কলকাতার একটি চলন্ত বাসে ত্রিপুরার এক বাঙালি তরুণীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটাক্ষ ও হেনস্তার অভিযোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা যায়, কর্মসূত্রে কয়েক বছর ধরে কলকাতায় বসবাস করা ওই তরুণী সম্প্রতি একটি গণপরিবহনে ভ্রমণ করছিলেন। যাত্রাপথে তিনি ত্রিপুরার আঞ্চলিক বাংলা ভাষায় কথা বললে কয়েকজন সহযাত্রী তাঁর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে ওই তরুণী প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ জানান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে নিজের পরিচয় ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা হতাহত ৬১
কলকাতার বাসে ত্রিপুরার তরুণীকে ‘বাংলাদেশি’ তকমায় হেনস্তা

বেলুচিস্তানে ১৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য বেলুচিস্তানের পাঁচ জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তর্বিভাগীয় সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোপন সামরিক তথ্যের ভিত্তিতে বেলুচিস্তানের ম্যাসটাং, নুশকি, জেহরি, খুজদার এবং কেচ জেলায় অভিযান চালিয়েছে সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী। আরো বলা হয়েছে, গত ২৪ মে বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারগামী একটি ট্রেনে হামলার পর এ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ২৪ মে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী সেই ট্রেনটি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ছিল। সূত্র : জিও টিভি
একই পরিবারের ছয় সদস্যের জানাজায় শোকাহত মানুষের ঢল

বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল
শীতল যুদ্ধের অবসানের পর থেকে বর্তমানে বিশ্ব সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে

বিগত তিন দশকে বিশ্বায়ন নামক একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেছে, যার ভিত্তি একটি অত্যন্ত মৌলিক ধারণা : যেখানে খরচ সর্বনিম্ন সেখানে উৎপাদন করা এবং যেখানে চাহিদা রয়েছে সেখানে বিপণন করা। এর ফলস্বরূপ সারা বিশ্বে অত্যন্ত দক্ষ বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খল গঠিত হয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বিশ্ব জিডিপির ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে শীতল যুদ্ধের অবসানের পর থেকে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে। এর কারণ হলো রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, লোহিত সাগর অঞ্চলের অস্থিরতা এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ। এর ফলে অনেক সরকার এবং বহুজাতিক সংস্থা তাদের উৎপাদন, উৎস এবং বিনিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়েছে, যা ঘটেছে তা বিশ্বায়নের মৃত্যু নয়, বরং অন্য রূপে এর পুনর্জন্ম।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পণ্য ও বাণিজ্যিক পরিষেবার বৈশ্বিক বাণিজ্য ৩৪.৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ, অন্যদিকে পরিষেবা বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ব্যবসার সব উপাদানের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্বায়ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে বাণিজ্যের ভূগোল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি। ২০১৮ সালে মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শুল্ক, সেমিকন্ডাক্টরের ওপর বিধি-নিষেধ, বিনিয়োগ যাচাই প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে, যা একটি শুল্কবিরোধ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, যা কার্যত প্রতিটি প্রধান সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করছে।
এর ফলাফল বিনিয়োগের ধরনে দৃশ্যমান। বহুজাতিক সংস্থাগুলো শুধু চীনের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে ক্রমবর্ধমানভাবে ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল অবলম্বন করছে। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মেক্সিকো ইত্যাদি দেশে উৎপাদন ক্ষমতার বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটিকে প্রায়ই ‘চায়না ম্যানুফ্যাকচারিং শিফট’ বলা হয়। লক্ষ্য চীন থেকে বেরিয়ে আসা নয়। তারা যা করার চেষ্টা করছে তা হলো নিজেদের বৈচিত্র্যময় করা, যাতে তাদের জন্য ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিগুলো ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়। অ্যাপলের সরবরাহকারীরা ভারত ও ভিয়েতনামে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। বৃহৎ ইলেকট্রনিকস, বস্ত্র এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সূত্র : মডার্ন ডিপ্লোমেসি
