• ই-পেপার

ইতালি উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৩২ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার, নিখোঁজ ৭১

ইকুয়েডরের বিমানবন্দরে অপরাধী চক্রের নেতাকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ইকুয়েডরের বিমানবন্দরে অপরাধী চক্রের নেতাকে গুলি করে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

ইকুয়েডরের বৃহত্তম শহর গুয়াকিলের বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এক ইকুয়েডরীয় ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি দেশটির অন্যতম ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্র ‘লস আগুইলাস’-এর আঞ্চলিক নেতা কার্লোস আলবার্তো সুয়াসতেগি ভিলানুয়েভা (৩৯)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই যুবক অ্যারাইভাল টার্মিনালের বাইরে ফুল ও টেডি বিয়ার হাতে কারো জন্য অপেক্ষা করছিল। কার্লোস সুয়াসতেগি টার্মিনাল থেকে বের হওয়া মাত্রই তাদের একজন এগিয়ে যায় এবং হাতের টেডি বিয়ারের পেছন থেকে বন্দুক বের করে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রথমজন গুলি করে পালানোর সময় দ্বিতীয় যুবকটিও সুয়াসতেগিকে লক্ষ্য করে আরেকটি গুলি ছোড়ে। হঠাৎ গুলির শব্দে বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। এ সময় গুলিতে একজন পথচারীও আহত হন। ঘটনার পর ফরেনসিক ও পুলিশের তদন্তের জন্য বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল টার্মিনাল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন রেইমবার্গ জানান, নিহত কার্লোস সুয়াসতেগি ‘লস আগুইলাস’ নামক একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা ছিলেন, যা মাদক পাচার ও চাঁদাবাজির জন্য কুখ্যাত। ২০২৪ সালে দেশটির রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল নোবোয়া এই চক্রটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইকুয়েডর বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝে অবস্থিত হওয়ায় অপরাধী চক্রগুলো ইকুয়েডরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মাদক পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে একসময়ের শান্ত এই দেশটি এখন অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের অপরাধপ্রবণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ইকুয়েডরের ১০টি প্রদেশে নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার ঠিক একদিন পরেই বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত জায়গায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। গ্যাং সহিংসতা দমনে রাষ্ট্রপতি নোবোয়া বারবার জরুরি অবস্থা জারি করছেন। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনী ওয়ারেন্ট ছাড়াই সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা পেলেও সহিংসতা থামানো যাচ্ছে না। সরকারি কড়াকড়ির মধ্যেই ২০২৫ সালে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নাইজারের বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৩৫

অনলাইন ডেস্ক
নাইজারের বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৩৫
সংগৃহীত ছবি

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এ বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দুকধারীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নাইজারের রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো টায়ার ফেটেছে বা ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝতে পারেন, সেখানে বড় ধরনের হামলা চলছে।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২২ হামলাকারী নিহত হন। এছাড়া চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল গড়ানোর আগেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দা, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। হামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। এটি শুধু দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরই নয়, একই সঙ্গে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনাও এই এলাকায় অবস্থিত।নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত সাহেল রাষ্ট্রগুলোর এই জোট বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জঙ্গি সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার কারণে এসব দেশে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে।

গত এক দশক ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। তখন ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ওই ঘটনায় চারজন সেনাসদস্য আহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় বলে জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানুয়ারির ওই হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রাশিয়ার সহায়তার ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে নাইজার সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৩৫০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে- জানায় এএফপি।

হামলার ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি নাইজারের কর্তৃপক্ষ।
 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে লাভবান ইরান, প্রতিদ্বন্দ্বীরা শঙ্কিত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে লাভবান ইরান, প্রতিদ্বন্দ্বীরা শঙ্কিত
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ তিন মাসের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি রাষ্ট্রপতির মধ্যে সরাসরি এমন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে যাচ্ছে। চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তারা আবার তেল রপ্তানি করতে পারবে। দেশ পুনর্গঠনের জন্য ইরান বিপুল তহবিল পাবে এবং আমেরিকার কাছ থেকে তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি মিলবে। চুক্তিটিকে এর সমর্থকরা ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ বললেও, ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে এটি একটি বড় ধাক্কা। ১৪ দফার এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে আরো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তির জন্য আলোচনা করা যায়।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিটিকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় পরাজয় বা বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, সেখানে ওয়াশিংটন উল্টো তেহরানকে মেনে নিয়ে তাদের আরো শক্তিশালী করল। এই চুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফলে ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিকভাবে আরো একা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই চুক্তি লেবাননে ইরানের প্রভাব এবং তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। লেবাননের রাষ্ট্রপতি অবশ্য অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, লেবাননের ভাগ্য নিয়ে ইরানের আলোচনা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমেরিকার সুরক্ষার ওপর তাদের দীর্ঘদিনের যে ভরসা ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে সামরিকভাবে হারানো অসম্ভব ছিল। তাই একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ট্রাম্পের হাতে ছিল না।

চুক্তিটি আপাতত শান্তি আনলেও এর আসল পরীক্ষা সামনে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি সফল হতে নাও দিতে পারে এবং লেবানন সীমান্তে আবারও ঝামেলা তৈরি করতে পারে। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ইরান যা চেয়েছিল তা পেয়েছে। আমরা আমাদের বন্ধুদের (হিজবুল্লাহ) একা ফেলে যাইনি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করা হয়। তিন মাস ধরে চলা এই তীব্র যুদ্ধে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের বড় অংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে যায় এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। 

১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতে

অনলাইন ডেস্ক
১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতে

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক বছরের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম কার্যকর না করলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ বছর। এর কম বয়সী কোনো শিশু ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে, ব্যবহার করতে বা পরিচালনা করতে পারবে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করতে হবে। এ জন্য তাদের ১২ মাসের রূপান্তরকাল দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমকে সতর্ক করা, আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে দেশটির গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

এ ছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পূর্ণ সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবে না। তারা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখা প্রকাশ, মন্তব্য, তথ্য শেয়ার, উন্মুক্ত দল বা চ্যানেলে যুক্ত হওয়া কিংবা বৃহৎ পরিসরের অনলাইন আলোচনায় অংশ নিতে পারবে না।

ইতালি উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৩২ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার, নিখোঁজ ৭১ | কালের কণ্ঠ