• ই-পেপার

মাদক সেবনে বাধা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে কোপাল কারবারিরা

বাবুগঞ্জ

লোহালিয়া–সিংহেরকাঠী সংযোগ সেতুর বেহাল অবস্থা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
লোহালিয়া–সিংহেরকাঠী সংযোগ সেতুর বেহাল অবস্থা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া ও সিংহেরকাঠী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন কয়েক শ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি দুই গ্রামের মানুষের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ এই পথে চলাচল করেন। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। মীরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ উপজেলা সদর ও বরিশাল শহরে যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ এ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিম বলেন, সেতুটির জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পটিয়া

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর মৃত্যু, দ্বিতীয় স্ত্রী কারাগারে

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর মৃত্যু, দ্বিতীয় স্ত্রী কারাগারে
সিরাজুল ইসলাম। (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হয়ে সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহার আকতার ববিকে (৩৯) আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফোরক সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় পটিয়া থানায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার ভাই শেখ মোস্তান (৩৬) ও ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেনকে (২১) এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে কবিরুল ইসলাম আকিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় আটক নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ববিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অপর দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মিনহার আকতার ববি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১টার দিকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনদের সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সিরাজুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময় বিষয়টি মীমাংসার জন্য পারিবারিক বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

নিহতের ভাগ্নে মো. বদিউল আলম বলেন, ‘আমার মামা দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে কষ্ট করে উপার্জন করে অর্থ-সম্পদ গড়েছেন। সেই সম্পত্তি নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মামার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ আটক, পিটুনির পর কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ আটক, পিটুনির পর কারাগারে
নাজমুল হাসান হিমেল

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া এক যুবককে এক হাজার ইয়াবাসহ আটক করে মারধরের পর পুলিশে দিয়েছে জনতা। মাদক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার উপজেলার সীমান্ত গ্রাম পুরান লাউড়েরগড় মাদরাসার সামনে নাজমুল হাসান হিমেল নামের ওই যুবক এবং তার সহযোগী সোহাগ আহমদকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তারা। 

নাজমুল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ছাতারকোণা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও সোহাগ একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলে করে হিমেল ও সোহাগ সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরছিলেন। পথে লাউড়েরগড় এলাকার লোকজন তাদের আটক করে তল্লাশি করেন। এ সময় তাদের কাছে সাড়ে ৯৫০ ইয়াবা পাওয়া যায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন। পরে পুলিশে খবর দেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া বলেন, এলাকার মানুষজন হিমেলকে আটক করে তার কাছে বিপুল ইয়াবা পান। পরে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেন। সে ভারত থেকে ইয়াবার চালান এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করত।

ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ বলেন, হিমেল একজন জুলাইযোদ্ধা। জুলাই আন্দোলনের সময় মিটিং-মিছিল করেছে। তার ভাই তোফায়েল আহমদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব। হিমেল ইয়াবার চালানসহ গত রাতে তাহিরপুরের লাউড়েড়গড় সীমান্তে আটক হয়েছে। ৫ অগাস্টের পর মামলা দিয়ে অনেক নিরীহ মানুষকে সে হয়রানি-নির্যাতন করেছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোখলেছুর রহমান বলেন, হিমেলের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী সংগঠনের ব্যানারে মাদক কারবারের অভিযোগ আছে। আদালত হিমেল ও সোহাগকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। এসময় ওই গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

আটক বোরহান উদ্দিন শহরের কসবা কাছারিপাড়া মহল্লার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা সরকারি চালসহ একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকায় অবস্থিত জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউনে অভিযান শুরু করা হয়। এসময় বস্তায় ২০২৬ সালের জুন মাসের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সীলমোহরকৃত ৩৩ টন চাল পাওয়া যায়।

এতে দেখা যায়, অন্য জায়গায় পাচারের উদ্দেশে খাদ্য অধিদপ্তরের ৫০ কেজি ওজনের ৫০০ বস্তা এবং ৩০ কেজি ওজনের ২৭০ বস্তাসহ মোট ৭৭০ বস্তায় ভর্তি ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল রয়েছে। যার মোট মূল্য ১৬ লাখ  ২১ হাজার ৯০০ টাকা। পরে চালগুলো জব্দ এবং গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

শেরপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সদর থানার ওসি সোহেল রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন ক্ষতিকর কার্যক্রম ২০২৩-এর ৫-এর ক ও খ এবং ৬ ধারা মোতাবেক উপযুক্ত বিচারের জন্য জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওসি মো. সোহেল রানা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালগুলোর সঠিক হিসাব দিতে না পারায় সদর থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জব্দ চালগুলো গোডাউনে সিলগালা করে আটক ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ এবং মামলা দায়ের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।