• ই-পেপার

সান মারিনোতে হামজাদের অনুশীলন

ইউরোপের কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ

  • ওরা ইউরোপের একটা দল, এটাই বড় কথা। এখানে র‌্যাংকিং কোনো ব্যাপারই না। আমাদের কঠিন একটা ম্যাচের জন্য তৈরি থাকতে হবে। সুজন হোসেন, গোলরক্ষক, বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে রুখে দিল ইরাক

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে রুখে দিল ইরাক
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেল না স্পেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ইরাকের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। 

স্পেনের মাঠ এস্তাদিও আবাঙ্কা-রিয়াসোরে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটেই অ্যালেক্স বায়েনার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ইরাক গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল।

আরো পড়ুন
তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

 

তবে ১৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। দানি ওলমোর পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে গোল করেন ফেরান তোরেস। তার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই ছিল, কিন্তু ২৭তম মিনিটে হঠাৎই সমতায় ফেরে ইরাক। বাম দিক থেকে দূরপাল্লার এক চমৎকার লব শটে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন মেরচাস দোস্কি।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। তোরেসের একটি দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর দানি ওলমোর আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন বাসিল।

আরো পড়ুন
ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের

ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের

 

দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তনের কারণে ম্যাচের ছন্দ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। হেসুস রদ্রিগেস, গঞ্জালো গার্সিয়া ও ইয়েরেমি পিনো সুযোগ পেলেও জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি স্পেনের।

বিশ্বকাপের আগে এই ড্র স্পেনের জন্য কিছুটা হতাশার হলেও টানা ২৯ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।

অন্যদিকে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে থাকা ইরাক এই ফল থেকে আত্মবিশ্বাস পাবে। শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের আগে বড় বার্তাই দিল তারা।

তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল

ক্রীড়া ডেস্ক
তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে আফগান নারী দল
সংগৃহীত ছবি

এক সময় তালেবান শাসনের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। ফুটবল মাঠ তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপনও হয়ে উঠেছিল কঠিন। তবে হার মানেননি আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা। দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংগ্রাম, অপেক্ষা এবং অদম্য সাহসের পর আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের সব ধরনের খেলাধুলা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিপীড়নের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে ছিলেন গোলরক্ষক ফাতিমা ইউসুফি ও মিডফিল্ডার মোনা আমিনিও।

ফাতিমা মাত্র একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন। সঙ্গে ছিল শুধু একটি স্বপ্ন। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলবেন।

ফাতিমা, মোনাদের আফগান নারী দলের ১৩ জন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় বসতি গড়েন। এরপর গত পাঁচ বছর তারা অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, অপেক্ষা করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগের।

অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে সেই সুখবর আসে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আফগান নারী দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেয়।

বর্তমানে আফগান উইমেন ইউনাইটেড কর্মসূচির ২৩ সদস্য নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রয়েছেন। সেখানে তারা কুক দ্বীপপুঞ্জের একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবেন।

মোনা আমিনি বলেন, ‘যেদিন শুনলাম আমরা আবার আফগানিস্তানের পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে পারব, সেটি ছিল বিশেষ একটি দিন। গত চার-পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল এটি।’

ফাতিমা ইউসুফিও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আসার সময় আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। পরিবার, শৈশবের স্মৃতি এবং জাতীয় দল। আবার জাতীয় দল হিসেবে খেলতে পারব, এর চেয়ে বড় সুখের খবর আর হতে পারে না।’

আফগান নারী দলের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল ২০১৮ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। তবে গত বছর ‘ইউনাইট’ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে লিবিয়ার বিপক্ষে জয় পায় দলটি। তিন বছর পর জাতীয় সঙ্গীত শোনার সেই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন খেলোয়াড়রা।

আফগানিস্তানে থাকা নারী ও কিশোরীদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও অনুভব করেন তারা। মোনা বলেন, ‘আমরা তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ভবিষ্যতের আফগান নারী জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই।’

ফাতিমার বিশ্বাস, তাদের দল এক দিন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই মেয়েরাও সমাজের অংশ, তারা শিক্ষা ও খেলাধুলার অধিকার রাখে।’

ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে হারিয়ে চমক আইভরি কোস্টের
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না ফ্রান্সের জন্য। নঁতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে এগিয়ে থেকেও আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখিয়েছিল ফ্রান্স। শুরুতেই কিলিয়ান এমবাপ্পের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা। পরে মার্কাস থুরাম ও আদ্রিয়েন রাবিওত সুযোগ পেলেও ব্যবধান গড়তে পারেননি।

আরো পড়ুন
আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা

আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা

 

বিরতির ঠিক আগে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ফরাসিরা। প্রথম শট প্রতিহত হওয়ার পর বল ফিরে পেয়ে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় জাল খুঁজে নেন রায়ান চেরকি। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩তম মিনিটে নিকোলাস পেপের দারুণ থ্রু পাস থেকে একক প্রচেষ্টায় গোল করে সমতা ফেরান গুয়েলা দুয়ে।

আরো পড়ুন
নতুন কোচ পেল লিভারপুল

নতুন কোচ পেল লিভারপুল

 

এরপর দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৮৪তম মিনিটে। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে আইভরি কোস্টকে এগিয়ে দেন আমাদ দিয়ালো।

শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। ফলে বিশ্বকাপের আগে বড় এক চমক উপহার দেয় আফ্রিকার দলটি।

আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা

গোয়া থেকে প্রতিনিধি
আরো আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন ঋতুপর্ণা-আনিকারা
ছবি : মীর ফরিদ

আগের দিন দুই দলই ফাইনাল নিশ্চিত করায় গতকাল গোয়ার প্লানেট হলিউড বিচ রিসোর্টেই সময় পার করেছেন ভারত ও বাংলাদেশের ফুটবলাররা। দুপুরের খাবারের পরপরই আইস বাথ নিয়ে হালকা রিকভারি করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা-আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীরা। একই সময়ে দেখা গেল, ভারতের কয়েকজনকে হোটেলের লবিতে পুল ও টেবিল টেনিস খেলতে। পুরোটা দিনই দুই দলের ফুটবলাররা হোটেলে কাটিয়েছেন।

শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুশোক ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছেন মেয়েরা। সঙ্গে নেপালকে হারিয়ে যে বিশ্বাস ফিরেছে মেয়েদের মধ্যে সেটা আরো বাড়ছে দাবি সহকারী কোচ আবুল হোসেনের, ‘মেয়েরা এখন আরো উজ্জীবিত। গতকালকের ম্যাচের পর সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখতে পাচ্ছি। এটা ধরে রাখতে পারলে আশা করি ভারতকে হারাতে পারব।’

ভারতের বিপক্ষে লড়াই সব সময় চ্যালেঞ্জিং হয়। আবুল হোসেনের মতে দুই দলের সামনেই ফিফটি-ফিফটি সুযোগ আছে, ‘ফাইনাল ম্যাচ যে কেউ জিততে পারে। কারণ এটা ফিফটি-ফিফটি ম্যাচ। দুই দলই ভালো। আগেভাগে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।’

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় গোয়ায় পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে হবে শিরোপা লড়াই।