• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিস বৈঠকে হামলা, নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিস বৈঠকে হামলা, নিহত ১
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় সালিস বৈঠক চলাকালে হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ভাতিজির সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই এলাকার সাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আতাউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের কলহ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সোমবার বিকেলে সালিস বসে। বৈঠক চলাকালে জাহাঙ্গীর আলম ও আতাউল্লাহর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় আতাউল্লাহর পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাকসামে ছাগল চুরি করে পালানোর সময় তিন যুবক আটক

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে ছাগল চুরি করে পালানোর সময় তিন যুবক আটক
প্রতীকী ছবি

ছাগল চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তিন যুবককে ধরে লাকসাম থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। পুলিশ সোমবার (১৫ জুন) ওই তিন যুবককে ছাগল চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটার নোয়াগাঁও গ্রামের মোখলেছ মেম্বারের বাড়ির মো. সিরাজুল ইসলামের দুই ছেলে রেজাউল করিম সুমন (২৮), শাকিল (২৫) এবং একই বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম নয়ন (২০)।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী ছাগল চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন বিকেলে ওই তিন যুবক একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাজিমুড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আসে। ওই যুবকেরা সড়কের পাশ থেকে দুটি ছাগল চুরি করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় ছাগলের মালিক নুরু মিয়া ঘটনাটি দেখে দ্রুত একটি মোটরসাইকেল যোগে ধাওয়া করে অটোরিকশাটি সামনে গিয়ে ব্যারিকেড দেন। এমতাবস্থায় আশপাশের লোকজন এসে চোরাই ছাগলসহ ওই তিন যুবককে আটক করে। পরে আটককৃতদের লাকসাম থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।

এ ব্যাপারে সোমবার রাতে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাগল চুরির অভিযোগে ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রুজু এবং অভিযুক্তদের কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

টঙ্গীতে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ৫৮ লাখ টাকাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ৫৮ লাখ টাকাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন নরসিংদীর মাধবদী থানার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৬) এবং নরসিংদীর রায়পুরা থানার মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. শাওন (২৬)। তারা টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার আক্কেল আলী সড়কে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সালামত মোল্লা রোডের একটি সাততলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দুইজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার বড় চালান ধরা পড়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ; মাঝখানে ৯টি অসহায় জীবন

সোহেল রানা স্বপ্ন, কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে ফিরে
এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ; মাঝখানে ৯টি অসহায় জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত। মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই শূন্যরেখাতেই একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ৯ জন মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছেন। রবিবার (১৪ জুন) ভোর থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে দুই শিশু—পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন ও চার বছরের ফাতেমা খাতুন। ছোট্ট ফাহিমার কান্না থামছে না। ক্ষুধা আর তীব্র গরমে বড় বোন ফাতেমাও বারবার কেঁদে উঠছে। দুই মেয়ের এমন অবস্থা দেখে মা সুমি খাতুনের চোখে শুধু অসহায়ত্ব। কখনো ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন, কখনো বড় মেয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন। কিন্তু সন্তানদের কষ্ট লাঘব করার মতো কোনো উপায় তার হাতে নেই।

পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন বাবা বিল্লাল। মুখে কোনো কথা নেই, শুধু নিঃশব্দ দৃষ্টি। কখনো সন্তানদের দিকে, কখনো সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে থাকছেন। একজন বাবার অসহায়ত্ব যেন তার নীরবতাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মাথার ওপর প্রখর রোদ। আশপাশে নেই কোনো ছাউনি। তাপদাহ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি তৈরির চেষ্টা করেন। সেই সামান্য ছায়ার নিচেই একটু স্বস্তি খোঁজে শিশুরা।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে ছুটে আসেন। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে তারাও অবস্থান নেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার আলোচনায় অংশ নেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি।

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ। দুই বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে থাকলেও মাঝখানে মানবিক সংকট নিয়ে লড়াই করছেন ৯ জন মানুষ।

সীমান্তে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল। কারণ রাষ্ট্রের সীমারেখা মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু শিশুদের কান্নার কোনো সীমান্ত নেই। পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা জানে না সে কোন দেশের নাগরিক। চার বছরের ফাতেমাও জানে না কেন তাকে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। তারা শুধু জানে তাদের ক্ষুধা লেগেছে, রোদে শরীর পুড়ছে, আর তারা মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়।

সোমবার দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। একের পর এক আলোচনা হয়েছে, সীমান্তে এসেছে যানবাহন, কিন্তু মেলেনি কোনো সমাধান। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে, ঘাসের ওপরই রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

হয়তো ইতিহাস সীমান্ত বিরোধের কথা মনে রাখবে। কিন্তু রৌমারীর এই শূন্যরেখায় বসে থাকা দুই শিশুর কান্না, এক বাবার নীরবতা আর এক মায়ের অশ্রু—সেটিও একদিন মানবতার কাছে প্রশ্ন হয়ে থাকবে।