kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

ক্রমোজম

[অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে ‘ক্রমোজম’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্রমোজম

ক্রমোজম জীবের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করা বংশগতির প্রধান উপাদান, যা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়। নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এটি ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) অণু ধারণ করে এবং এর মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষ করে। ১৮৭৫ সালে বিজ্ঞানী Eduard Strasburger সর্বপ্রথম ক্রমোজম আবিষ্কার করেন। ১৯৩৩ সালে বিজ্ঞানী বোভেরি (Boveri) প্রমাণ করেন যে ক্রমোজমই বংশগতির ধারক ও বাহক।

ক্রমোজমের দৈর্ঘ্যে ০.২-৫০ মাইক্রন এবং প্রস্থ ০.২-২ মাইক্রন। মানুষের ক্রমোজমের দৈর্ঘ্য ৬ মাইক্রন।

কাজের ওপর ভিত্তি করে ক্রমোজম দুই প্রকার। দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রমোজমকে অটোজম এবং যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রমোজমকে লিঙ্গনির্ধারক ক্রমোজম বলে। মানুষের দেহকোষে অটোজমের সংখ্যা ৪৪টি এবং লিঙ্গনির্ধারক ক্রমোজমের সংখ্যা দুটি।

নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে ক্রমোজম সংখ্যা নির্দিষ্ট। একই প্রজাতির ক্ষেত্রে জননকোষের ক্রমোজম সংখ্যা দেহকোষের ক্রমোজম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে থাকে, যাকে হ্যাপ্লয়েড সেট বলে। আবার দেহকোষে ডিপ্লয়েড সেট ক্রমোজম থাকে; ফলে দেহকোষে ক্রমোজম জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। সবচেয়ে কমসংখ্যক ক্রমোজম পাওয়া যায় গোল কৃমিতে।

কোষ বিভাজনের বিভিন্ন দশায় ক্রমোজমের আকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়। এর কাজ হলো মাতা-পিতা থেকে জিন সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রমোজম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখা। এ কারণে ক্রমোজমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলেও আখ্যায়িত করা হয়।   

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা