kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

কারাগারে লেখকের মৃত্যুর বিচার দাবি

ক্ষোভ-বিক্ষোভ সারা দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা-গাজীপুর   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



কারাগারে লেখকের মৃত্যুর বিচার দাবি

মুশতাক আহমেদ (ফাইল ফটো)

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মুক্তচিন্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের কণ্ঠ রোধ করার জন্যই এ আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মুশতাকের লাশের ময়নাতদন্ত গতকাল শুক্রবার দুপুরে সম্পন্ন হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। গত রাত পৌনে ১০টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর কারণ জানতে ‘প্রয়োজনে’ তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, কী কারণে কারাগারে মুশতাকের মৃত্যু হলো তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লেখক মুশতাকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. অসিউজ্জামান চৌধুরী লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মুশতাকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেট অসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের সহায়তায় লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।’ তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, সুরতহালের আগে তাঁরা মুশতাকের মরদেহ দেখেছেন। পিঠে ‘ঘা’ হয়েছে এমন দাগ দেখা গেছে। ডান হাতে হালকা লালচে কালো ছোট দাগ দেখা গেছে। বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ বায়েজীদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘পিঠের ঘা’-এর দাগ অনেক আগে হয়ে শুকিয়ে গেছে। ডান হাতে হালকা লালচে কালো যে দাগ দেখা গেছে তা ছোট। হাসপাতালে আনার সময় বা গাড়িতে ওঠানোর সময় ওই দাগ হয়ে থাকতে পারে।’

লেখকের বড় ভাই নাফিসুর রহমান বলেন, ‘ছয়বার চাওয়ার পরও আমার ভাইকে জামিন দেয়নি সরকার। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা কোনো মামলাও করব না।’

মুশতাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একই মামলার আসামি প্রকৌশলী দিদারুল ভূঁইয়া বন্ধুর লাশ দেখে মর্গের সামনে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘ওই মামলার আমি ৩ ও মুশতাক ২ নম্বর আসামি ছিল। এভাবে তাঁর লাশ দেখতে হবে ভাবতে পারিনি। এই দেশে কেউ স্বাধীন না। তাই আর বেশি কথা বলতে চাই না। মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্ত কমিটিতে পরিবারের সদস্য অথবা আমাদের রাখার দাবি করছি।’

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. শাফী মোহাইমেন জানান, মৃত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের সময় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এর পরও ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হলে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশ গ্রহণ করেন মুশতাকের চাচাতো ভাই ডা. নাফিসুর রহমানসহ অন্য স্বজনরা। আসরের নামাজের পর লালমাটিয়ার মিনা মসজিদের সামনে জানাজা শেষে রাত পৌনে ১০টা দিকে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে। দাফনের সময় স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। মুশতাকের স্ত্রী লিপি আক্তার কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে মারা যান ৫৩ বছর বয়সী মুশতাক আহমেদ। ভেতরে হঠাৎ সংজ্ঞা হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আরো ভালো চিকিৎসার জন্য তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে গত বছরের ৬ মে র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ‘সরকারবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ভূঁইয়া এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে এ দুজন জামিনে মুক্তি পান। মুশতাক ও কিশোরের পক্ষে বেশ কয়েকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর হয়।

শাহবাগে গায়েবানা জানাজা, মশাল মিছিল : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আটক থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পরীবাগ ঘুরে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন সংগঠনগুলোর শতাধিক নেতাকর্মী। বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের কারণে শাহবাগ মোড়ের চারপাশের রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৪টায় মুশতাকের গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে এ জানাজায় ইমামতি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন। জানাজায় অন্যদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম, সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান অংশ নেন।

সমাবেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও একদিন এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মারপ্যাঁচে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে আটক হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেন। এই আইন বাতিল করুন। না হয় আপনাকেও (প্রধানমন্ত্রী) একদিন এই আইনের মারপ্যাঁচে পড়তে হবে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা অবশ্যই কুখ্যাত একটি আইন। আজকে শুধু ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনকে দায়ী করলে হবে না। এই আইন যারা প্রণয়ন করছে তারাও দায়ী।’ নুরুল হক নুর বলেন, ‘ডিজিটাল আইনে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন এ দেশের সাংবাদিক এবং লেখকরা। ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে।’

লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার চেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ থানার সামনে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মুক্তচিন্তকদের কণ্ঠরোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে

ভিন্নমত প্রকাশের কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার, জামিন না পাওয়া এবং বন্দি অবস্থায় কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। এ মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা। তাঁরা বলেছেন, মুক্তচিন্তা দমন ও গণমাধ্যমকর্মীদের কণ্ঠ রোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ যারা দেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মুক্তচিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দির মৃত্যু রাষ্ট্রব্যবস্থার অসারতার প্রমাণ। তথ্য-প্রযুক্তি আইন ব্যক্তি অথবা সমষ্টির মত প্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়। মুশতাকের মৃত্যু শোকের অধিক ভয়ংকর এক ঘটনা। এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। শুরু থেকে এই আইসিটি আইনের বিরোধিতা করে আসছি। এখনো বলছি, এই মুহূর্তে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী আইসিটি আইনের বিলুপ্তি চাই।’

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জেলখানার মধ্যে যেকোনো হত্যা উচ্চপর্যায়ে তদন্ত দরকার। রাষ্ট্রের স্বচ্ছতার জন্য এটা দরকার। আমি জেলে ছিলাম। আমি জানি জেলের ভিতর কী হয়। শারীরিক-মানসিক অত্যাচার, বহু রকমের ঘটনা ঘটে। এটা কারগার কিংবা স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে হবে না, এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে। কারাগারকে আমরা বলি সেইফেস্ট কাস্টডি। সেখানে কেউ থাকা মানে রাষ্ট্রের নিরাপদ হেফাজতে থাকা। আদালত বিচার করবে, সে অপরাধী হলে শাস্তি পাবে। কারাগারে নির্যাতন কিংবা মৃত্যু কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারি না। মুশতাক আহমেদের কোনো লেখা আমি এখনো পড়িনি। তাতে কিছু যায় আসে না। সরকার অভিযোগ করেছে, আদালত বিচার করবে সে অপরাধী কি না। এর আগে কাউকে অপরাধী বলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। যারা সরকারের সমালোচনা করছে, মুক্তচিন্তকদের এই আইনে গ্রেপ্তার করে জেলে রাখা হচ্ছে। কিছু মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এমনকি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিষোদগার করছে। বিদ্বেষ-উন্মাদনা ছড়াচ্ছে সমাজের মধ্যে। আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি তখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে রীতিমতো সাইবার জিহাদ ঘোষণা করেছে একটি দুর্বৃত্তচক্র। ধর্মের নামে ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মুক্তচিন্তার মানুষদের নাস্তিক হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটা কোনো অবস্থায় চলতে পারে না।’

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সুচিকিৎসাটা নিশ্চিত করা দরকার ছিল। যাঁরা কারাগারে থাকেন তাঁদের প্রতি খুবই যত্ন নিতে হয়। বিচার হলে বলা যাবে অপরাধী কি না, তার আগে তো বলা যাবে না। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে আটকের ঘটনাও দুঃখজনক। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকে না। মত প্রকাশ করলেই যে দেশে গণ্ডগোল লেগে যাবে তা তো না।’

কবি আলফ্রেড খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, “জামিনযোগ্য-জামিন অযোগ্য অপরাধের তুল্যমূল্য কি সর্বদা সঠিক নিক্তিতে নিরূপণ করা হয়? একজন লেখক হন বা সাধারণ জনতাই হন, বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে তাঁর কারাগারে মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। এটা অত্যন্ত বেদনার। সঠিক তদন্ত হলে হয়তো সত্য জানা যায়। কিন্তু কবির আফসোসের মতো যদি হয়, ‘দ্বার বন্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি/সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?”

মুশতাকের মৃত্যু ঘটনায় হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জাসদ) বিভিন্ন সংগঠন।

 

মন্তব্য