• ই-পেপার

পালংখালী সীমান্তে বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি

উক্তি

উক্তি

চল্লিশ বছর আগে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকের তথ্য-প্রযুক্তির যুগে দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা একেবারেই অসম্ভব নয়।

ড. খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদ্যোবিজয়ী সভাপতি

নেইমারকে নিয়েও ফেভারিট নয় ব্রাজিল!

মামুন উর রশীদ
নেইমারকে নিয়েও ফেভারিট নয় ব্রাজিল!
নেইমার

কী হচ্ছে সর্বাধিক পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের সঙ্গে! গত তিনটি বিশ্বকাপে তারা দেখেছিল হেক্সা মিশন সফল করার স্বপ্ন। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুনিয়া-কাঁপানো সুপারস্টার নেইমার, যাঁর চেষ্টা ছিল দেশকে সাম্বা নৃত্যের ঢেউয়ে আন্দোলিত করার। এবার সেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আছেন ঠিকই, তবে চোটের কারণে নিজের শতভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারবেন কি না সেই সংশয় থাকছেই। তাছাড়া এখন তিনি আগের মতো দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতিশব্দও নন। দল হিসেবেও এবারের বৈশ্বিক মঞ্চে অন্য হট ফেভারিট ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনাসহ আরো কয়েকটি দলের চেয়ে পিছিয়ে ব্রাজিল। সে কারণে অনেকে সন্দিহান ১৪ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে আদৌ নেইমাররা জিতে শুরু করতে পারবেন কি না! তবে আশ্বাস দিয়েছে রিও ডি জেনেইরোর হাঙর রিতিনিয়া, ভবিষ্যদ্বাণী করেছেউত্তর আফ্রিকার অ্যাটলাস লায়ন্সের বিপক্ষে জয় দিয়েই শুভ সূচনা করবে ব্রাজিল।

নেইমারকে নিয়েও ফেভারিট নয় ব্রাজিল!আলোচিত হাঙরটির এমন বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণও আছে, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা বিমানে ওঠার আগেই উড়েছেন মারাকানায় প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে। এরপর একেবারে গা ঝাড়া দিয়ে পরিশুদ্ধভাবে রওনা হয়েছেন, কারণ তাঁদের বহনকারী আকাশযানটিকে দেওয়া হয়েছে শুভকামনা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার স্যালুট। গ্যালিয়াও বিমানবন্দর থেকে রওনার আগে জলকামানের পানিতে গোসল করানো বিমানটি নিউজার্সির নিওয়ার্ক বিমানবন্দরে নামার পরও পেয়েছে এই অভ্যর্থনা। এখন একেবারে নতুন করে শুরুর পালা ব্রাজিলের।  ১৯৭০ সালে পেলের হাত ধরে মেক্সিকোয় আর ১৯৯৪ সালে রোনালদো নাজারিও-দুঙ্গার ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা জিতেছে তারা। তাই এ অঞ্চল তাদের জন্য পয়মন্তই বলা যায়, যদিও ১৯৮৬ সালে আরেকবার মেক্সিকান ভূমিতে সঙ্গী হয়েছে হতাশা। এই যুক্তরাষ্ট্রেই কি এবার ব্যর্থতার বেড়াজাল কেটে বেরিয়ে আসতে পারবেন নেইমাররা? ফেভারিটের আলোচনায় না থাকলেও দলের ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো এটিকে সুবিধাজনকই মনে করছেন, হয়তো এবার আমরা এক ধাপ পিছিয়ে আছি, তবে আমরা পুরোপুরি সতর্ক ও প্রস্তুত আছি এবং এটি সব সময়ই একটি ইতিবাচক দিক। আমরা সবচেয়ে বড় ফেভারিট নই। অবশ্যই আমরা ভালো ফর্মে আছি, অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণে আমাদের একটি শক্তিশালী স্কোয়াডও রয়েছে।

রিতিনিয়া অবশ্য নেইমারদের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে পরীক্ষা দেয়নি এখন পর্যন্ত। এ কারণে শিরোপা জয়ের বিষয়টি ধাপে ধাপেই জানা যাবে। সর্বশেষ শিরোপাটি ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপে জিতেছে ব্রাজিল। এরপর গত ২৪ বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ পেরিয়েছে, একবারও ফাইনালেই পা রাখতে পারেনি সফলতম দলটি। এর মধ্যে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং একবার সেমিফাইনালে উঠতে পারা সেলেসাওদের শিরোপা খরা ঘোচার অপেক্ষায় থাকা কিংবদন্তি পেলেরও হয়েছে জীবনাবসান। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২ বিশ্বকাপের সব আসরেই খেলা একমাত্র দল ব্রাজিল সফলতম। সবচেয়ে বেশি ১১৪ ম্যাচ খেলে সর্বাধিক ৭৬ জয়, সবচেয়ে বেশি ২৩৭ গোল দেওয়া, টানা ১১ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ডগুলো তাদের দখলে। এই পরিসংখ্যানের কারণেই সবচেয়ে বেশিবার (৫) বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছে তারা।

