মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলি ‘আতঙ্কের’ সমালোচনা করে বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
ভ্যান্স বলেছেন, ‘সব সমস্যার সমাধান শুধু হত্যা নয়।’ তিনি জানান, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো ছাড় পাবে না। হোয়াইট হাউসে তিনি ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি এ সমালোচনার বাইরে রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অস্থিতিশীলতা নিরসনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইসরায়েল বেশ উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা লক্ষ্যগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে এমন মন্তব্য করেন।
ভ্যান্স দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই পুরো আতঙ্ক আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে। কারণ আমি মনে করি, এটি অবিশ্বাসের জায়গা থেকে এসেছে এবং আমেরিকা বিশ্বের ঐ অঞ্চলের আস্থা অর্জন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ওই দেশ ও সরকারের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছি। আমরা একটি খারাপ চুক্তি করেছি, এমন ধারণার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করলে এ দাবি মোটেও যৌক্তিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এই চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। চুক্তিটি সম্পর্কে ভুল তথ্যের কারণেই তাদের এই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো মানুষ, যারা এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশে আমার প্রশ্ন, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ হিসেবে ইসরায়েল তার প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান শুধু সামরিক অভিযান বা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারে না।’
এই চুক্তিটি ইসরায়েলসহ ‘সমগ্র অঞ্চল এবং বিশ্বের’ জন্য ভালো হবে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে এসেছি, যেখানে তারা এমন কিছু প্রস্তাব দিচ্ছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ছয় মাস আগেও সেগুলো কেবল কল্পনা বলেই মনে হতো।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং, আসুন এই আলোচনাটি এগিয়ে নিয়ে যাই। দেখা যাক, ইরানের কর্মকাণ্ড তাদের কথার সঙ্গে মেলে কি না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও কিছুটা কৃতিত্ব দেওয়া যাক। আমার মতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সরকারের এক অসাধারণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।’





