kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

কাশি যেন সারছেই না!

ইদানীং সর্দি-কাশির প্রবণতা বেড়ে গেছে। ঋতু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণ সাধারণত এর জন্য বেশি দায়ী। কাশিতে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাশি যেন সারছেই না!

কাশির ঘরোয়া দাওয়াই

বেশি পানি পান : সর্দি-কাশি হলে পানি পানের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিন। কেননা দেহে অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করলে মিউকাস বা শ্লেষ্মা পাতলা হয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়। পানির পাশাপাশি ফলের রস, চিকেন স্যুপ ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন।

মধু : সর্দি-কাশিতে মধু বেশ উপকারী। হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে মাঝে মাঝে খান। এতে অনেকটা উপকার মিলবে। ভালো হয় লেবুর রস আর আদার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারলে। তবে এক বছরের নিচের শিশুদের মধু খাওয়াবেন না।

তুলসী : লং, এলাচ, দারচিনির সঙ্গে তুলসীপাতা বেটে তাতে মধু মিশিয়ে খাওয়ান কমপক্ষে দিনে তিনবার। দেখবেন, কাশি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে।

পেঁয়াজ পানি : সর্দি-কাশি সারানোর মোক্ষম দাওয়াই পেঁয়াজ পানি, যা দেহের ভেতর থেকে রিচার্জ করে তোলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভাইরাসের আক্রমণ রুখে দেয়।

এ জন্য মাঝারি সাইজের একটা পেঁয়াজ কুচি করে নিন। এবার একটা ছোট পাত্রে পানি নিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি ফেলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর সঙ্গে দুই থেকে তিন চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার করে খান। একটু বড় শিশুদের এ পেঁয়াজ পানি দিনে একবার করে খাওয়াতে পারেন।

গোলমরিচের গুঁড়া : এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ গোলমরিচের গুঁড়া এবং এক টেবিল চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। এই পানীয় দিনে দুবার ব্যবহার করলে কাশি দ্রুত সেরে যায়।

লবণ-আদা : আদা ছোট ছোট করে কেটে তাতে লবণ মেশান। এই লবণ মেশানো আদা মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ চিবোতে থাকুন। সর্দি-কাশিতে এটা বেশ আরাম দেয়।

দারচিনি-পানি : দারচিনি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। গরম পানিতে কয়েক টুকরো দারচিনি ফেলে ফুটিয়ে নিয়মিত খান। বুকে কফ জমবে না।

যষ্টিমধু : ভেতর থেকে কাশি বের করে ফেলার পাশাপাশি গলা পরিষ্কার করে যষ্টিমধু। এতে গলাভাঙা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট থাকলে তা-ও দূর হয়। ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে দুই টেবিল চামচ যষ্টিমধুর গুঁড়া বা সমপরিমাণ যষ্টিমধুর টুকরো দিন। ১০-১৫ মিনিট চুলায় রেখে কাপে ঢেলে চায়ের মতো করে দিনে দুবার পান করুন। এটা কাশি কমানোসহ সাইনাস ও মাইগ্রেনের সমস্যাও দূর করে।

গাজর : গাজরকে বলা হয় সুপারফুড। এক কেজি পরিমাণ গাজর টুকরো টুকরো করে পানিতে বেশ কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। এবার সেই পানি পান করুন। এটা সর্দি-কাশিতে দারুণ কাজ দেয়।

 

এড়িয়ে চলুন

দুধ : কাশির সময় গরম দুধ খেলে আরাম লাগে ঠিকই; কিন্তু একই সঙ্গে সেই দুধ ফুসফুস ও গলায় মিউকাস তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। তাই কাশি হলে দুধ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

ডিহাইড্রেশন : কাশি হলে গলা শুকনো রাখা মোটেই ঠিক নয়। তাই লেবু চা, গরম স্যুপ খাওয়া যেতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার : প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কাশি চলাকালে একেবারেই ঠিক নয়; এতে বরং কাশি বাড়বে। ব্রেড, পাস্তা, বেকড খাবার, চিপস বা সুগারি ডেজার্টও কাশি বাড়ায়।

ভাজাপোড়া : তৈলাক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে কাশি বাড়ায়। এ সময় বিশেষ করে ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড একেবারে নয়।

টক ফল : টকজাতীয় ফল খাওয়া যাবে না। অর্থাৎ যেসব ফলে সাইট্রিক এসিড বিদ্যমান তা এড়িয়ে চলুন। সাইট্রিক এসিড গলায় সংক্রমণ ঘটায় ও কফ বাড়িয়ে দেয়।

 

যা করবেন

♦ দিনে আড়াই-তিন লিটারের মতো সহনীয় গরম পানি পান করুন।

♦ গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এটা শরীরের ইন্দ্রিয়গুলো থেকে কাশির জীবাণুগুলো বের করে দেয়।

♦ বসবাসের পরিবেশ সব সময় উষ্ণ রাখুন। ঠাণ্ডা লাগলে যেহেতু কাশির প্রবণতা বাড়ে, তাই ঠাণ্ডা এড়িয়ে উষ্ণ থাকাটা জরুরি।

♦ লবণ ও গরম পানি দিয়ে মাঝে মাঝে গার্গল করুন। কাশি দূর করতে এটা অনেক জনপ্রিয় এবং প্রাচীন পদ্ধতি। এতে গলা অনেক পরিষ্কার এবং আরামদায়ক হয়।

♦ সম্ভব হলে গলায় মাফলার বা গরম কাপড় পেঁচিয়ে রাখুন। শিশুদের বেলায়ও এটা করুন।

♦ সর্দি-কাশির সমস্যায় গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার গরম পানির ভাপ বা সেঁক দিন। এতে সহজেই নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বের হয়ে আসে।

♦ রাতে খুব ছোট ও নিচু বালিশে না শুয়ে মাপমতো বালিশে ঘুমান।

 

যা করবেন না

♦ মদ্যপান বা ধূমপান একেবারে নয়।

♦ কফি, কোলা খাওয়া বন্ধ করুন।

♦ মাংস, ময়দা, চিনি খাবেন না।

♦ দই, শরবত, আইসক্রিমজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা