছেন। শামশুল আলম নামের একজন কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের ইয়াবা কারবারির হয়ে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনের এমপি এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এসব বিষয়ে বলেছেন, ইয়াবা পাচারের বিষয়টি নিয়ে আমাদের সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। যদি আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মী এই কাজে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া এক কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এক কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়েছে।