অর্থনীতিতে যত বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা থাকবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বেশি বিস্তৃত হবে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতিতে যত বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা থাকবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বেশি বিস্তৃত হবে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, বাণিজ্যমন্ত্রী

গত ১৭ জুন সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর কয়েক ঘণ্টা পর কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলো ছড়ান লিওনেল মেসি। দুই তারকার জ্বলে ওঠার পর সবার চোখ ছিল আরেক মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দিকে। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি পর্তুগিজ তারকা। তাতে সমালোচনার তীরও ছুটে গিয়েছিল তাঁর দিকে। এর সঙ্গে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও মেসি ও এমবাপ্পের জোড়া গোল রোনালদোর ওপর চাপ আরো বাড়িয়ে দেয়। এবার আর হতাশ করেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। গত পরশু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো জানিয়ে দিয়েছেন, তিনিও বিশ্বকাপ মাতাতেই এসেছেন। গ্রুপ পর্বের শুরুতেই একের পর এক মহাতারকা আলো ছড়াচ্ছেন, গোল করছেন, ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের আকাশে এখন যেন একসঙ্গে জ্বলছে তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন মেসি। এবারের আসরে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে বিস্ময়ের গল্পই লিখছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসে অনেকেরই যেখানে ক্যারিয়ারের সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে, সেখানে মেসি যেন নতুন করে আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বকাপের আকাশে। বয়স বাড়লেও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পায়ে মলিন হয়নি জাদুর ঔজ্জ্বল্য। হয়তো গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু খেলার সুর বাঁধা, রক্ষণভাগের ফাঁক খুঁজে নেওয়া আর গোলের সামনে নির্মম নির্ভুলতায় তিনি এখনো অতুলনীয়। মাঠে তাঁর প্রতিটি স্পর্শে জেগে ওঠে গ্যালারি, প্রতিটি পাসে তৈরি হয় সম্ভাবনার নতুন গল্প। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি শুধু গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষেই নেই, আবারও হয়ে উঠেছেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। যেন সময়কে হার মানিয়ে খেলে চলা এক শিল্পী, যাঁর তুলিতে এখনো আঁকা হয় ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর ছবিগুলো।
মেসি যদি উল্কার বেগে ছুটে যান, এমবাপ্পেও যেন বজ্রের গতিতে ছুটতে জানেন। তিনি যেন তারুণ্যের দুর্বার প্রতীক। দুই ম্যাচে চার গোল করে ফরাসি এই তারকা আবারও দেখিয়ে দিচ্ছেন কেন তাঁকে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। তাঁর গতি, বল পায়ে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গোলের সামনে শিকারির মতো তীক্ষতা, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার অসহায় করে তুলছে। মাঠে তিনি চোখের পলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোলের দুয়ারে পৌঁছে যান। প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি দৌড়ে তিনি লিখে চলেছেন অর্জনের সিঁড়ি ভাঙার নতুন গল্প।
আর সেই তারার মিছিলে নতুন করে নিজের নাম লিখিয়েছেন রোনালদো। অনেকেই ভেবেছিল, ৪১ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের আলো হয়তো ধীরে ধীরে সরে যাবে তাঁর কাছ থেকে; কিন্তু রোনালদো যেন বারবার প্রমাণ করেন, কিছু মানুষ বয়সের হিসাব মেনে চলেন না বরং বয়সই তাঁদের আরো উজ্জ্বল করে তোলে। রোনালদোর পথটা এবার ছিল আলাদা। মেসি ও এমবাপ্পে যখন গোলের বন্যায় শিরোনাম হচ্ছেন, রোনালদো তখন ছিলেন নিজেকে প্রমাণের লড়াইয়ে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের হতাশা ঝেড়ে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে করলেন জোড়া গোল, নাম লেখালেন টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ডে। মহাতারকারা তো এভাবেই ফিরে আসেন! বিশ্বকাপের সৌন্দর্যও হয়তো এখানেই।
পিছিয়ে নেই এই প্রজন্মের অন্য তারকারাও। দুই ম্যাচে চার গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন ‘গোল মেশিন’ খ্যাত আর্লিং হালান্ড। দুই গোল করে আলো ছড়িয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। তারকারা পারফরম করছেন, আর বিশ্বকাপ হয়ে উঠছে আরো উপভোগ্য।
একদিকে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি ও রোনালদো, অন্যদিকে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এমবাপ্পে। যেন ফুটবলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একই মঞ্চে মিলিত হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। সবে চলছে গ্রুপ পর্বের লড়াই। সামনে নক আউট পর্ব, আরো বড় পরীক্ষা, আরো কঠিন প্রতিপক্ষ। তারকাদের পায়ে হয়তো দেখা যাবে আরো গোলের ফোয়ারা। তাই বলাই যায়, তারকাদের আলোয় ভাসছে এবারের বিশ্বকাপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে গতকাল বুধবার রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (১৩৭ কোটি টাকা) এ চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মন্ত্রী এ সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চুক্তিটি মায়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩১৬২ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ। ২০১৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া এই আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় এ নিয়ে মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। অস্ট্রেলিয়া প্রদত্ত ১৬ মিলিয়ন ডলারের এ তহবিল ইউনিসেফ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে ব্যয় করবে।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সরকার ‘চব্বিশের চেতনাকে’ ভুলিয়ে দেওয়ার এক আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে পরে সেই গণভোটের রায়কে পদদলিত করে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা শুরু করেছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশ ইন ইস্যুসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামায়াতে ইসলামী ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে আসছে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল বাণিজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ও দুর্নীতি চলছে অবাধে। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মাত্র সাড়ে তিন মাসে শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে সংকটে পড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন সরকার ব্যাংকটিকে আবারও ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে আরো বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নগ্ন দলীয়করণ করছে। এমনকি নবগঠিত জাতীয় সংসদেও চরম বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জ জাতির সামনে দৃশ্যমান। পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের দোসররা দেশ-বিদেশ থেকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই সবাইকে ধৈর্য, সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।