• ই-পেপার

চাঁদাবাজির ঘটনায় উদ্বেগ

জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের নিরাপত্তা চেয়ে বিএসবিআরএর আবেদন

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ; মাঝখানে ৯টি অসহায় জীবন

সোহেল রানা স্বপ্ন, কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে ফিরে
এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ; মাঝখানে ৯টি অসহায় জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

রোদের তাপে বারবার কেঁদে উঠছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন। সীমান্ত, রাষ্ট্র কিংবা নাগরিকত্বের জটিলতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। সে শুধু মায়ের বুকের উষ্ণতা চেনে। কিন্তু সেই মা সুমি খাতুনও আজ অসহায়। কোলের শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, আর আড়াল করছেন নিজের অশ্রু।

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত। মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই শূন্যরেখাতেই একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ৯ জন মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছেন। রবিবার (১৪ জুন) ভোর থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে দুই শিশু—পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন ও চার বছরের ফাতেমা খাতুন। ছোট্ট ফাহিমার কান্না থামছে না। ক্ষুধা আর তীব্র গরমে বড় বোন ফাতেমাও বারবার কেঁদে উঠছে। দুই মেয়ের এমন অবস্থা দেখে মা সুমি খাতুনের চোখে শুধু অসহায়ত্ব। কখনো ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন, কখনো বড় মেয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন। কিন্তু সন্তানদের কষ্ট লাঘব করার মতো কোনো উপায় তার হাতে নেই।

পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন বাবা বিল্লাল। মুখে কোনো কথা নেই, শুধু নিঃশব্দ দৃষ্টি। কখনো সন্তানদের দিকে, কখনো সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে থাকছেন। একজন বাবার অসহায়ত্ব যেন তার নীরবতাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মাথার ওপর প্রখর রোদ। আশপাশে নেই কোনো ছাউনি। তাপদাহ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি তৈরির চেষ্টা করেন। সেই সামান্য ছায়ার নিচেই একটু স্বস্তি খোঁজে শিশুরা।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে ছুটে আসেন। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে তারাও অবস্থান নেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার আলোচনায় অংশ নেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি।

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ। দুই বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে থাকলেও মাঝখানে মানবিক সংকট নিয়ে লড়াই করছেন ৯ জন মানুষ।

সীমান্তে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল। কারণ রাষ্ট্রের সীমারেখা মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু শিশুদের কান্নার কোনো সীমান্ত নেই। পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা জানে না সে কোন দেশের নাগরিক। চার বছরের ফাতেমাও জানে না কেন তাকে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। তারা শুধু জানে তাদের ক্ষুধা লেগেছে, রোদে শরীর পুড়ছে, আর তারা মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়।

সোমবার দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। একের পর এক আলোচনা হয়েছে, সীমান্তে এসেছে যানবাহন, কিন্তু মেলেনি কোনো সমাধান। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে, ঘাসের ওপরই রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

হয়তো ইতিহাস সীমান্ত বিরোধের কথা মনে রাখবে। কিন্তু রৌমারীর এই শূন্যরেখায় বসে থাকা দুই শিশুর কান্না, এক বাবার নীরবতা আর এক মায়ের অশ্রু—সেটিও একদিন মানবতার কাছে প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) সদর দপ্তরের সামনে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর রাসেল (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন।

নিহত রাসেল সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের শামীম ওরফে শ্যামলের ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন দুপুর ২টার দিকে রাসেল মোটরসাইকেলযোগে সরোজগঞ্জ বাজার থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ৬ বিজিবি সদর দপ্তরের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রাসেল (২৮), বনি আমিন (২৫) ও পিন্টু হোসেন (৩০) গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রাসেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা শামীম ওরফে শ্যামল জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে রাসেল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে সন্ধ্যায় জানাজা শেষে আকন্দবাড়িয়া সরকারি কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চন্দনাইশে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের সর্দারপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চন্দনাইশ সমিতি, চট্টগ্রাম। সংগঠনটির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গত শনিবার (১৩ জুন) সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে পরিবারের প্রয়োজনীয় মালামাল, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনে ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে চন্দনাইশ সমিতি।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। চন্দনাইশ সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এ অর্থ তুলে দেন।

এ সময় সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সুমন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

চন্দনাইশ সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সংগঠনটি কাজ করে যাবে।

ময়লার স্তূপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ময়লার স্তূপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরে ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলের দিকে কয়েকটি কুকুর ময়লার স্তূপে একটি রক্তমাখা বস্তু নিয়ে টানাটানি করছিল। কাছে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান সেটি একটি নবজাতকের মরদেহ। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গর্ভপাতের পর কেউ রাতের আঁধারে ভ্রূণটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নবজাতকের মরদেহ কিভাবে সেখানে এলো, এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন স্থানীয়রা