• ই-পেপার

অন্য জীবন

খুমীদের পথ দেখালেন যে মা

মিরপুরে গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২ মতিঝিলে বোমা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরে গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২ মতিঝিলে বোমা উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর নাম ইউসুফ আলী। তিনি কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী। এ ঘটনায় আহত দুজন হলেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী নালাম সরদার এবং কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেন। এ ঘটনায় অস্ত্রধারী একজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আহতদের একজনের নাম মো. ইউসুফ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

একই দিন রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো রেলস্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। এ সময় বিস্ফোরণে একজন আহত হন।

কাফরুলের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় সাত-আটজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত এসে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।

কাফরুল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসনুন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে বোমা : মতিঝিলে মেট্রো রেলস্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধারের পর সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বলেছে, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)।

বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহত মিরাজ বলেন, ‘আমার বাসা মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারীর কাজ করি। গত রাতে মতিঝিল মেট্রো রেলস্টেশনের পাশ দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। ওই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে বোমার স্প্লিন্টার আমার বাঁ চোখের নিচে এসে লাগে।’

উক্তি

উক্তি

জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ

চার মাসে বিপিসির লোকসান ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চার মাসে বিপিসির লোকসান ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও দেশের বাজারে তা না বাড়ায় বিপুল অর্থ লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগে চড়া দামে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কিনে দেশে তা কম দামে বিক্রি করায় গত চার মাসেই প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছাড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করে আসছিল সরকার। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে প্রতি লিটার তেলে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, সংকটের ভয়াবহতা ও বিপুল পরিমাণ লোকসানের চিত্র তুলে ধরে গত ২৩ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময়ে জ্বালানি তেলের মোট ৭২টি পার্সেল আমদানি করা হয়েছে। শুধু এই সাড়ে চার মাসের ব্যবধানেই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। সংকট সামাল দিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জরুরি আবেদন জানিয়েছে বিপিসি।

চিঠিতে বিপিসির মারাত্মক তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে আরো বলা হয়, স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে বিপিসিকে সব সময় অন্তত দুই মাসের জ্বালানি তেল আমদানির সমপরিমাণ অর্থ অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন বা সংস্থান হিসেবে হাতে রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে টানা লোকসানের কারণে দেখা দিয়েছে বিপিসির নগদ অর্থের তীব্র সংকট। চিঠিতে আরো বলা হয়, এই মুহূর্তে আর্থিক সহায়তা না পেলে ব্যাংকগুলোতে সময়মতো এলসি (ঋণপত্র) বা আমদানির মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। আর তা না করা গেলে বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে, যা দেশকে চরম জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, দেশের বাজারে সেটির পুরো প্রভাব না ফেলার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই ঘাটতি পূরণ না হলে দেশের পুরো জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

 

আয়কর আইনের ১৪৭ ধারা

এনবিআরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি শীর্ষ ৮ ব্যবসায়ী সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনবিআরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি শীর্ষ ৮ ব্যবসায়ী সংগঠনের

আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আওতায় উেস কর তদারকিতে কর কর্মকর্তাদের যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, কাগজপত্র তলব, জব্দসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী সমাজে উদ্বেগ ও ভীতি তৈরি হয়েছে দাবি করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আটটি ব্যবসায়ী সংগঠন।

গত বুধবার এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক ও হিসাবসংক্রান্ত নথিপত্র সরেজমিনে পরিদর্শন বিষয়ে এনবিআরের গত ১৯ জুলাইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ব্যবসায়ী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই বিজ্ঞপ্তির শেষ অনুচ্ছেদ থেকে প্রতীয়মান হয়, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগ এখনো শুরু হয়নি। ফলে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—কেউই এ ধারার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আগে

থেকে অবগত ছিলেন না।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ১৯ জুলাইয়ের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আকস্মিক উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলেন, করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার পক্ষে ব্যবসায়ী সমাজ সব সময়ই অবস্থান নিয়েছে। তবে আয়কর আদায়ে ভীতির পরিবেশ তৈরি না করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও আয়কর কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ জন্য ব্যবসার পরিধি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, কম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী করপোরেট রেকর্ডের গোপনীয়তা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬ অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনগত অধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান।