অস্ট্রেলিয়ার অধীনস্থ প্রত্যন্ত অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার ‘সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সিল’ বা দক্ষিণ হাতি সীল শাবক মারা গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার দূরের একটি ফরাসি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে গত বছরের আগস্টে এই দ্বীপগুলিতে বার্ড ফ্লুর ‘এইচ৫এন১’ স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ’ লাখ লাখ সামুদ্রিক পাখি ও সীল প্রাণীর আবাসস্থল। বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘বায়ো আরএক্সআইভি’-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজারের বেশি সীল শাবকের একটি দলের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৩৫৯টি শাবকই বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।গবেষকরা ড্রোনের সাহায্য নিয়ে এবং সশরীরে ওই দুর্গম দ্বীপগুলোতে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন। তারা জানান, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ৯৭ শতাংশ সীল শাবক মারা গেছে। জরিপ করার সময়ও প্রতিনিয়ত শাবক মারা যাচ্ছিল, তাই মৃত্যুর আসল সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা দ্বীপের ৯টি প্রজাতির প্রাণীর নমুনা পরীক্ষা করে ৬টি প্রজাতির দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন। এর মধ্যে হাতি সীল ছাড়াও কিং পেঙ্গুইন, জেন্টু পেঙ্গুইন, অ্যান্টার্কটিক ফার সিল ও সাউথ জর্জ ডাইভিং পেট্রেল পাখি রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ড ফ্লুর মূল শিকার হয়েছে সীল শাবকগুলো। পেঙ্গুইনদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় পূর্ণবয়স্ক কিং পেঙ্গুইন মারা গেছে। তবে অ্যালবাট্রস পাখিদের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখা যায়নি।
বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ড. জুলি ম্যাকইনেস বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কোনো বহিঃস্থ অঞ্চলে এটাই প্রথম বার্ড ফ্লু শনাক্তের ঘটনা।" এ যাবৎ বিশ্বের একমাত্র মহাদেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে এই মারাত্মক ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ ঘটেনি।’
হাজার হাজার সীলের এই মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক করছে। ভাইরাসটি যাতে কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমাদের এখনই বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিতে হবে। বর্তমানে ‘অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রাম’ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।




