kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

‘আর কোনো উপায় ছিল না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আর কোনো উপায় ছিল না’

লন্ডনে ব্রিটেন-আফ্রিকা সম্মেলন চলাকালে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

সরকারি অর্থ, নিরাপত্তা ও রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহারের পর গত রবিবার থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন শুরু করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। হ্যারি অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখবোধ তাঁর মধ্যে কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, ‘আরো শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের’ জন্য এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

গত ৮ জানুয়ারি রাজকীয় দায়িত্ব ও অর্থ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন হ্যারি-মেগান। ব্রিটিশ গণমাধ্যম এর মধ্যেই একে মেক্সিট (মেগানের এক্সিট বা বের হয়ে যাওয়া) হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিষয়টি শুধু ব্রিটেন নয়, পুরো রাজপরিবারকে চমকে দেয়। কারণ হ্যারি কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করেই এমন ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজপরিবারে সপ্তাহখানেক ধরে নানামুখী আলোচনার পর গত শনিবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ঘোষণা করেন, হ্যারি-মেগানের ‘রয়াল হাইনেস’ উপাধি আর থাকছে। সরকারি তহবিল থেকেও তাঁদের অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রাসাদ সংস্কারের জন্য যে ৩১ লাখ ডলার সম্প্রতি তাঁরা খরচ করেছেন তাও তাঁদের ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি হ্যারির সামরিক মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়।

এসব ঘটনার মধ্যে গত রবিবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন প্রিন্স হ্যারি। তাঁর আফ্রিকাভিত্তিক দাতব্য সংস্থার লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি যেভাবে ঘটছে তাতে আমার তীব্র কষ্ট হচ্ছে।’ তিনি জানান, বিশ্বাসের ওপর ভর করে তিনি তাঁর রোজকার রাজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং বিদেশে থাকার অনুমতি চেয়েছেন।

হ্যারি বলেন, তিনি কখনোই জনগণের অর্থে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে চাননি। তবে সামরিক উপাধিগুলো চলে যাওয়ায় খারাপ লাগছে তাঁর। হ্যারি দুই দফায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আফগানিস্তান সফরে যান।

রবিবার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হ্যারি। এতে বলা হয়, ‘বিশ্বাসের ওপর ভরসা করে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপে আপনাদের সাহস ও উৎসাহ জোগানোর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমি সব সময়ই যে ঠিক কাজটি করেছি এমন নয়। তবে এখন আর কোনো উপায় ছিল না।’

হ্যারির আগে তাঁর মা প্রিন্সেস ডায়ানার নামের সামনে থেকেও হার রয়াল হাইনেস উপাধি প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর খ্যাতিতে এটি কোনো প্রভাব ফেলেনি। হ্যারির ক্ষেত্রে অতটা আশা করা অর্থহীন।

রাজ উপাধি প্রত্যাহারের পর এই দম্পতির আর্থিক পরিস্থিতি কী হবে তাও এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রিন্স চার্লস হয়তো নিজের উপার্জন থেকে ছেলেকে কিছু দেবেন। মেগান আবার অভিনয়ে ফিরবেন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কী হতে পারে সে সম্পর্কে কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ রাজপরিবার জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে বসে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

ব্রিটেনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। এমনকি মেগানের বাবাও বলেছেন, ‘এটি (ব্রিটিশ রাজপরিবার) একটি আধুনিক ও দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। ওরা (হ্যারি-মেগান) এটা ধ্বংসের চেষ্টা করছে। একে সস্তা বানিয়ে ফেলেছে ওরা।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা