kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

টিস্যু কালচার

জুবায়ের আহমেদ   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিস্যু কালচার

যদি একই উৎস থেকে উৎপন্ন হওয়া কতগুলো কোষ কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করে, তবে তাকে টিস্যু বলে। টিস্যু কালচার হলো উদ্ভিদের কোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ থেকে কোনো টিস্যু জীবাণুমুক্ত অবস্থায় পুষ্টি মাধ্যমে বৃদ্ধি করা।

বিভাজনক্ষম অঙ্গ কোনগুলো? উদ্ভিদের শীর্ষমুকুল, কচি পাতা ইত্যাদি অঙ্গ বিভাজিত হতে পারে। আর সেই অংশ থেকেই তুমি টিস্যু কালচার করতে পারো। ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী মরগান বলেন যে প্রতিটি সজীব উদ্ভিদ কোষেরই পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতা হলো টটিপটেন্সি। আর টিস্যু কালচারের জনক হলেন গোটিল্যাব হ্যাবারল্যান্ডকে।

 

টিস্যু কালচার প্রক্রিয়া

এক্সপ্লান্ট নির্বাচন : এক্সপ্লান্ট হলো মাতৃউদ্ভিদের অংশ। অর্থাৎ যে উদ্ভিদের টিস্যু নিয়ে কালচার করতে চাও তার অংশ। এক্সপ্লান্ট হিসেবে সাধারণত উদ্ভিদের শীর্ষমুকুল এবং পার্শ্বমুকুল বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। এক্সপ্লান্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাতৃউদ্ভিদটি অবশ্যই নীরোগ ও সুস্থ হতে হবে। তুমি সহজেই চিন্তা করতে পারো, যদি রোগাক্রান্ত উদ্ভিদের টিস্যু নিয়ে কালচার করো, তাহলে ফলাফল ভালো হবে না। তাই সুস্থ-সবল উদ্ভিদ বেছে নিতে হবে।

আবাদমাধ্যম : আবাদমাধ্যমেই এক্সপ্লান্ট স্থাপন করা হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন—ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ ইত্যাদি এ মাধ্যমে থাকে। মিডিয়ামকে ঘন করতে অ্যাগার মেশানো হয়। মিডিয়ামের পিএইচ ৫.৫-৫.৮-এর মধ্যে রাখা হয়।  যখন আবাদমাধ্যম মৌলিক উপাদান সমৃদ্ধ হয়, তখন তাকে ব্যাসাল মিডিয়াম বলে।

জীবাণুমুক্তকরণ : আবাদমাধ্যমকে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। কারণ, আবাদমাধ্যমে পুষ্টি থাকে। ফলে জীবাণু জন্মাতেই পারে। মিডিয়ামটিকে টেস্টটিউবে ঢেলে মুখ বন্ধ করে অটোক্লেভ যন্ত্রে ১২১ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় ১৫ পাউন্ড চাপ প্রয়োগ করে ২০ মিনিট রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এভাবেই জীবাণুমুক্ত করতে হবে। তারপর টিস্যু নির্বীজ করে মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়।

ক্যালাস সৃষ্টি ও বৃদ্ধি : মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট স্থাপন করার পর মিডিয়ামযুক্ত পাত্রকে নির্দিষ্ট আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়। টিস্যু বারবার বিভাজিত হয়ে টিস্যুমন্ড বা অবয়বহীন অবিন্যস্ত টিস্যুগুচ্ছে পরিণত হয়। এগুলোই ক্যালাস। আর ক্যালাস থেকেই মুকুল সৃষ্টি হয়।

মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর : মুকুলগুলো মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হয়। ধীরে ধীরে মূল সৃষ্টি হয়, তারপর চারাগাছে পরিণত হয়।

প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর : মূলযুক্ত চারাগাছগুলোকে টবে বা ছোট ছোট পাত্রে রাখা হয়। তারপর মাঝেমধ্যে বাইরে রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো হয়। চারাগুলো পূর্ণাঙ্গ সজীব এবং সবল হলে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়। তখন তুমি সে চারা নিয়ে রোপণ করতে পারবে। 

টিস্যু কালচারের ব্যবহার

কিছু উদ্ভিদ আছে যেমন থুজা, সাগর কলা তাদের বীজ উৎপন্ন হয় না। সেসব উদ্ভিদে টিস্যু কালচার করে চারা উৎপাদন সম্ভব। আবার ভালো জাতের উদ্ভিদ থেকে টিস্যু কালচার করে সে উদ্ভিদের অসংখ্য চারা উৎপাদন করা সম্ভব। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সংকর উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়। যেমন আলু আর টমেটো উদ্ভিদের প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন করে পোমাটো নামের উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়েছে। মেরিস্টেম বা উদ্ভিদের শীর্ষমুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুতে কোনো রোগ-জীবাণু থাকে না। ফলে এ অংশের টিস্যু কালচার করে রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।

যে প্রশ্ন থাকতে পারে

টিস্যু কালচার কী? এ প্রযুক্তির ধাপ বর্ণনা করো।

ব্যাসাল মিডিয়াম কী? টিস্যু কালচার পদ্ধতির ব্যবহার ব্যাখা করো।

এক্সপ্লান্ট কী? পোমাটো কী? মেরিস্টেম কী? টিপটেন্সি কী?

 

বহু নির্বাচনী

আবাদমাধ্যমের পিএইচ কত? উত্তর : ৫.৫-৫.৮।

অটোক্লেভ যন্ত্রে কত তাপমাত্রায় জীবাণুমুক্ত করা হয়? উত্তর : ১২১ ডিগ্রি সে.।

আবাদমাধ্যমকে ঘন করতে কী মেশানো হয়? উত্তর : অ্যাগার

মন্তব্য