যুক্তরাজ্য সফরের অংশ হিসেবে লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে থাকার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রিন্স হ্যারি। ডিউক অব সাসেক্সের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই সফরে তিনি আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইনভিকটাস গেমসের প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং কয়েকটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রাসাদে অবস্থান করা হবে এই সফরেরই একটি অংশ হিসেবে। জানা গেছে, এবারের লন্ডন সফরে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে থাকছেন না তার স্ত্রী মেগান এবং তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেট। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, করদাতাদের অর্থে তাদের জন্য পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না- এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন না। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে ইনভিকটাস গেমসের প্রচারমূলক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মেগান, আর্চি ও লিলিবেট বার্মিংহামে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই সফরে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারির দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের দেখা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজা চার্লস ও এই দুই নাতি-নাতনির মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি।
আরো পড়ুন
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১৯, আহত শতাধিক
নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে ডিউক অব সাসেক্সের দীর্ঘদিনের বিরোধের শুরু ২০২০ সালে। ওই বছর তিনি রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর রয়্যাল অ্যান্ড ভিআইপি এক্সিকিউটিভ কমিটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, তিনি যেহেতু যুক্তরাজ্যে খুব কম আসবেন, তাই প্রতিটি সফরে আলাদা করে তার নিরাপত্তার প্রয়োজন মূল্যায়ন করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন প্রিন্স হ্যারি। এর আগেও তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরবেন না। ২০২৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি এমন কোনো পরিস্থিতি দেখছি না, যেখানে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আবার যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসব।’ প্রিন্স হ্যারি ও মেগান সর্বশেষ একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন ২০২২ সালে। তখন তারা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
এর পর থেকে প্রিন্স হ্যারি একাই যুক্তরাজ্যে একাধিকবার সফর করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এক সফরে তার বাবা রাজা চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।