• ই-পেপার

কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন

  • আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

লোডশেডিং সহনীয় রাখতে হবে

জ্বালানিসংকটের বহুবিধ প্রভাব

লোডশেডিং সহনীয় রাখতে হবে

গ্যাসের সংকট কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে। বছরখানেক আগে তা এতটাই তীব্র হয় যে কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে গ্যাসভিত্তিক কারখানায় সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো এখন যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট। ডিজেলের অভাবে বোরো মৌসুমে কৃষক জমিতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সেসবের প্রভাবে বাজারে প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। অর্থাৎ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সর্বশেষ ভোগান্তির নাম হচ্ছে লোডশেডিং। ক্রমেই বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংও তত বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হলেও পরে দোকান মালিকদের অনুরোধে তা ৭টা পর্যন্ত করা হয়েছে। অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন দিন অনলাইন করার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। ব্যয় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আরো অনেক রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান না হলে এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা না এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দিন দিনই কঠিন হবে। গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, দেশে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ওঠানামা করছে। গত মার্চে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। গরম যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়তে থাকবে।

দেশে জ্বালানি তেল ভিত্তিক (ফার্নেস অয়েল) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মিলিত সক্ষমতা পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। জানা যায়, তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে আগামী ২০ এপ্রিলের পর এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ঘাটতি আরো তীব্র হবে এবং লোডশেডিং আরো বাড়বে।

অন্যদিকে জ্বালানিসংকট অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পড়বে বাজারে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই স্বীকার করেছেন, জ্বালানিসংকটের কারণে আগামী দিনে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ভর্তুকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করাও হয়তো সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে বাজারের যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে খারাপ কিছু আশঙ্কা করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণও আছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই কমবেশি পড়েছে। অন্যান্য দেশ যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, আমাদেরও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা মনে করি, নানা উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে একটি বড় আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলতে হবে। অপচয় বন্ধ করতে হবে। যারা তেলের অবৈধ মজুদ গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।

 

সম্ভাবনা ও সতর্কতার সমীকরণ

পানগাঁও টার্মিনালের নতুন যাত্রা

সম্ভাবনা ও সতর্কতার সমীকরণ

চট্টগ্রাম বন্দরের অধীন কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল অবশেষে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে যাচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের নৌ-লজিস্টিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান ও ব্যবস্থাপনা জটিলতায় নৌপথের সম্ভাবনাময় এই টার্মিনালটি কাঙ্ক্ষিতভাবে সক্রিয় করা যায়নি। বছরে দুই লাখ কনটেইনার ধারণক্ষমতা থাকলেও জাহাজের ঘাটতি, অপারেটর সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে টার্মিনালটি প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কম্পানি এমএসসির লজিস্টিক শাখা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগের হাতে ২২ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনের জন্য পানগাঁও টার্মিনাল ছিল অপার সম্ভাবনার এক দুয়ার। কিন্তু গত এক দশকের বাস্তবতা ছিল চরম হতাশাজনক। যেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সড়কপথে ৯৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়, সেখানে নৌপথের অবদান ছিল মাত্র ১ শতাংশ। বিনিয়োগের অভাব, পর্যাপ্ত জাহাজ না থাকা এবং দক্ষ অপারেটর সংকটে ১৫৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প একপ্রকার অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। এখন মেডলগ এখানে ৪৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে অত্যাধুনিক ক্রেন, নিজস্ব বিশেষায়িত জাহাজ এবং পুরো ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর পণ্যবাহী যানের চাপ কমাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

তবে উন্নয়নের এই চকমকে পিঠের আড়ালে কিছু মৌলিক প্রশ্ন ও উদ্বেগের জায়গা থেকেও যায়। পতেঙ্গা টার্মিনালের আদলে পানগাঁওকে টানা ২২ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া একটি বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত। যদিও আধুনিক প্রযুক্তি ও বড় বিনিয়োগ আনতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশের ওপর অতি নির্ভরশীলতা কতটা নিরাপদ, তা ভাবার অবকাশ আছে। বন্দর বা টার্মিনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য যেন ভবিষ্যতে আমাদের নিজস্ব নীতিনির্ধারণী স্বায়ত্তশাসনকে কোনোভাবে খর্ব না করে, সেদিকে তীক্ষ নজর রাখা জরুরি। অতি নির্ভরশীলতা অনেক সময় জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে কেবল ব্যাবসায়িক মুনাফাকেই বড় করে দেখে, এই সাধারণ ঝুঁকিটুকু ভুলে গেলে চলবে না।

পরিশেষে বলা যায়, পানগাঁও টার্মিনালকে সচল করা সময়ের দাবি ছিল এবং আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর নিয়োগ সেই পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। আমরা আশা করি, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। তবে উন্নয়ন যেন কোনোভাবেই জাতীয় নিয়ন্ত্রণের হাতছাড়া না হয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতার সুফল আমরা অবশ্যই নেব, কিন্তু একই সঙ্গে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। পানগাঁও যেন কেবল কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের লাভের মাধ্যম না হয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থায়ী সম্পদে পরিণত হয়, সেটিই আমাদের কাম্য।

 

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রত্যয়

জনপ্রত্যাশার পাহাড়ে তারেক রহমান

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রত্যয়

বাংলাদেশ আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরম পর্যায়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ নেই। চালু কলকারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেকারত্ব আকাশ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে সহিংসতা করছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের বেশি সময় পর তাঁর দেশে ফেরায় উচ্ছ্বসিত তাঁর দল, রাজনীতির অঙ্গন ও দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ। কিন্তু তিনি সেই বিপুল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা সক্ষম হবেন, তা নিয়ে সংশয়ও আছে।

মার্টিন লুথার কিং যেমন বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’, একইভাবে তারেক রহমান বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান প্রথমেই গিয়েছিলেন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায়। অর্ধকোটি মানুষের বিশাল জনসমাবেশে তিনি মানুষকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’ আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো মূল্যে আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।’ তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।

তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে বলেন, কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন, এ দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। চব্বিশের আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, ১৯৭১ সালে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, সবার রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, তাঁদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

তারেক রহমান বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর বাবা। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া তাঁর মা। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সেই পরিবারের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের ওপর মানুষের এমন আস্থা ও বিশ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদের বিশ্বাস, তারেক রহমান পথ হারানো বাংলাদেশকে আবার পথের দিশা দিতে সক্ষম হবেন। এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মা-বাবার মতোই তিনি আপসহীন থাকবেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, সমৃদ্ধিশালী হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করুন

সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ

নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের দিন শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় রাজনীতিবিদসহ সারা দেশের মানুষ রীতিমতো হতবাক। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতকারীদের যে হামলা হয়েছে, তা রুখে দিতে অবশ্যই গণতন্ত্র লাগবে।এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হাদিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে গিয়ে হাদির খোঁজখবর নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ ছাড়া বিভিন্ন দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক অপরাধমূলক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ২৩০ জনের বেশি ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। হতাহতের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। শুক্রবার কালের কণ্ঠে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে মসলা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে আট জেলায় ৯ জনকে খুন করা হয়। কয়েক দিন আগে খুলনায় আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে অবস্থার অবনতি হচ্ছে, সরকার দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে না পারলে নির্বাচনের আগে অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক এমন অবস্থার জন্য বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন। এর মধ্যে আছে, গত বছর ৫ আগস্টের আগে ও পরে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির একটি বড় অংশ উদ্ধার করতে না পারা, প্রতিনিয়ত অস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসা, ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে ঢালাওভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জামিন দেওয়া এবং তাদের উপযুক্ত নজরদারিতে রাখতে না পারা ইত্যাদি।

আমরা মনে করি, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেওয়া থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরত থাকতে হবে। সারা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অবিলম্বে চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।

কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন | কালের কণ্ঠ