kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যাকরণ চর্চা । সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ

শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা), আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



[অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘স্নায়ুুকোষ বা নিউরন’ সম্পর্কে আলোচনা আছে]

[বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ পাঠ্য হিসেবে রয়েছে। আজ এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।]

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো শব্দ আছে, যাদের উচ্চারণ এক অথবা প্রায় একই, কিন্তু বানান ও অর্থ ভিন্ন। লিখিত রূপ ছাড়া মৌখিক উচ্চারণে এসব শব্দের অর্থ-পার্থক্য নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য। যেমন : ‘অন্ন’ ও ‘অন্য’। ‘অন্ন’ শব্দটির অর্থ হলো ‘ভাত’ আর ‘অন্য’ শব্দটির অর্থ হলো ‘অপর’। এ ধরনের শব্দগুলোকে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলে। ভাবের যথাযথ অর্থের দিকে দৃষ্টি রেখে সমোচ্চারিত শব্দের প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা আবশ্যক। কারণ এ ধরনের শব্দের উচ্চারণ এক হলেও বানানে রয়েছে ভিন্নতা এবং প্রতিটি শব্দের মূলও পৃথক। এ জন্য শব্দগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে অর্থ-পার্থক্য ঘটে।

নিচে কিছু সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের উদাহরণ ও প্রয়োগ দেখানো হলো :

 

অবিরাম (অনবরত)—বর্ষার বৃষ্টিধারা অবিরাম ঝরছে।

অভিরাম (সুন্দর)—বর্ষার অভিরাম দৃশ্যে মন ভরে যায়।

অংশ  (ভাগ)—এ জমিতে তারও অংশ রয়েছে।

অংস (কাঁধ)—অংসে বোঝা নিয়ে লোকজন হাটে যাচ্ছে।

 

অশ্ব  (ঘোড়া)—আরবীয় অশ্ব পৃথিবীশ্রেষ্ঠ।

অশ্ম (পাথর)—বাড়িটি মূল্যবান অশ্ম দিয়ে তৈরি।

 

আপণ (দোকান)—শহরের আপণগুলো বেশ সজ্জিত।

আপন (নিজ)—আপন পাঠে মন দাও।

 

কুজন (খারাপ ব্যক্তি)—কুজনের সংসর্গ পরিত্যাজ্য।

কূজন (পাখির ডাক)—পাখির কূজনে তাদের ঘুম ভাঙল।

 

কমল (পদ্ম)—ঝিলের জলে কমল ফুটে আছে।

কোমল (নরম)—তার মনটা খুব কোমল।

 

কুল (বংশ)—মেয়েটির মাতৃকুল খুবই সম্ভ্রান্ত।

কূল (নদীর তীর)—পদ্মার কূলেই তাদের গ্রাম।

 

গাঁ (গ্রাম)—ওই দেখা যায় তালগাছ ওই আমাদের গাঁ।

গা (শরীর)—মেয়েটির গায়ে লাল জামা বেশ মানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা