• ই-পেপার

ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৩

যুক্তরাজ্যে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, স্টারমারের পদত্যাগের নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, স্টারমারের পদত্যাগের নেপথ্যে কী?
ছবি : আল-জাজিরা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। পদত্যাগের ঘোষনার মধ্য দিয়ে প্রায় ২৩ মাস লেবার পার্টি সরকারের নেতৃত্বের অবসান ঘটল স্টারমারের। তাতে গত এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে যুক্তরাজ্য। 

সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন।

সেই সাথে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকব এবং সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে সাধ্যমত সবকিছু করব বলে যোগ করেন তিনি।

তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকরা করতালিতে তাকে বিদায় জানান। স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম এর কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি হয়েছে।

কয়েক দিনের অনিশ্চয়তা এবং লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন স্টারমার। তবে এর আগ পর্যন্ত সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে থাকার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। 

বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একের পর এক পদত্যাগে অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়লেও,  শীর্ষ পদে বহাল থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। শেষতক চাপের মুখে পদত্যাগেই বাধ্য হলেন কিয়ার স্টারমার। তার এই পদত্যাগে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। 

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বড় জয় পান অ্যান্ডি বার্নহাম। এই জয়ই স্টারমারের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এর পরপরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে জটিল বিচ্ছেদ

সবকিছুর শুরু সম্ভবত ব্রেক্সিট থেকে। ২০১৬ সালের বিতর্কিত গণভোটে ব্রিটিশ ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়, যার প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ছয় বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল। ২০১৫ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ক্যামেরন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজন করবেন।

কনজারভেটিভরা নির্বাচনে জয়ী হয় এবং ক্যামেরন ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে যান। কিন্তু গণভোট তার প্রত্যাশামতো হয়নি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে ‘রিমেইন’ শিবিরে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয় পেলেও গণভোটে তার সমর্থিত 'রিমেইন' শিবির পরাজিত হয়।গণভোটের ফল প্রকাশের পর ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তিতেও বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্যবসাবান্ধব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী অবস্থান থেকে সরে গিয়ে জনতাবাদী ও ব্রেক্সিটপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

একই সময়ে কনজারভেটিভদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্রেক্সিট আন্দোলনকে সমর্থন করেন।

স্টারমার কেন পদত্যাগ করলেন

স্টারমারের পদত্যাগ আকস্মিক ছিল না। কয়েক মাস ধরে তার ওপর লেবার পার্টির ভেতরেই চাপ বাড়ছিল। তার নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট হয়ে মধ্য-বামপন্থী দলটির আইনপ্রণেতারা চাইছিলেন তিনি যেন ক্ষমতা হস্তান্তর করে দল ছেড়ে দেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে  ক্ষমতা গ্রহণ করে স্টারমার। তবে বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে দ্রুতই দলের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামে, যা মূলত এই অসন্তোষকে আরো বাড়িয়ে দেয়। 

উদারপন্থী বা লিবারেল ভোটাররা পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়ায় আরো উদ্বেগ বাড়ায় লেবার পার্টিতে । অনেক এমপি আশঙ্কা করছিলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে লেবার সরকার।

স্টারমারের সরকার বিভিন্ন বিতর্কেও জড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বন্ধু ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন স্টারমার। এ বিষয়ে তিনি কী জানতেন, কখন জানতেন এবং কী জানতেন না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  অভিবাসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি—এই দুটি বিষয়কে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সমালোচনা সত্ত্বেও, কিছু ক্ষেত্রে  প্রশংসাও অর্জন করেছিলেন স্টারমার। তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকাগুলোর মধ্যে ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় সমর্থন জোগাড় করা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব প্রশমনের প্রচেষ্টা।

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনের ফলই স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক স্থানীয় কাউন্সিল ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টের আসনের নির্বাচনে লেবার পার্টি খারাপ ফল করেছে। জনমতের সূচক হিসেবে বিবেচিত এসব নির্বাচন অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো।

লেবার পার্টির সাম্প্রতিক খারাপ নির্বাচনি ফলের কারণে দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক পদত্যাগ করেছেন এবং কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

শুরুতে স্টারমার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে লেবার পার্টির অন্তত দুজন প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী স্পষ্ট করে জানান, তারা দলীয় নেতৃত্বের জন্য তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। আর পার্লামেন্টে যে দলের আসন সবচেয়ে বেশি থাকবে, সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হবেন। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত লেবার পার্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে থাকবে।

এদিকে ব্রেক্সিটের অন্যতম রূপকার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ এই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়েছেন।

দুই প্রধান দলই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা ভোটারদের সামনে নিজেকে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। তার দল রিফর্ম ইউকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক দশকে ব্রিটেনে বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘটনা দেশটির ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক আনুগত্য এবং কার্যত দুই-দলীয় ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করে। এই পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষকে পুঁজি করে নাইজেল ফারাজ ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতির আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় উঠে আসতে পারেন।

জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান মোর ইন কমনের যুক্তরাজ্য পরিচালক লুক ট্রাইল বলেন, '২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচন মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ভোট ছিল। মানুষ বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো ও ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। আর এ কারণেই রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত আছে।’

স্টারমারের উত্তরসূরি কে হবেন

লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বার্নহাম মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের আসন নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম করেছেন। 

এছাড়া ওয়েস স্ট্রিটিংও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। প্রার্থী হতে হলে ৮১ জন লেবার পার্টির সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এরপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন হতে পারে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী

২০১৬ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। গড়ে প্রতি দেড় থেকে দুই বছর পরপরই নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে।  

ডেভিড ক্যামেরন ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন। তিনি ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ছিলেন। তবে গণভোটে পরাজিত হন। থেরেসা মে ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন। ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে ব্যর্থ হন তিনি। বরিস জনসন ২০২২ সালে পদত্যাগ করেন। একাধিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক চাপ তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। লিজ ট্রাস ২০২২ সালে পদত্যাগ করেন। তিনি মাত্র ৪৯ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ঋষি সুনাক ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।

সবশেষে পদত্যাগ করলেন কিয়ার স্টারমার।

বিদায়ে আবেগাপ্লুত স্টারমার, হতে চান সেরা স্বামী ও পিতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বিদায়ে আবেগাপ্লুত স্টারমার, হতে চান সেরা স্বামী ও পিতা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জন ছিল কয়েক দিন ধরেই। বিশেষ করে লেবার পার্টিতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম একটি আসনের উপনির্বাচনে জিতে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পর স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ভূমিধস জয় দিয়ে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়তে হচ্ছে তাকে। আর যুক্তরাজ্য সাত বছরে পেতে যাচ্ছে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে সঙ্গে নিয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কিয়ার। ঘোষণার শেষ দিকে তার গলা ধরে আসে, চোখ ছিল অশ্রুসজল। স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কিয়ার, ‘সুখে-দুঃখে অটল ভরসা হয়ে সে (ভিক্টোরিয়া) আমার পাশে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় চাকরি ছেড়ে এখন আমি আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে চাই। আমি আমার অসাধারণ সঙ্গী ভিক্টোরিয়ার পাশে থেকে সেরা স্বামী হতে চাই।’ 

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে স্টারমার ভুলে যাননি তার দুই সন্তানকেও, ‘একই সঙ্গে আমি সেরা পিতাও হতে চাই। তারাই আমার গর্ব এবং আনন্দ।’

এআইয়ের সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিপ নয়, বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিপ নয়, বিদ্যুৎ
ছবি : সংগৃহীত।

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রন ডিসান্টিস খরার সময় এআই ডেটা সেন্টারগুলোকে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার থেকে নিষিদ্ধ করেন। একই সঙ্গে তিনি এমন নিয়ম চালু করেন, যাতে ডেটা সেন্টারের কারণে সেবা সংস্থাগুলো অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পানির দরকার, তখন সেটি কিভাবে ডেটা সেন্টারে ব্যবহার হতে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি কাউন্টিতে প্রস্তাবিত একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। প্রায় ৬০০ জন মানুষ সভায় অংশ নিয়ে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। বাইরে আরো প্রায় ৩০০ জন ‘মানুষ আগে, মুনাফা নয়’ এবং  ‘আমরা পানি চাই’ স্লোগান দেন। এখন সব জায়গায় একই ধরনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ডেটা সেন্টারকে অনেকেই বিদ্যুৎ ও পানির অতিরিক্ত ব্যবহারকারী অবকাঠামো হিসেবে দেখছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে খুব কম আপত্তি দেখা গেলেও ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০টি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৭ জন আমেরিকান তাদের আশপাশে ডেটা সেন্টার নির্মাণ দেখতে চান না। এই পরিস্থিতিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও উঠে এসেছে, মহাকাশে কোনো সিটি কাউন্সিল, জোনিং বোর্ড বা পানি কর্তৃপক্ষ নেই এবং সেখানে প্রতিবেশীদের অভিযোগও নেই।

এদিকে মহাকাশ ভিত্তিক এআই ডেটা সেন্টার আসছে। এখানে এমন ৭টি স্টক রয়েছে যা থেকে প্রচুর লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ঢেউ ডেটা সেন্টারগুলোকে বিদ্যুৎ গ্রিড এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সীমার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে কম্পানিগুলো এখন কেবল দ্রুত কম্পিউটিং নিয়েই নয়, বরং পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়েও বেশি চিন্তিত হচ্ছে।

বৃহৎ আকারের এআই সিস্টেম চালানো ও প্রশিক্ষণ দিতে প্রচুর এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে এই চাহিদা অনেক দ্রুত বাড়ছে। এই কারণেই এখন কিছু বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহাকাশে এআই কম্পিউটিং সিস্টেম বা ডেটা সেন্টার স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

কক্ষপথে সূর্যের আলো প্রায় অবিরাম পাওয়া যায় এবং সেখানে শক্তির সরবরাহ অনেক বেশি স্থিতিশীল। পাশাপাশি পৃথিবীর মতো জমির সীমাবদ্ধতা, শীতলীকরণের জটিলতা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের চাপের মতো সমস্যাও সেখানে নেই। এই ধারণা অনুযায়ী, মহাকাশের ডেটা সেন্টারগুলো পৃথিবীর স্থলভাগের কেন্দ্রগুলোর বিকল্প হবে না। বরং ভবিষ্যতে যখন প্রযুক্তি ও অর্থনীতি আরো উন্নত হবে, তখন এটি বিশেষভাবে বেশি শক্তি-নির্ভর কম্পিউটিং কাজের জন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনার সামনে এখনো বড় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন উৎক্ষেপণের উচ্চ খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা এবং মহাকাশে যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। তবুও এর মূল যুক্তি হলো, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রমশ বিদ্যুৎনির্ভর হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে এর জন্য এমন স্থান খোঁজা হতে পারে যেখানে শক্তির সরবরাহ সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে এখন নতুন বড় বাধা হয়ে উঠছে সেমিকন্ডাক্টর নয়, বরং বিদ্যুৎ সরবরাহ। এআই মডেলগুলো যত বড় ও জটিল হচ্ছে, ততই সেগুলো চালাতে ও প্রশিক্ষণ দিতে বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে বড় বড় ডেটা সেন্টার চালানো প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই চাপের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিড অনেক ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কম্পানিগুলোকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, ভবিষ্যতের এআই অবকাঠামো কোথায় গড়ে তোলা হবে। এই পরিস্থিতিতে ‘মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার’ ধারণাটি আবার আলোচনায় এসেছে। ধারণাটি হলো, কক্ষপথে সূর্য থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন শক্তি পাওয়া যায়, যা পৃথিবীর মতো বিদ্যুৎ সংকট, জমির অভাব বা স্থানীয় বিরোধিতার সমস্যাগুলো কমিয়ে দিতে পারে।

এই মডেলে ডেটা সেন্টারগুলো মহাকাশেই এআই-এর কাজ সম্পন্ন করবে এবং শুধু ফলাফল পৃথিবীতে পাঠাবে। টেসলা প্রধান ইলন মাস্কও বলেছেন, ভবিষ্যতে এআই বিকাশে চিপের চেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হতে পারে বিদ্যুৎ। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি এবং প্রচলিত শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন না থাকায় কক্ষপথভিত্তিক কম্পিউটিং দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীর স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।

তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের উপায় হবে সৌরশক্তি চালিত এআই স্যাটেলাইট। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যবহার করে শত শত গিগাওয়াট থেকে ভবিষ্যতে এক টেরাওয়াট পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন শক্তি দরকার এমন এআই সিস্টেম তৈরি করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন বা প্রায় অসম্ভব হবে।
এই মন্তব্যগুলো এআই শিল্পে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শুধু উন্নত চিপই নয়, বরং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহও এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেনসেন হুয়াং মনে করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। তবে এআই কম্পিউটিংকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার ধারণা সম্পর্কে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক। হুয়াং মহাকাশভিত্তিক এআই কম্পিউটিংকে একটি “স্বপ্ন” হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক এআই সার্ভার র্যাকগুলোতে কম্পিউটিং যন্ত্রাংশের পাশাপাশি শীতলীকরণ (কুলিং) ব্যবস্থারও বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ এআই অবকাঠামোর আকার যত বড় হয়, তাপ নিয়ন্ত্রণ বা থার্মাল ম্যানেজমেন্ট তত বেশি জটিল হয়ে ওঠে। তার মতে, এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মহাকাশে বড় আকারের এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা সহজ হবে না।

এদিকে আইবিএম-এর সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণ যুক্তি দিয়েছেন, এআই পরিকাঠামো খাতে ব্যয়ের বর্তমান গতিপথ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে।প্রমাণিত এআই রাজস্বের চেয়ে এআই পরিকাঠামোতে ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তার উদ্বেগ, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ গিগাওয়াট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অবকাঠামোগত খরচ শেষ পর্যন্ত ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং  বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যে ভবিষ্যতের মুনাফা এই বিনিয়োগগুলোকে সার্থক প্রমাণ করবে। ব্যবসায়িক দিকটি এখনও অনিশ্চিত।

