• ই-পেপার

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন লেবানিজ সেনা নিহত

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে হেবরন শহরের দক্ষিণে তেল রুমিদা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় তার বাবা-মাও আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ খবর খবর জানিয়েছে। 

মন্ত্রণালয় শিশুটির নাম স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল বলে শনাক্ত করেছে এবং জানিয়েছে, শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। তার বাবা-মা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শিশুটির দাদি জানিয়েছেন, পরিবারটি চেকপয়েন্ট ১৭-এর কাছে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দূরে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সৈন্যদের দেখতে পেয়ে গাড়ি থামিয়ে দেয়। 

তিনি জানান, গাড়ি থামানোর পরেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে তারা মনে করেছিল, সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি গুলি আমার নাতিকে আঘাত করে। এরপর তার মুখ ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে মায়ের গালে গিয়ে বিদ্ধ হয়।’ 

তিনি আরো জানান, গুলিটি বাবার হাতেও আঘাত করেছে এবং মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার হেবরন এলাকায় অভিযান চলাকালীন সৈন্যরা তাদের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি গাড়ি দেখতে পায় এবং একজন সৈন্য গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আহত ব্যক্তিদের ‘সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কহীন বেসামরিক নাগরিক’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা আরো বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তেল রুমেইদা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। হেবরন শহরের এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কঠোর সামরিক নিরাপত্তার মধ্যে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের পাশাপাশি বসবাস করে। ফলে এলাকাটি প্রায়ই সহিংসতা ও সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৭ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করেন। এই বসতিগুলোকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতি কাটল, সতর্কতা তুলে নিল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতি কাটল, সতর্কতা তুলে নিল নাসা
ছবি : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বায়ু লিকের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠায় গতকাল শুক্রবার পাঁচ মহাকাশচারীকে প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং প্রয়োজনে স্টেশন ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, স্টেশনের রাশিয়ান অংশে একটি ফাটল মেরামতের কাজ চলাকালে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৯টা ৪ মিনিটে নাসার মিশন কন্ট্রোল স্টেশনে থাকা ক্রু-১২ মিশনের চার সদস্যকে তাদের ডক করা স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানে প্রবেশের নির্দেশ দেয়। এই চারজনের মধ্যে ছিলেন দুই মার্কিন মহাকাশচারী, একজন ফরাসি মহাকাশচারী এবং একজন রুশ মহাকাশচারী।

তাদের সঙ্গে স্টেশনে থাকা আরো একজন মার্কিন মহাকাশচারীকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত স্টেশন ত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নাসার ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় এবং মহাকাশচারীদের আবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এ সময় নাসা ও রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস বায়ু লিকের মাত্রা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছিল।

গত কয়েক মাস ধরে নাসা ও রসকসমস স্টেশনের রাশিয়ান অংশে থাকা জেভেজদা সার্ভিস মডিউলে দেখা দেওয়া ছোট ছোট বায়ু লিকের কারণ এবং তা মেরামতের উপায় নিয়ে আলোচনা করে আসছে। এই মডিউলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে মহাকাশচারীরা বসবাস ও কাজ করেন।

শুক্রবার রসকসমস জানায়, তাদের বিশেষজ্ঞরা স্টেশনে দুটি বায়ু লিক শনাক্ত করেছেন। তবে এগুলো থেকে ক্রু সদস্যদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই। সংস্থাটি আরো জানায়, একটি লিক দ্রুত বন্ধ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি বন্ধ করার প্রস্তুতি চলছে। রসকসমসের মতে, এই লিকগুলোর কারণে মহাকাশযান বা স্টেশনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম বর্তমানে হুমকির মুখে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বায়ু লিকের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং লিকের হার প্রতিদিন প্রায় ১ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ পাউন্ডে পৌঁছে যায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দুটি পৃথক মিশনের মোট সাতজন মহাকাশচারী অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে স্টেশনে পৌঁছানো ক্রু-১২ দলের চার সদস্য রয়েছেন।

এই শক্তি সদস্যরা নাসার মহাকাশচারী জেসিকা মেইর ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারী সোফি অ্যাডেনোট এবং মহাকাশচারী সংস্থা মহাকাশচারী কসমস-এর মহাকাশচারী আন্দ্রে ফেডিয়ায়েভ। বায়ু লিকের ঘটনা নিয়ে নাসা ও রসকসমস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

স্টেশনে থাকা অন্য দলের সদস্যরা হলেন মার্কিন মহাকাশচারী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস এবং রুশ মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সভারচকভ এবং সের্গেই মিকায়েভ। তারা গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন।

নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, কুদ-সভারচকভ ও মিকায়েভকে জরুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হয়নি। বরং তারা একটি করাত ব্যবহার করে এমন একটি অংশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছিলেন, যেখানে বায়ু লিকের উৎস হিসেবে সন্দেহ করা ফাটলটি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

তবে নাসার কর্মকর্তারা এই পদ্ধতির সঙ্গে একমত ছিলেন না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল কেন্দ্র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মহাকাশচারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স জানান, রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ফাটল মেরামতের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর নাসা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় এবং মহাকাশচারীদের আবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

স্টিভেন্স বলেন, ‘বায়ু লিকের সমস্যা সমাধানে আমরা রসকসমসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ইতিহাসে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ খুবই বিরল ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বা বায়ু লিকের হারের পরিবর্তনের কারণে কয়েকবার এমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও ২৭ বছরের ইতিহাসে কখনোই মহাকাশচারীদের স্টেশন পুরোপুরি ত্যাগ করতে হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালু রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বেসরকারি কম্পানিগুলোকে স্টেশনের বিকল্প অবকাঠামো তৈরির জন্য আরো সময় দেওয়া।

এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। তারা যথাক্রমে মার্কিন সিনেটের বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও পরিবহন কমিটির চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সদস্য। আইনপ্রণেতাদের মতে, মহাকাশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নেতারা বিলটি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো হুমকি সৃষ্টি করার আগেই সেগুলো ভূপাতিত করা হয়। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড স্টেড কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি তারা ভূপাতিত করেছে। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ পর্যন্ত মার্কিন সেনা সদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরানের যে দাবি, তা সঠিক নয়।’

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং অঞ্চলটিতে নিজেদের সদস্য ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা ‘এরোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি তাসনিম এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে সেগুলোর কোনোটিই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে উৎক্ষেপণ করা চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও বৃহত্তর তুনব এলাকার উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথাও জানায় তারা। 

এদিকে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার ওমান উপসাগরে তারা মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য নৌযানকে হয়রানি করছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি অস্বীকার করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের জেবডিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে একজন ছিলেন প্যারামেডিক। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে অন্তত এক ডজন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
 

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন
ছবি : রয়টার্স

দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার অনুরোধ করার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না। চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরও ছিল। এর জবাবে পুতিন চিঠিটিকে ‘অভদ্র’ বলে মন্তব্য করেন এবং বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। 

তিনি আবারও বলেন, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না।

জবাবে পুতিন বলেন, ‘আপাতত এর কোনো অর্থ আমি দেখি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি কি সত্যিই মুখোমুখি বৈঠকের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা ছিল, নাকি বৈঠক এড়ানোর একটি উপায় ছিল? আমার মনে হয়, এটি দ্বিতীয়টিই ছিল।’ পুতিনের এই মন্তব্যের পর জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ‘রাশিয়া আবারও যুদ্ধের পথই বেছে নিচ্ছে।’

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান না। আমার মনে হয়, এই উত্তরে বিশ্বের অনেক মানুষ হতাশ হয়েছেন।’  জেলেনস্কির চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে, কিন্তু মস্কোর উত্থাপিত শর্তগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

পুতিনের ভাষায়, ‘ইউক্রেন যদি আমাদের সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা থামাতে চায়, তাহলে শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। আমাদের তিন বা ছয় মাসের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, বিশেষজ্ঞদের আগে সমাধানের পথ বের করতে দেওয়া উচিত। এরপর দুই পক্ষ বৈঠকে বসতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়া তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারলেই যুদ্ধ শেষ করবে। তিনি বলেন, ‘সামরিক অভিযান একদিন অবশ্যই শেষ হবে। তবে আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, তা অর্জিত হলেই এর সমাপ্তি ঘটবে।’

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবি, ইউক্রেনকে ডোনেটস্ক ওব্লাস্ট, লুহানস্ক ওব্লাস্ট, খেরসন ওব্লাস্ট এবং জাপোরিঝিয়া ওব্লাস্ট অঞ্চল থেকে সামরিক প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়াও দেশটি ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনাও ত্যাগ করতে হবে।

তবে ইউক্রেন এসব শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়াকে কোনো ভূখণ্ডগত ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তারা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। ইউক্রেন মনে করিয়ে দিয়েছে, ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পরই রাশিয়া ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।

চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়সের প্রভাব এখন পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে।’ তিনি সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে বৃহস্পতিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে চালানো একটি হামলাকে তিনি ব্যঙ্গ করে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে বর্ণনা করেন।

এর জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠিতে বেশ কিছু অভদ্র মন্তব্য ছিল। তবে জেলেনস্কির এই চিঠি কিছু মহলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশা তৈরি করেছিল। এমনকি হোয়াইট হাউস থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘দুই নেতা যদি সরাসরি বৈঠকে বসেন, তাহলে সেটি দারুণ হবে।’

এদিকে ইউক্রেন শুক্রবার দাবি করেছে, তারা আজভ সাগর এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন উপকূলীয় জলসীমায় অবৈধ পণ্য বহনকারী পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি বলেন, ওই জাহাজগুলো ইউক্রেনের শস্য চুরি এবং জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগরে দুটি জাহাজে হামলায় আজারবাইজানের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য তারা কাউকে দায়ী করেনি এবং জানিয়েছে, জাহাজ দুটি আজারবাইজানের মালিকানাধীন ছিল না।

এদিকে গত এক দিনে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার একাধিক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরো ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাজধানী কিয়েভের বাইরে একটি দুগ্ধ কারখানায় হামলায় চারজন নিহত হন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন শহরে একটি পেট্রোল স্টেশনে ড্রোন হামলায় ৩৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।