• ই-পেপার

মার্কিন হামলায় নিহত ভারতীয় ৩ নাবিকের মরদেহ উদ্ধার

একটি এআই ডেটা সেন্টার কী পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে

অনলাইন ডেস্ক
একটি এআই ডেটা সেন্টার কী পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে টেক জায়ান্ট কম্পানিগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বড় ডেটা অবকাঠামো তৈরি করতে দৌড় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল আকারের হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি ও পরিচালনা করছে।

তবে নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই ডেটা সেন্টারগুলো শুধু প্রযুক্তি নয়, আশপাশের পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে এর কারণে স্থানীয় এলাকার মাটির তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

আশপাশের এলাকায় বাড়ছে তাপমাত্রা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ডেটা সেন্টারের আশপাশের জমির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিছু এলাকায় এই বৃদ্ধি ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। গবেষকরা এই ঘটনাকে ‘ডেটা হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব বলে উল্লেখ করেছেন। এটি অনেকটা শহরের ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের মতো, যেখানে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে।

এআই ডেটা সেন্টার কী এবং কেন এত বিদ্যুৎ লাগে?

চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা ক্লডের মতো এআই ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীর অনুরোধ চলে যায় ডেটা সেন্টারে। এই ডেটা সেন্টার হলো বিশাল আকারের সার্ভারভিত্তিক কম্পিউটার কেন্দ্র। এসব সার্ভার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। এআই মডেল চালাতে শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করা হয়, যা একই সঙ্গে হাজার হাজার হিসাব করতে পারে। ফলে সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভারের তুলনায় এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, যা বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে এই ব্যবহার বছরে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৪৫ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।

হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার কী?

সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টারগুলোকে বলা হয় হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার। এগুলো সাধারণত বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো তৈরি করে। একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারে সাধারণত অন্তত পাঁচ হাজার সার্ভার থাকে এবং এটি কমপক্ষে দশ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে থাকে। এ ধরনের একটি কেন্দ্র চালাতে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাগে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে কয়েক লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব।

তাপ ও পানির বড় ব্যবহার

এত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রচুর তাপ তৈরি হয়। এই তাপ নিয়ন্ত্রণে উন্নত কুলিং বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ পানি লাগে। যুক্তরাজ্য সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ২৫০ কোটি লিটার পানি ব্যবহার করতে পারে। এই পানি দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের এক বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের দ্রুত বৃদ্ধি

২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বে ১১ হাজার ৬০০টির বেশি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ডেটা সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে ৪ হাজার ৩০০টির বেশি কেন্দ্র রয়েছে। ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। এশিয়ায় চীন ও ভারত দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড পরিষেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭০০ থেকে বেড়ে প্রায় ১,৩০০-এর বেশি হয়েছে।

ডেটা সেন্টারের কারণে স্থানীয় উষ্ণতা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা গড়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই প্রভাব প্রায় দশ কিলোমিটার পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে। গবেষকরা নাসার স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা ১১ হাজারের বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থান মিলিয়ে দেখেছেন এবং ছয় হাজারের বেশি কেন্দ্রের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ০.৩ ডিগ্রি থেকে নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, দশ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে পড়তে পারেন।

পরিবেশ ও জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

গবেষকদের মতে, এই 'ডেটা হিট আইল্যান্ড' প্রভাব স্থানীয় পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি, পানির সংকট এবং তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বিশাল বিনিয়োগ

বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চারটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি- মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট ও মেটা মিলিয়ে  ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোতে প্রায় ৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

মেটার ২৭ বিলিয়ন ডলারের হাইপারিয়ন ক্যাম্পাস
মাইক্রোসফটের ২০ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ
অ্যামাজনের ২৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ
গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ডেটা সেন্টার প্রকল্প
ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের বৃহৎ এআই সুপারক্লাস্টার প্রকল্প

বিরল ডিএমডি রোগের চিকিৎসায় নতুন আরএনএ প্রযুক্তি, বড় সাফল্য চীনা গবেষকদের

অনলাইন ডেস্ক
বিরল ডিএমডি রোগের চিকিৎসায় নতুন আরএনএ প্রযুক্তি, বড় সাফল্য চীনা গবেষকদের
সংগৃহীত ছবি

চীনের গবেষকরা ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি (ডিএমডি) নামের একটি গুরুতর ও বিরল রোগের চিকিৎসায় নতুন ধরনের আরএনএ সম্পাদনা প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিপার’।

বুধবার বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘সেল’-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ডিএমডি রোগের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চীনে তৈরি কোনো আরএনএ সম্পাদনা প্রযুক্তি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিশ্বে প্রথমবারের মতো এই রোগের চিকিৎসায় আরএনএ সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলো।

কী এই ডিএমডি রোগ?

ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি (ডিএমডি) একটি জিনগত রোগ। এই রোগে ধীরে ধীরে শরীরের পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্ষয় হতে থাকে। ফলে রোগীর নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে যায়। সাধারণত শিশু বয়সেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীরা হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বা হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে রোগীর অকালমৃত্যু ঘটে। বিশ্বে ডিএমডি একটি বিরল রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও, চীনে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে এই রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসা আছে, তবে তা রোগ পুরোপুরি সারাতে পারে না। প্রচলিত চিকিৎসা শুধু রোগের বৃদ্ধি কিছুটা ধীর করতে পারে। 

চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জ কেন?

ডিএমডি রোগটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য খুব জটিল একটি রোগ হিসেবে ধরা হয়। এর মূল কারণ হলো, এই রোগের জন্য দায়ী জিনটি খুব বড়। ফলে প্রচলিত জিন থেরাপির মাধ্যমে পুরো জিন শরীরে প্রবেশ করানো কঠিন। এছাড়া রোগীদের মধ্যে সাত হাজারেরও বেশি ধরনের জিনগত পরিবর্তন পাওয়া যায়। তাই এক ধরনের চিকিৎসা সব রোগীর জন্য কার্যকর হয় না। এই কারণে দীর্ঘমেয়াদি এবং বেশি মানুষের জন্য কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

নতুন প্রযুক্তি 'লিপার' কীভাবে কাজ করে?

এই নতুন আরএনএ সম্পাদনা প্রযুক্তি তৈরি করেছে বেইজিংয়ের চ্যাংপিং ল্যাবরেটরি এবং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষক দলের প্রধান ওয়ে ওয়েনশেং জানান, ‘লিপার’ প্রযুক্তি পেশির কোষে থাকা ভুল জিনগত নির্দেশনা খুব নির্ভুলভাবে খুঁজে বের করতে পারে। এরপর সেই ভুল অংশ সংশোধন করা হয়। এতে কোষ আবার সঠিক প্রোটিন তৈরি করতে পারে, যা পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, এতে শরীরে আলাদা করে কোনো সম্পাদনা এনজাইম প্রবেশ করাতে হয় না। বরং বিশেষভাবে তৈরি একটি আরএনএ অংশ ব্যবহার করে শরীরের নিজস্ব এনজাইমকে কাজে লাগানো হয়। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট আরএনএ খুব নিখুঁতভাবে সংশোধন করা সম্ভব হয়। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ, নিরাপদ এবং শরীরে কম চাপ সৃষ্টি করে।

গবেষণা ও প্রাথমিক ফলাফল

এই গবেষণায় চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে কুনমিং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় তিনজন শিশু রোগীকে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে তিনজন রোগীরই শারীরিক নড়াচড়ার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ও স্থায়ী উন্নতি দেখা গেছে। চ্যাংপিং ল্যাবরেটরির পরিচালক এবং চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য শিয়ে শিয়াওলিয়াং বলেন, এই প্রযুক্তি দেখিয়েছে যে মৌলিক গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো অনেক গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগী উপকৃত হতে পারবেন।

ডিএমডির মতো জটিল জিনগত রোগের চিকিৎসায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ এটি শুধু রোগ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং রোগের মূল কারণকে লক্ষ্য করে কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে প্রয়োগের আগে আরো গবেষণা ও পরীক্ষা প্রয়োজন। 

জর্দানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা ও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
জর্দানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা ও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি : রয়টার্স

ইরানের ওপর মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জর্দানে অবস্থিত মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার এ দাবি করেছে। 

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স আল-আজরাক বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বর্ণিত স্থানগুলোতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় ঘাঁটির স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি সেখানে মোতায়েন থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

আইআরজিসি বলেছে, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ ও নাজারাবাদের নিকটবর্তী একটি বিনোদন কেন্দ্র, একটি শিল্প কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন এলাকা এবং পিশভা কাউন্টিতে অবস্থিত একটি স্থানীয় বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরো বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ‘শত্রু আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ তাদের বাহিনীর অভিযান চলবে।

এর আগে আইআরজিসি জানায়, কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে অবস্থিত ১৮টি প্রধান মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বাহরাইনে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে হামলার কথাও ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং এর ফলস্বরূপ অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর দ্রুত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটল।

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা
ছবি: রয়টার্স

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষ আবার চাঁদে ফেরার স্বপ্ন দেখে আসছে। তবে এবার লক্ষ্য শুধু চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা নয়। বিজ্ঞানীরা সেখানে গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য চাঁদকে একটি যাত্রা ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে নাসা। সংস্থাটি আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। নাসা এই দলকে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচি নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানো এবং ভবিষ্যতে আরো গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা।

আর্টেমিস-৩ কী?

অনেকের ধারণা ছিল, আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবে। তবে নাসা এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং এটি হবে একটি বড় ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মিশনের সময় প্রায় দুই সপ্তাহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করবে নভোচারীরা। সেখানে বিভিন্ন মহাকাশযান ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ, সমন্বয় এবং পরিচালন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। নাসা চায়, ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের আগে সব প্রযুক্তি বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?

এই মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানকে ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে কক্ষপথে একাধিক মহাকাশযান নিরাপদভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে ব্যবহার হবে বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের প্রযুক্তি।  বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-৩ ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে। আর্টেমিস-২ এবং চাঁদে অবতরণ মিশনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে এটি। নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর চেষ্টা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

কারা থাকছেন আর্টেমিস-৩ দলে?

চার সদস্যের এই দলে রয়েছে অভিজ্ঞ মহাকাশচারী, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার রেকর্ডধারী, একজন নতুন নভোচারী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধি। মিশনের নেতৃত্ব দেবেন র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর সাবেক কর্নেল এবং একজন অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে তিনি ১৫০ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন। দলের পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মহাকাশচারীদের একজন। আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারীও তিনি। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। তিনি টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে অবস্থান করে একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস। তিনি একজন প্রকৌশলী, রোবট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা। এটি হবে তাঁর প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ।

নাসার মতে, ভবিষ্যতে চাঁদের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ কেন?

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান আর্টেমিস-৩ দলের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ (আর্থস ফার্স্ট স্টারফ্লিট) কথাটি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে মহাকাশ অনুসন্ধান শুধু একটি দেশের সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা একসঙ্গে কাজ করছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচিও এই বৈশ্বিক সহযোগিতার ফল। স্পেসএক্স চাঁদে মানুষের অবতরণের জন্য স্টারশিপ প্রযুক্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে ব্লু অরিজিনও নিজেদের অবতরণযান উন্নয়নের কাজ করছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও নভোচারী দিয়ে এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে।

চন্দ্র পোশাকে 'প্রাডা'?

সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের চন্দ্র পোশাক তৈরিতে ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'প্রাডা'র সম্পৃক্ততার খবর আলোচনায় আসে। তবে বিষয়টি ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রাডা সরাসরি নাসার জন্য পোশাক তৈরি করছে না। তারা নাসার চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিয়ম স্পেস'কে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রাডা উন্নত কাপড়, বিশেষ উপকরণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করছে। এই সহযোগিতার ফল হিসেবে তৈরি হয়েছে নতুন অ্যাক্সইএমইউ স্পেসস্যুট। নতুন এই পোশাক নভোচারীদের চাঁদের চরম তাপমাত্রা, ধুলা ও বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেবে। এতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থাও রয়েছে। পোশাকের ভেতরে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পানির প্রবাহের মাধ্যমে নভোচারীদের শরীর ঠান্ডা রাখা হবে।

চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে

আর্টেমিস-৩ মিশনের ঘোষণা এসেছে আর্টেমিস-২ এর সফলতার পর। ২০২৬ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। সেই মিশন প্রমাণ করে, নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান গভীর মহাকাশে মানুষকে নিরাপদে বহন করতে সক্ষম। এখন আর্টেমিস-৩-এর দায়িত্ব হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশযান ও প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, তা প্রমাণ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাপটি চাঁদে অবতরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপোলো কর্মসূচি প্রমাণ করেছিল মানুষ চাঁদে পৌঁছাতে পারে। আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেখানো যে মানুষ সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, ঘাঁটি তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে। তাই আর্টেমিস-৩ চাঁদে না নামলেও এর গুরুত্ব কম নয়। বরং এই মিশনের সফলতা নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ,  মহাকাশ গবেষণা এবং মঙ্গল অভিযানের পথ।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, মানুষ আবার চাঁদে ফিরবে। আর সেই পথ ধরেই একদিন শুরু হতে পারে মঙ্গল গ্রহে মানুষের যাত্রা।