বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক, তারা যে ধর্মেরই হোক না কেন, তাদের কোনো আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু যারা বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে বের করা হয়েছে। ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরো প্রায় এক হাজার ৮০০ জনকে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের ওপারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। বাংলার নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি, বরং বিএসএফের বিরুদ্ধে প্রচার করা হয়েছে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ হবে। সংখ্যালঘু উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়নের বদলে আগের সরকার ভোটের রাজনীতি করেছে।
ডা. জাহেদকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল : ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশির পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় ফেরেন বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। গতকাল ওই ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ১৪ জুন একটি সাধারণ পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’-এর সিনিয়র কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে আসেন। নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বহুপক্ষীয় ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেন। তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতবিরোধী কিছু মন্তব্যের জেরে জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের একটি ইমিগ্রেশন ওয়াচলিস্ট বা ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়ায় ইমিগ্রেশন সিস্টেমে অ্যালার্ট দেখায় এবং তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এই ঘটনার পর ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাধেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে প্রতিবাদ জানানো হয়। সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ




