kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

কাজের মানুষ

ভালো শ্রোতা হওয়ার উপায়

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভালো শ্রোতা হওয়ার উপায়

আমরা বেশি কথা বলি কেন?

আমাদের বেশি কথা বলার প্রবণতার পেছনে নানা কারণ কাজ করে। একেকজনের ক্ষেত্রে কারণগুলো একেক রকম। তবে সচরাচর যে কারণগুলো বেশি লক্ষ করা যায় সেগুলো হলো—

ক. বক্তা নিজেকে অন্যদের তুলনায় জ্ঞানী মনে করেন। কিংবা শ্রোতাকে তুলনামূলক অজ্ঞ ভাবেন। মনে করেন, শ্রোতা যে বিষয়গুলো জানে না সেগুলো তাকে জানানো দরকার।

খ. বক্তার হীনম্মন্যতার বোধ। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কথাই হয় নিজের গুণকীর্তিজ্ঞাপক। যার মাধ্যমে বক্তা প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি শ্রোতার চেয়ে বা শ্রোতার মতো মর্যাদা, ক্ষমতা বা জ্ঞানসম্পন্ন।

গ. বক্তার একাকিত্ব। কোনো ব্যক্তি যদি দিনের বেশির ভাগ সময় একাকী কাটান তার মধ্যে বেশি কথা বলার প্রবণতা তৈরি হয়। এই একাকিত্ব পারিবারিক বা পেশাগত যেকোনো কারণেই হতে পারে।

ঘ. কারো মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যও বক্তা বেশি কথা বলতে পারেন।

ঙ. অনেকের পারিবারিক বা পেশাগত কারণেও বেশি কথা বলা অভ্যাস হয়ে যায়। যেমন—রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ইত্যাদি পেশার মানুষ স্বভাবতই বেশি কথা বলেন।

চ. ভালো বা আদর্শ শ্রোতা পেলে বা শ্রোতার কাছ থেকে প্রশংসাসূচক প্রতিক্রিয়া পেলে অনেক সাধারণ মানুষও ভালো বক্তা হয়ে ওঠেন।

ছ. গল্পপ্রিয়, হাসিখুশি আড্ডাবাজ ধরনের মানুষ বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই বেশি কথা বলে থাকেন।

একজন ভালো শ্রোতার শক্তি

আপনি মুখ খোলা রেখে কখনোই ভালো শ্রোতা হতে পারবেন না। মুখে আপনি যা-ই বলেন না কেন, তা আপনি ভালো করেই জানেন, তাই বলতে পারছেন। কিন্তু যা জানেন না তা জানতে হলে আপনাকে চুপ থাকতেই হবে। হতে হবে একজন ভালো শ্রোতা। তা হতে পারলে বেশ কিছু সুবিধাও আছে। এগুলোকেই বলা হয় ভালো শ্রোতার শক্তি। এগুলো হলো—

ক. ভালো শ্রোতা সমস্যা সমাধানের অতুলনীয় ক্ষমতার অধিকারী হন।

খ. চমত্কার ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন একজন ভালো শ্রোতা।

গ. ভালো শ্রোতা সহজেই অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারেন।

ঘ. সবাই ভালো শ্রোতাদের পছন্দ করেন।

ঙ. ভালো শ্রোতা হতে পারলে অন্যদের কাছ থেকে জানা যায় অনেক অজানা তথ্য ও ঘটনা।

চ. ভালো শ্রোতারা অনেক ধৈর্যশীল হন।

 

ভালো শ্রোতা হওয়ার দশ কৌশল

ভালো বক্তা হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভালো শ্রোতা হতে পারাও। এবং সেটাই বেশি কঠিন। কারণ স্বভাবতই মানুষ বলতে বা নিজেকে প্রকাশ করতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ স্থাপনে তো বটেই, এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যও ভালো শ্রোতা হওয়া ভীষণ দরকারি। সেটা হওয়ার জন্য মেনে চলতে পারেন এই দশটি কৌশল—

 

এক.