এর মানে এই নয় যে, এআই-এর চাহিদা ভুয়া, বরং এর অর্থ হলো পরিকাঠামো নির্মাণের তুলনায় অর্থায়ন পিছিয়ে থাকতে পারে। এই সেই ক্ষেত্র যেখানে আশাবাদী এবং সংশয়বাদী উভয়ই মূলত একমত। এই শিল্পের সীমাবদ্ধতা ক্রমশ চিপস (২০২৩ সালে) থেকে বিদ্যুতের (২০২৬ সালে) দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে ডেটা-সেন্টারের প্রসারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহই প্রধান সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে। গ্রিড আপগ্রেড, সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া কৌশলগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

আমিরাতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
আমিরাতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালু করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচে কেউ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না।

এই নিয়ম বাস্তবায়নে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং এক্সকে ১২ মাস সময় দেওয়া হয়েছে তাদের সিস্টেম পরিবর্তন করার জন্য। এই সময়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে বয়স যাচাইব্যবস্থা আরো কঠোর করতে হবে এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন বন্ধ বা সীমিত করতে হবে। যদি তারা এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশাসনিক শাস্তি ও দেশে কার্যক্রম সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগে থেকেই যেসব শিশুর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো কী হবে বা তারা কি অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লগইন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্ল্যাটফর্মগুলোকে যা করতে হবে

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং এক্সকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে। এর মধ্যে সরকারি ডিজিটাল আইডি, বায়োমেট্রিক যাচাই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স অনুমান পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া যাবে না এবং বয়স লুকিয়ে রাখার বা নিয়ম এড়ানোর চেষ্টা হলে তা শনাক্ত ও বন্ধ করতে হবে। প্ল্যাটফর্মগুলোকে অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছতা রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও মানতে হবে।

১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার সীমা, স্ক্রিন-টাইম নিয়ন্ত্রণ, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করা, মেসেজিং ও লাইভস্ট্রিমিংয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালগরিদমিক সুপারিশ সীমিত করার মতো ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

শাস্তি

নিয়ম ভাঙলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্তে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার তালিকা উল্লেখ করা হয়নি। বরং শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত ডিজিটাল কাঠামোর অধীনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।

এই নিয়ম বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির জাতীয় গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ এবং টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সরকার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে। এই দুই সংস্থা নিয়ম না মানলে সতর্কবার্তা দেওয়া, আংশিক বা পুরোপুরি প্ল্যাটফর্ম ব্লক করা, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করার ক্ষমতা পাবে। তবে এসব ব্যবস্থা ধাপে ধাপে  প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট

বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলো আর অনুমোদিত হবে না। তাদের অ্যাকাউন্টগুলো অবশ্যই প্ল্যাটফর্মগুলোকেই নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ১৫ থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা অ্যাক্সেস রাখতে পারবে, তবে শুধু উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থার অধীনে। অফিশিয়াল গেজেটে এই প্রস্তাবনাটি প্রকাশের পর প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সিস্টেমগুলো অভিযোজিত করতে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার জন্য ১২ মাস পর্যন্ত একটি রূপান্তরকালীন সময় দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অনেক শিশু ইতিমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। তাই হঠাৎ করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত নির্দেশনা এবং পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক উপকরণ, গাইডলাইন এবং স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার টুলস দেওয়া হবে।

শিশুদের জন্য বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বয়স উপযোগী নিরাপদ ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহার এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিকাশমূলক কার্যক্রমের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা, যাতে তারা ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার

এই প্রস্তাবনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আগেই থাকা কিছু বিকল্প ব্যবহার ঠেকানো যায়। এতে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমন অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও বন্ধ করতে হবে, যেগুলো নিয়ম ভেঙে ব্যবহার করা হচ্ছে, এর মধ্যে শিশুদের এমন অ্যাকাউন্টও আছে যেগুলো তারা বাবা-মা বা অভিভাবকের প্রোফাইল ব্যবহার করে চালাচ্ছে।

এই কাঠামোতে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর, যাতে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বাড়িতে অভিভাবকরাও দায়িত্বশীল থাকবেন যাতে শিশুদের জন্য তৈরি সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজে ভাঙা না যায়। এ ছাড়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিও এই নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে না।

কোনো ট্র্যাকিং বিজ্ঞাপন নয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের লক্ষ্য করে ট্র্যাকিং-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও আচরণভিত্তিক প্রোফাইলিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, শুধু বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলো যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের ডেটা ব্যবহার করে আয় করে আসছে, সেটিও বন্ধ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালাতে হলে ন্যূনতম তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তা নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে না।

এ ছাড়া সরকারি ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক মিলকরণ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স অনুমান, এই পদ্ধতিগুলো গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া শুধু ব্যবহারকারীর নিজের বলা বয়স গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিশু বা পরিবারের গোপনীয়তা লঙ্ঘন না করে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এই প্রস্তাব গেজেটে প্রকাশের পর কার্যকর হবে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন নিয়ম মানতে ১২ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে কর্তৃপক্ষ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন কাঠামো ও প্রয়োগ পদ্ধতি ঘোষণা করবে।