• ই-পেপার

ট্রাম্পের হুংকার

‘আজ রাতেই ইরানি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’

‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে আফ্রিকা

অনলাইন ডেস্ক
‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে আফ্রিকা
সংগৃহীত ছবি

আসন্ন ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো আফ্রিকার অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এএফডিবি)।

সংস্থাটির জলবায়ু পরিবর্তন ও সবুজ প্রবৃদ্ধিবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি নিয়ং বলেছেন, এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি খরা, খাদ্যসংকট ও জীবিকার সংকটের কারণে ব্যাপক গণঅভিবাসনের আশঙ্কাও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্থনি নিয়ং বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকলে এবারের এল নিনো ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভয়াবহ বন্যা ও শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। 

তিনি বলেন, এই একটিমাত্র জলবায়ুগত ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।

এএফডিবির হিসাবে, চলতি বছর আফ্রিকার কৃষকেরা ইতোমধ্যে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার আয়ের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ঝড়ের কারণে মৎস্য খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অ্যান্থনি নিয়ংয়ের ভাষায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে দেয় এবং অনেক সরকার দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ কমাতে বাধ্য হয়।

২০২৩-২৪ সালের এল নিনোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র খরা এবং পূর্ব আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক পরিমাণে ফসলের ক্ষতি, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় অ্যান্থনি নিয়ং সতর্ক করে বলেন, সাহেল অঞ্চলের চলমান খরা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক বছর সময় লাগতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে প্রায় ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। অথচ ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ছিল মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলার। 

এ বিষয়ে অ্যান্থনি নিয়ং বলেন, সম্ভাব্য ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে আফ্রিকার চলতি বছরই প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

এএফডিবি মনে করছে, সুদান, দক্ষিণ সুদান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সোমালিয়া, মালি, বুরুন্ডি ও নাইজেরিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতিরা

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতিরা
ছবি : রয়টার্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা রাতের আঁধারে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেন নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি।

তিনি জানান, বসতি স্থাপনকারীরা শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে যায় এবং পাথরের কাঠামোরও ক্ষতি হয়।

এছাড়াও হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায় বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুলকারেম শহরের কাছে কুর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। সেখানে মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর একদিন আগে, গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ ফিলিস্তিনি ও ২ ইসরায়েলি নিহত হন।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়াকে ৩০ হাজার সেনা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, জেলেনস্কির দাবি
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে উত্তর কোরিয়া থেকে আরো ৩০ হাজার সৈন্য আনার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার (২৫ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় এই দাবি করেন। তিনি জানান, এই নতুন সেনাদের অভ্যর্থনা ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য মস্কো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, ২০২৪ সালে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া প্রথম দফায় প্রায় ১৪ হাজার সৈন্য রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে পাঠিয়েছিল। এবার তাদের সৈন্য সংখ্যা আরো ৩০ হাজার বাড়াতে চাইছে ক্রেমলিন। জেলেনস্কির মতে, নতুন আসা এই সেনাদের গ্রহণ করার জন্য রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে চলতি বছরের জুন মাস থেকেই প্রস্তুতি চলছে। সৈন্য পাঠানোর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক (লঞ্চার) সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই অংশগ্রহণ শুধু ইউক্রেনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র এশিয়ার জন্য এক বড় হুমকি। কারণ, যুদ্ধের ময়দানে উত্তর কোরিয়া বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং তাদের অস্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটাচ্ছে। এতে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র সীমার মধ্যে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি। ইউক্রেনও এই সম্মিলিত হুমকির উপযুক্ত জবাব দেবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন জেলেনস্কি।

স্বামীর চেয়ে আয় বেশি হলে খোরপোশ নয়—বোম্বে হাইকোর্টের রায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
স্বামীর চেয়ে আয় বেশি হলে খোরপোশ নয়—বোম্বে হাইকোর্টের রায়
প্রতীকী ছবি

স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করেন, এমন এক নারীর অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। আবেদনকারী নারী ২০১১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। সেখানকার উচ্চ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি তার স্বামীর কাছে মাসে এক লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ চেয়েছিলেন। কিন্তু বোম্বে হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ ব্যয় অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ পাওয়ার যুক্তি হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ। তারচেয়ে বড় কথা হলো, আবেদনকারী নারী মাসে ৮ লাখ রুপি (৮ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার) আয় করেন, যা তার স্বামীর আয়ের চেয়ে ঢের বেশি।

আলোচিত দম্পতির দুজনই আইটি প্রফেশনাল। আবেদনকারী নারী যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নয়াদিল্লিভিত্তিক আইটি সলিউশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্ক ইনফোটেক’-এ কাজ করছেন। তার স্বামী কাজ করেন ভারতে। ২০১৮ সাল থেকে পুনের একটি পারিবারিক আদালতে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা চলছে। 
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালে পুনের পারিবারিক আদালত তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদনটি আংশিকভাবে মঞ্জুর করেন এবং তাদের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ডিক্রি জারি করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দম্পতির বড় সন্তান বাবার হেফাজতে আর ছোট সন্তান মায়ের হেফাজতে রয়েছে।

পুনের পারিবারিক আদালত মামলার খরচ বাবদ স্ত্রীকে ২৫ হাজার রুপি দেওয়ার জন্য স্বামীকে আদেশ দিয়েছেন। তবে আদালত নারীর স্থায়ী খোরপোশের দাবিটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। পারিবারিক আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং স্থায়ী খোরপোশের দাবি নিয়ে সেই নারী পরবর্তীতে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্টে আপিলটি বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই আবেদনকারী অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ হিসেবে প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ সম্প্রতি সে আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।

আবেদনকারী নারীর প্রধান যুক্তি ছিল, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করেন এবং সেখানে জীবনযাত্রার অত্যন্ত উচ্চ ব্যয় ও সন্তানের পড়াশোনার খরচের কারণে তিনি তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেন, আবেদনকারী নারীর জমা দেওয়া বেতনের নথি থেকেই প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি তার স্বামীর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি, কেবল এই অজুহাত দেখিয়ে উচ্চ উপার্জনকারী কোনো পেশাদার ব্যক্তি খোরপোশ দাবি করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব জীবনযাত্রার পছন্দ। তা ছাড়া আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বর্তমান সময়ে আইটি শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে স্বামীর চাকরিই বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

আদালতে স্বামীর আইনজীবী দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় এবং বৃদ্ধ বাবা-মার দেখাশোনা করতে গিয়েই তার টানাটানি লেগে যায়।

আলোচিত এই মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ নম্বর ধারার অধীনে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে দুর্বল পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়া। হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, কেবল স্ত্রী নন, স্বামীও যদি উপার্জনহীন বা আর্থিকভাবে সক্ষম না হন, তবে তিনি কর্মক্ষম ও সচ্ছল স্ত্রীর কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ দাবি করতে পারেন।

আইনে বলা আছে, আবেদনকারীর যদি নিজের ভরণপোষণ এবং মামলার খরচ চালানোর মতো ‘স্বাধীন ও পর্যাপ্ত আয়’ থাকে, তবে তিনি খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য নন। আইনটি জীবনযাত্রার মান সমান করার কোনো বিলাসবহুল চুক্তি নয়, এটি কেবল জীবনধারণের আইনি অধিকার।

‘আজ রাতেই ইরানি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ | কালের কণ্ঠ