এখন নিউজার্সির বাস্কিং রিজ এলাকায় অবস্থিত দ্য রিজ হোটেলে অবস্থান করে মূল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেবেন কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যরা। এখান থেকে তাঁদের অনুশীলন ভেন্যু মরিসটাউনে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মালিকানাধীন কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার মাত্র ১৫ মিনিট দূরে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে খেলা নেইমার তাঁর সেরা অবস্থানে নেই। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচ খেলে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করা এই তারকাই তবু দলের প্রাণ। তবে দলগতভাবেই এবার বিশ্ব জয়ের মিশনে ঐক্যবদ্ধ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগর থিয়াগো, দানিলো, লুকাস পাকেতা ও আলিসন বেকারদের মতো আলোচিত তারকারা। সি গ্রুপে ট্রফির দিকে তাদের মিশনের শুরু মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

 

৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার এক দিনের মাথায় প্রান্তিক গ্রাহক ও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে লাইফলাইন গ্রাহকদের (৫০ ইউনিট পর্যন্ত) বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট চার টাকা ৬৩ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য আগের নির্ধারিত পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা হারই বহাল থাকছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিইআরসি। এর আগে বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চার টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ টাকা ৩২ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ছয় টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গতকাল সকালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিইআরসির কাছে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। বিপিডিবির আবেদনে বলা হয়, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। সে বিবেচনায় লাইফলাইন ও স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাইফলাইন সুবিধা মূলত হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা হয়েছে। সাধারণত একটি ৩০ ওয়াটের বাতি ও একটি ফ্যান প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করলে গ্রাহকরা এই শ্রেণির আওতায় থাকেন। তবে একাধিক ফ্যান ব্যবহার বা দীর্ঘ সময় ফ্যান চালালে লাইফলাইনের সীমা অতিক্রম হয়ে যায়। তখন গ্রাহকদের উচ্চতর ধাপের বিল পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পৃথক ছয়টি ধাপ রয়েছে, যেখানে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য তুলনামূলক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে ৮৭ শতাংশ গ্রাহক। এ ছাড়া বিপিডিবির ৪.৫ শতাংশ, নেসকোর ৪ শতাংশ এবং ওজোপাডিকোর ৩ শতাংশ গ্রাহক লাইফলাইন সুবিধা পাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোতে এ ধরনের গ্রাহকের হার যথাক্রমে ১ শতাংশ ও দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারগুলোই মূলত এ সুবিধার প্রধান উপভোক্তা।

এদিকে বুধবার পাইকারি ও খুচরাউভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। নতুন ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত মূল্যহার চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

জামায়াত আমির

প্রবাসীদের ত্যাগে নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসীদের ত্যাগে নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী
শফিকুর রহমান

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ত্যাগ, কষ্ট ও দেশের অর্থনীতিতে অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যে দেশের মানুষের আত্মত্যাগ এত গভীর, সেই দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও নতুন দিনের সূচনা অবশ্যম্ভাবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, কিছু মানুষের জীবনের গল্প কোনো দিন কোনো উপন্যাসে লেখা হয় না। দেশের প্রবাসীরা এমনই একদল মানুষ, যাঁদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, অথচ তাঁদের নিজেদের জীবন কাটে সীমাহীন ত্যাগের আড়ালে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসজীবনে অসুস্থতা, একাকিত্ব ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট অনেক সময় কাউকে জানানো যায় না। পরদেশের ছোট্ট একটি কক্ষে জ্বরে আক্রান্ত হলেও মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো কেউ থাকে না। সেই কষ্ট আড়াল করেই দেশের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর উৎসব-অনুষ্ঠান এলেও অনেক প্রবাসীকে দূর থেকে ভিডিও কলে পরিবারের আনন্দ-উদযাপন দেখতে হয়। সন্তানের বেড়ে ওঠা কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তাঁদের চোখের সামনে ঘটে না। এমনকি অনেকেই বাবা-মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন।

তিনি আরো বলেন, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও নানা অবহেলা সহ্য করে প্রবাসীরা অন্যের দেশকে সমৃদ্ধ করেন; কিন্তু নিজেদের জন্য সামান্য স্বস্তিও অনেক সময় সঞ্চয় করতে পারেন না।

প্রবাসীদের নীরব ত্যাগের সহযাত্রী হয়ে সবাইকে হাতে হাত রেখে মমতা ও ঐক্যের মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।