মনোযোগের প্রধান বাহক হচ্ছে চোখ বা দৃষ্টি। তা দেখে একজন মানুষের প্রায় সবকিছুই আন্দাজ করা যায়। আপনি শ্রোতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন কি না তাও আপনার চোখ দেখেই পরিষ্কার বোঝা যায়। সুতরাং শ্রোতার চোখে চোখ রেখে কথা শুনুন।

 

দুই.

যে বিষয়ে কথা হচ্ছে সে বিষয়ে আপনার কোনো মতামত থাকলে আলোচনা করুন। এতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাতে বক্তাও খুশি হন।

 

তিন.

বক্তা যখন কথা বলছেন তার মাঝখানে হঠাত্ থামিয়ে দিয়ে কিছু বলে উঠবেন না। আপনি কিছু বলার আগে তার বাক্য শেষ হতে দিন।

 

চার.

বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা ঠিক হবে না। বক্তার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই একজন ভালো শ্রোতার প্রধান কর্তব্য।

 

পাঁচ.

বক্তার কথা শোনার সময় এমনভাবে বসা উচিত, যাতে আপনি বক্তার চেহারা ঠিকমতো দেখতে পান। বিশেষ করে বক্তার চোখ দেখতে পাওয়া খুবই দরকারি। এতে বক্তার বক্তব্যের আবেগময় বহিঃপ্রকাশও আপনার নজর এড়াবে না। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন বক্তাও যেন আপনার চেহারা দেখতে পান।

 

ছয়.

আলাপ চলাকালে মাঝে মাঝে ছোট ছোট প্রাসঙ্গিক শব্দ উচ্চারণ করে আপনার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করুন। যেমন— ‘তাই নাকি?’ ‘বলেন কী!’ ‘সর্বনাশ, ‘কী সাংঘাতিক’! ‘নিশ্চয়ই’, ‘বাহ!’ ‘এটা খুব ভালো বলেছেন!’ ‘কী করে হলো?’ ইত্যাদি। এতে বক্তা আপনার মনোযোগ বুঝতে পারবেন।

 

সাত.

একজন আদর্শ শ্রোতা কখনো কখনো বক্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করেন, যাতে আলোচনা প্রাসঙ্গিক থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয় শ্রোতাকে। প্রয়োজনে বক্তাকে নিয়ন্ত্রণও করতে হতে পারে।

 

আট.

একজন ভালো শ্রোতা ভালো স্মরণশক্তির অধিকারীও হন। বক্তা মাঝে মাঝেই কথা বলতে গিয়ে ‘কী প্রসঙ্গে আলোচনা করতে চাচ্ছিলেন’ সেটা ভুলে যান। তখন শ্রোতাকে তা মনে করিয়ে দিতে হয়। তা ছাড়া আলোচনা শেষ হওয়ার পরও নানা কারণে কী বিষয়ে কী কী আলোচনা হলো তা পুনারাবৃত্তি করার প্রয়োজন পড়ে। ভালো শ্রোতাকে এসব ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগী হতে হয়।

 

নয়.

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় একজন ভালো শ্রোতা কাগজ-কলম নিয়ে বসবেন। প্রয়োজনীয় অংশ নোট নেবেন। প্রয়োজন হলে রেকর্ডারও ব্যবহার করতে পারেন।

 

দশ.

অনেক সময় আবার ভালো শ্রোতার অভিনয়ও করতে হয়। দেখা যায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যে, বক্তার কথা শুনতে একদমই ভালো লাগছে না, কিন্তু না শুনেও উপায় নেই। আর কেবল শুনলেই হবে না, এটাও প্রমাণ করতে হবে যে আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। এমন ক্ষেত্রে এমনভাবে বসুন, যাতে আপনার মুখে সরাসরি আলো না পড়ে। বাকি সময়টুকুতে আপনার একমাত্র কাজ হবে তার চোখে চোখ রেখে মাঝে মাঝে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে যাওয়া। তাহলে বক্তার মনে হবে আপনি মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছেন। ফলে তিনিও অপ্রতিভ হয়ে পড়বেন না, আপনাকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা