kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ আছে]

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশেষ ঘটনা। সাধারণভাবে গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে এই উষ্ণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিনহাউস হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্যাস। এই গ্যাস হ্রস্বতরঙ্গের সৌর রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয় না; কিন্তু দীর্ঘতরঙ্গের অবলোহিত বিকিরণ পৃথিবী থেকে বহির্বিশ্বমণ্ডলে যেতে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে পৃথিবীপৃষ্ঠ উষ্ণ হয়ে ওঠে।

গত ১০০ বছরে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৬০০ সে.। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর উষ্ণতা ২.৫০ সে. এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ৩.৮০ সে. বেড়ে যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। এ ছাড়া গত ২০০০০ বছরের তুলনায় শেষ শতকে পৃথিবীর উষ্ণতা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮৬১ সাল থেকে হিসাব করলে বিশ্বের উষ্ণতম দশক হচ্ছে ১৯৯০-এর দশক। নাসার গোদার্দ ইনস্টিটিউট ফর স্পেন স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম বছর। কিন্তু ওয়ার্ল্ড মিটিয়েরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট ও ক্লাইমেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, উষ্ণতম বছর হলো ১৯৯৮ সাল এবং দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হলো ২০০৫ সাল।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশৈলসহ সুমেরু-কুমেরুতে জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করেছে। ১৯৭০ সালের পর উত্তর মহাসাগরের বরফের স্তর প্রায় ২৭% হ্রাস পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার ফলে বিষুবীয় ও মেরু অঞ্চলের জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রের পানিস্তর ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে। এর ফলে পৃথিবীর উপকূলবর্তী এলাকার একটি বিরাট অংশ সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীতে সঞ্চিত সমস্ত বরফ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানিতলের উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার বেড়ে যাবে। তাই পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে, মোটরচালিত গাড়ি, কারখানার ধোঁয়া ও সিএফসি নির্গত হয় এমন যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমাতে হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা