দেশের অর্থনীতিতে অচলাবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সর্বস্তরে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান শুধু রাষ্ট্রীয় অপচয়ই বাড়াচ্ছিল না, দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। চলমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের এই উদ্যোগ হতে পারে দেশের শিল্প খাতে নতুন মাইলফলক।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসংক্রান্ত সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপর এক খবরে বলা হয়েছে, বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে এই অর্থ ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দেবে এবং ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেবে। জানা গেছে, একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকলে তা নবায়নযোগ্য। ব্যাংক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।
অতীতে দেখা গেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যাদের ঋণ সহায়তা পাওয়ার কথা, তারা পায় না; পায় মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী কিছু লোক। এতে কাজের কাজ কিছু হয় না, বরং খেলাপি ঋণের বোঝা ভারী হয় মাত্র। কাজেই বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই উদ্যোগ সফল ও টেকসই করতে সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন কারখানাগুলো সামান্য আর্থিক ও নীতিগত সহায়তায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, আর কোনগুলোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন, তা প্রথমেই যাচাই করতে হবে। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে শিল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
আমরা মনে করি, সরকারের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। ঋণ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। অপাত্রে যেন কোনো ঋণ সহায়তা না যায়, তা শুরুতেই রোধ করতে হবে।

