চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকের গাড়ির গতিরোধ করে চাঁদা দাবি ও কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড শিপ রি-সাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)। এ ঘটনায় জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৫ জুন) বিএসবিআরএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্র পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়, বিএসবিআরএর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠান বিওবি রিসাইক্লার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম নুরুন নবী মানিক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হামলার শিকার হয়েছেন, যা ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বিএসবিআরএর দাবি, এ ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা শিল্পখাতের জন্য হুমকি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের তথ্যমতে, গত শনিবার সন্ধ্যায় সোনাইছড়ি সাগরপাড় এলাকায় অবস্থিত বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ড থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ফেরার পথে খোঁজারপাড়া এলাকায় এস এম নুরুন নবীর গাড়ির গতিরোধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ সময় বিষয়টি দেখতে এগিয়ে এলে বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ডের পাবলিক রিলেশনস অফিসার মো. আলমগীর হোসেন, পরিচালক নাজমুল হুদা, ভূমি কর্মকর্তা অহিদুর রহমান এবং ইয়ার্ড ম্যানেজার সাহাবউদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই রাতেই মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর আলমসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সীতাকুণ্ডের মধ্য সোনাইছড়ি বক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




