বিজ্ঞান
প্রথম অধ্যায়
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
১। অনুজীব কারা?
উত্তর : যেসব জীবকে খালি চোখে দেখা যায় না এবং যাদের নির্দিষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত সুগঠিত কোষ নেই, তারাই অণুজীব। যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল ইত্যাদি।
২। প্রকৃত পরজীবী কথার অর্থ কী?
উত্তর : জীবদেহের বাইরে যেসব পরজীবী জীবনের কোনো লক্ষ্মণই প্রকাশ করে না, সেগুলোই প্রকৃত পরজীবী। যেমন : ভাইরাস।
৩। ব্যাকটেরিয়াজনিত চারটি রোগের নাম লেখো।
উত্তর : ব্যাকটেরিয়াজনিত চারটি রোগ নিম্নরূপ— নিউমোনিয়া, রক্তামাশয়, ধনুষ্টঙ্কার ও কলেরা।
৪। ছত্রাককে মৃতজীবী বলা হয় কেন?
উত্তর : ছত্রাক ক্লোরোফিলের অভাবে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য এদের মৃত জীবদেহের ওপর নির্ভর করতে হয়। যেহেতু ছত্রাক মৃত জীবদেহ থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে, তাই ছত্রাককে মৃতজীবী বলা হয়।
৫। ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয় কেন?
উত্তর : ভাইরাসের দেহ শুধু প্রোটিন আবরণ ও নিউক্লিক এসিড নিয়ে গঠিত। ভাইরাসের দেহে কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই। তাই ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয়।
৬। যেকোনো চারটি অণুজীবের নাম লেখো।
উত্তর : চারটি অণুজীবের নাম হলো—
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও শৈবাল।
৭। ছত্রাকের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : ছত্রাক থেকে পেনিসিলিনসহ বহু মূল্যবান ওষুধ পাওয়া যায়। পাউরুটি তৈরিতে ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। এগারিকাস নামক মাশরুম শৌখিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
৭। ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করার দুটি উপায় লেখো।
উত্তর : ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করার দুটি উপায় হলো—
র. ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র ব্যবহার না করা।
রর. ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়া।
৮। অনুজীব কিভাবে ছড়াতে পারে?
উত্তর : অনুজীব নানা উপায়ে ছড়াতে পারে। যেমন— অপরিষ্কার হাত জীবাণুর জন্য একটি সুবিধাজনক বাহন। এর মাধ্যমে সহজেই একজন থেকে অন্যজনে জীবাণু ছড়াতে পারে। এ ছাড়া বাতাসের ধুলাবালি, অপরিষ্কার পানি, পচা ও বাসি খাদ্য গ্রহণ করার মাধ্যমে অনুজীব ছড়াতে পারে।
৯। প্রতিকূল পরিবেশে এন্টামিবা কী ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।
উত্তর : এন্টামিবা এককোষী। এদের দেহের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। প্রতিকূল পরিবেশে এন্টামিবা গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে ফেলে, যা তাদের প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এ অবস্থায় একে সিস্ট বলা হয়।
১০। ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণী মেরে পুঁতে ফেলা উচিত কেন?
উত্তর : ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণী মেরে পুঁতে ফেলা উচিত, কারণ ভাইরাস অতিদ্রুত ছড়ায়। ফলে আক্রান্ত প্রাণীর চিকিৎসা চলাকালীন অন্যান্য পশু আক্রান্ত হতে পারে। তাই আক্রান্ত প্রাণীকে মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়।
১১। ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট চারটি রোগের নাম লেখো।
উত্তর : ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট চারটি রোগ হলো—
যক্ষ্মা, কলেরা, টাইফয়েড ও আমাশয়।
১২। ভাইরাস কোন অবস্থায় জীবের লক্ষ্মণ হারিয়ে ফেলে?
উত্তর : ভাইরাসের দেহ প্রধানত আমিষ ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। যখন এদের আমিষ আবরণ থেকে নিউক্লিক এসিড বের হয়ে যায়, তখন এরা জীবের সব লক্ষ্মণ হারিয়ে ফেলে।