• ই-পেপার

বার্ড ফ্লুতে অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে ৭৫ শতাংশ সিলশাবকের মৃত্যু

‘নিরাপত্তা সংকটের সমাধান শুধু হত্যা নয়’ ইসরায়েলকে জেডি ভ্যান্স

অনলাইন ডেস্ক
‘নিরাপত্তা সংকটের সমাধান শুধু হত্যা নয়’ ইসরায়েলকে জেডি ভ্যান্স
ছবি : অিানাদোলু এজেন্সি

মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলি ‘আতঙ্কের’ সমালোচনা করে বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।

ভ্যান্স বলেছেন, ‘সব সমস্যার সমাধান শুধু হত্যা নয়।’ তিনি জানান, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো ছাড় পাবে না। হোয়াইট হাউসে তিনি ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি এ সমালোচনার বাইরে রাখেন।  

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অস্থিতিশীলতা নিরসনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইসরায়েল বেশ উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা লক্ষ্যগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে এমন মন্তব্য করেন।

ভ্যান্স দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই পুরো আতঙ্ক আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে। কারণ আমি মনে করি, এটি অবিশ্বাসের জায়গা থেকে এসেছে এবং আমেরিকা বিশ্বের ঐ অঞ্চলের আস্থা অর্জন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যায় না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ওই দেশ ও সরকারের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছি। আমরা একটি খারাপ চুক্তি করেছি, এমন ধারণার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করলে এ দাবি মোটেও যৌক্তিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এই চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। চুক্তিটি সম্পর্কে ভুল তথ্যের কারণেই তাদের এই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো মানুষ, যারা এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশে আমার প্রশ্ন, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ হিসেবে ইসরায়েল তার প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান শুধু সামরিক অভিযান বা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারে না।’

এই চুক্তিটি ইসরায়েলসহ ‘সমগ্র অঞ্চল এবং বিশ্বের’ জন্য ভালো হবে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে এসেছি, যেখানে তারা এমন কিছু প্রস্তাব দিচ্ছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ছয় মাস আগেও সেগুলো কেবল কল্পনা বলেই মনে হতো।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং, আসুন এই আলোচনাটি এগিয়ে নিয়ে যাই। দেখা যাক, ইরানের কর্মকাণ্ড তাদের কথার সঙ্গে মেলে কি না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও কিছুটা কৃতিত্ব দেওয়া যাক। আমার মতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সরকারের এক অসাধারণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।’

যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচায় শিশু, গ্রেপ্তার ১

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচায় শিশু, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের একটি চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচার ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কেমব্রিজশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর ১টা ২৪ মিনিটে ওল্ড হার্স্ট চিড়িয়াখানা থেকে একটি জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিন বছর বয়সী এক শিশু আচমকা কুমিরের খাঁচার ভেতর ঢুকে পড়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির কোনো পূর্বপরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই।

ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ভেরিটি ম্যাকক্যান বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কিভাবে ঘটল, তা জানতে আমরা ঘটনার সময় চিড়িয়াখানায় উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওল্ড হার্স্ট চিড়িয়াখানার মালিক পক্ষ এক বিবৃতিতে আহত শিশু ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তারা আরো জানায়, তদন্তের স্বার্থে এবং পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে চিড়িয়াখানার ‘ট্রপিক্যাল হাউস’—যেখানে অ্যালিগেটর ও ঘড়িয়াল রাখা হয়—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এদিকে হান্টিংটনের সংসদ সদস্য বেন ওবেস-জেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) এক পোস্টে ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলছে।

কঙ্গো-উগান্ডায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, এক মাসে মৃত্যু ২০০-এর বেশি

অনলাইন ডেস্ক
কঙ্গো-উগান্ডায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, এক মাসে মৃত্যু ২০০-এর বেশি
ছবি : রয়টার্স

কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা রোগের বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করেছে আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার প্রথম এক মাসেই ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা সন্দেহভাজন মানুষের সংখ্যা ৩৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফ্রিকা সিডিসির চিকিৎসা মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়েসাম মানকৌলা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৯৪টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০০০ সালে উগান্ডায় একই পর্যায়ে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় ২৮১টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় তিন গুণ বেশি গুরুতর। তিনি বলেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ, রোগ ছড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পর, গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত ও নিশ্চিত করা হয়। ফলে শুরুতে অনেক সংক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই সংক্রমণ ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে রোগটি পূর্ব কঙ্গোর ৩২টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বান্দিবুগিও’ নামের একটি বিরল ইবোলা ভাইরাস। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এমনকি প্রাদুর্ভাবের শুরুতে এই ভাইরাস শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও করা হয়নি। কঙ্গোতে এর আগে হওয়া অধিকাংশ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ‘জায়ের’ ভাইরাস। সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ব্যবহারের মতো কোনো অনুমোদিত টিকা না থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত পূর্ব কঙ্গো ও উগান্ডায় ৭৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিভিত্তিক পরীক্ষামূলক চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির কাজও চলছে। প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলো কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলেই শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে রোগটি সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও পৌঁছে গেছে। সেখানে ১৯টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডা. মানকৌলা বলেন, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করা এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, রোগপ্রবণ অনেক এলাকাই দুর্গম এবং সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অত্যন্ত নাজুক। তিনি আরো বলেন, ৮৯৪ জনের নিশ্চিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৭ হাজার থেকে ৩৫ হাজার মানুষের সংস্পর্শে আসার তালিকা থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র চার হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া গেছে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার মতে, শনাক্ত হওয়া এই চার হাজার মানুষ সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা মোট মানুষের ১৫ শতাংশেরও কম। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতুরি প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই বাস্তুচ্যুতি রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরো কঠিন করে তুলেছে।  অনেক মানুষ হামলা ও সহিংসতা এড়াতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই বারবার স্থান পরিবর্তন করছেন। ফলে কারা কারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া ইতুরি একটি বিশাল ও দুর্গম অঞ্চল। ঘন বন, দুর্বল সড়ক যোগাযোগ এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছানোর জটিলতা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজকে আরো কঠিন করে তুলেছে। অনেক গ্রামে পৌঁছাতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে হাজার হাজার খনি শ্রমিক নিয়মিত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেন। তাদের চলাচলের কারণে সংক্রমণের শৃঙ্খল শনাক্ত করা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আরো কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অর্থ ও জনবলের বড় সংকটের কথাও জানিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি। সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ৯০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। আফ্রিকা সিডিসির হিসাবে, এই সংকট মোকাবেলায় অন্তত ৫৪০ জন বিশেষজ্ঞ ও কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ৮৪ জন। ডা. মানকৌলা বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সদস্য দেশগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত দেওয়া হবে।

আফ্রিকা সিডিসির মতে, রোগ শনাক্তে দেরি, সংস্পর্শ অনুসন্ধানের দুর্বল ব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা, মানুষের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং অর্থ ও জনবলের ঘাটতির কারণে কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা নিয়ন্ত্রণের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির বদলে আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার নেতৃত্বে ভ্যান্স, পেছাল সুইজারল্যান্ড সফর

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার নেতৃত্বে ভ্যান্স, পেছাল সুইজারল্যান্ড সফর
ছবি : রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে চুক্তিটির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে চলমান সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটি ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই বলেছে, সাম্প্রতিক চুক্তিটি যুদ্ধের সব ফ্রন্টে কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে গাজা সিটির রেমাল এলাকায় ইসরায়েলের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে নতুন সমঝোতা এবং আলোচনা শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।