kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

কীটনাশক

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে কীটনাশকের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কীটনাশক

কীটনাশক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ। এটি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এর প্রয়োগে পোকা-মাকড়ের ডিম, লার্ভাও বিনাশ ঘটে। এটি অজৈব বা জৈব পদার্থ হয়ে থাকে এবং খাদ্যবিষ, স্পর্শবিষ ও ধোয়া বিষ—এই তিনটি সাধারণ শ্রেণিতে বিভক্ত।

উনিশ শতকের ষাটের দশকে আমেরিকার মিসিসিপিতে আলুক্ষেত কলোরাডো আলু-বিটল দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রথম কীটনাশকের সাধারণ ব্যবহার শুরু হয়। এরপর প্যারিস গ্রিন নামে আর্সেনিকঘটিত আরেক ধরনের কীটনাশক চাষিরা আপেলের ক্ষতিকর মথ ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করে। ১৯০০ সালের মধ্যেই এই কীটনাশক খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ইউরোপ ও আমেরিকার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম কীটনাশক আবিষ্কারের বিপ্লবকাল হিসেবে ধরা হয় বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়গুলোকে।

ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশে ১৯৫৬ সালের পূর্বে তেমন উল্লেখযোগ্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। সেই বছরই প্রথম সরকার কীটনাশক আমদানি করে। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সরকার বিনা মূল্যে কৃষকদের মধ্যে ১০০ শতাংশ ভর্তুকিসহ কীটনাশক বিতরণ করে। ১৯৭৪ সালে এ ভর্তুকি ৫০ শতাংশ কমিয়ে এবং ১৯৭৯ সালে ভর্তুকি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে কীটনাশক ব্যবসা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করে।

বর্তমানে কীটনাশক প্রায় ১৫০টি ট্রেডমার্ক-সংবলিত নামে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত আছে। এই কীটনাশকগুলো দানাদার, তরল, গুঁড়া বা অ্যারোসল আকারে বাজারজাত করা হয়।

কীটনাশক উপকারের পাশাপাশি আমাদের ও প্রকৃতির কিছু ক্ষতিও সাধন করে থাকে। শাকসবজির সঙ্গে কীটনাশক মেশানো খাবার খেয়ে অনেক সময় আমাদের পেটের পীড়া, বমি বমি ভাবসহ নানা রকম অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের কীটনাশক পরবর্তী সময়ে জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কিছু কিছু কীটনাশক খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রভাব বিস্তার করছে। তাই মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহার না করাই উত্তম।                                

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা