• ই-পেপার

১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতে

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৩৫

অনলাইন ডেস্ক
নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৩৫
সংগৃহীত ছবি

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এ বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দুকধারীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নাইজারের রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো টায়ার ফেটেছে বা ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝতে পারেন, সেখানে বড় ধরনের হামলা চলছে।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২২ হামলাকারী নিহত হয়। এছাড়া চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল গড়ানোর আগেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দা, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। হামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। 'ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। এটি শুধু দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরই নয়, একই সঙ্গে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনাও এই এলাকায় অবস্থিত।নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত সাহেল রাষ্ট্রগুলোর এই জোট বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জঙ্গি সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার কারণে এসব দেশে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে।

গত এক দশক ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। তখন ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ওই ঘটনায় চারজন সেনাসদস্য আহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয় বলে জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানুয়ারির ওই হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রাশিয়ার সহায়তার ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে নাইজার সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৩৫০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে- জানায় এএফপি।

হামলার ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি নাইজারের কর্তৃপক্ষ।
 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে লাভবান ইরান, প্রতিদ্বন্দ্বীরা শঙ্কিত

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে লাভবান ইরান, প্রতিদ্বন্দ্বীরা শঙ্কিত
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ তিন মাসের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি রাষ্ট্রপতির মধ্যে সরাসরি এমন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে যাচ্ছে। চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং তারা আবার তেল রপ্তানি করতে পারবে। দেশ পুনর্গঠনের জন্য ইরান বিপুল তহবিল পাবে এবং আমেরিকার কাছ থেকে তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি মিলবে। চুক্তিটিকে এর সমর্থকরা ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ বললেও, ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে এটি একটি বড় ধাক্কা। ১৪ দফার এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে আরো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তির জন্য আলোচনা করা যায়।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিটিকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় পরাজয় বা বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, সেখানে ওয়াশিংটন উল্টো তেহরানকে মেনে নিয়ে তাদের আরো শক্তিশালী করল। এই চুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফলে ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিকভাবে আরো একা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই চুক্তি লেবাননে ইরানের প্রভাব এবং তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। লেবাননের রাষ্ট্রপতি অবশ্য অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, লেবাননের ভাগ্য নিয়ে ইরানের আলোচনা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমেরিকার সুরক্ষার ওপর তাদের দীর্ঘদিনের যে ভরসা ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানকে সামরিকভাবে হারানো অসম্ভব ছিল। তাই একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ট্রাম্পের হাতে ছিল না।

চুক্তিটি আপাতত শান্তি আনলেও এর আসল পরীক্ষা সামনে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল এই চুক্তি সফল হতে নাও দিতে পারে এবং লেবানন সীমান্তে আবারও ঝামেলা তৈরি করতে পারে। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ইরান যা চেয়েছিল তা পেয়েছে। আমরা আমাদের বন্ধুদের (হিজবুল্লাহ) একা ফেলে যাইনি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করা হয়। তিন মাস ধরে চলা এই তীব্র যুদ্ধে ৭,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের বড় অংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে যায় এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। 

‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর’
রোমাঞ্চ মহাজন

ছেলেবেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীরপুরুষ’ কবিতা পড়েননি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। কবির কল্পনায় এক ছেলে তার মাকে নিয়ে অনেক দূরের বিদেশে ঘুরতে যায়। মা যায় পালকিতে। তার পাশে ছেলে যায় রাঙা ঘোড়ায় চড়ে। পথে ডাকাত পড়লে ছেলে লড়াই করে মাকে রক্ষা করে। কবির সেই বীরপুরুষের সন্ধান মিলেছে নিউইয়র্কে। কবির কল্পনার বীরপুরুষ ডাকাতদের লড়াই করে রক্তাক্ত হলেও বাস্তবের বীরপুরুষ মাকে বাঁচাতে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবন এক ভারতীয় কিশোর। 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার নিইউয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে। সত্যিকারের এই বীরপুরুষের নাম রোমাঞ্চ মহাজন।

বীরপুরুষ কবিতার ‘মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে/মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে’র মতই মা, বাবা, ছোট ভাইয়ের সাথে প্রথমবারের মতো অনেক দূরের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন রোমাঞ্চ। বুধবার বিকেলে পরিবারের সবার সাথে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ। কবিতার মতো নিজে একা রাঙা ঘোড়ায় নয়, সবাই মিলে চড়েছিলেন ঘোড়ার গাড়িতে। এক পর্যায়ে গাড়ির চালক ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে একটু দূরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ ঘোড়াটি পাগলের মতো ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে ঘোড়াটি ফুটপাথে উঠে পড়ে। চালকও ছুটতে থাকেন গাড়ির পেছনে। এ সময় রোমাঞ্চের মা প্রিয়া মহাজন গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন। মাকে বাঁচাতে সাথে সাথে লাফ দেন রোমাঞ্চও। হয়তো রোমাঞ্চ সেই কবিতার মতো মাকে বলছিল, ‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর’। মাকে বাঁচাতে পারলেও নিজে বাঁচতে পারেননি রোমাঞ্চ। তার মাথা সোজা রাস্তায় আঘাত পায়, ঘটনাস্থলেই সে নিথর হয়ে পড়ে থাকে। বুধবার রাতে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিক্যাল সেন্টারে রোমাঞ্চ মারা যায়।

রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন বলেন, ‘আমরা চিৎকার করে বলছিলাম—আমাদের বাঁচান, আমাদের বাঁচান! পরিবারের সবাই একে অপরকে মরিয়া হয়ে আঁকড়ে ধরেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচানোর জন্যই নিচে পড়ে যায়। সে চিৎকার করে মা! বলে ডাকছিল।’
দুর্ঘটনায় রোমাঞ্চের বাবা, মা এবং রোমাঞ্চের ছোট ভাই—সামান্য আঘাত পেলেও নিরাপদে আছেন। তবে প্রিয়জনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সবাই শোকে স্তব্ধ।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। মূলত পর্যটক আকর্ষণের জন্যই ঘোড়ার গাড়িগুলো চালানো হয়। তবে বারবার দুর্ঘটনার কারণে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি উঠেছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ভেতরে বা কাছাকাছি এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি সংক্রান্ত অন্তত ৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত মাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় একটি ঘোড়া অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে যায়।

সিটি কাউন্সিলর ক্রিস্টোফার মার্তে বলেছেন, ‘আমরা এটিকে আরেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না। এই ট্র্যাজেডি যে জরুরি পদক্ষেপের দাবি রাখে, কাউন্সিলকে অবশ্যই সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

তিনি এরই মধ্যে একটা বিল এনেছেন, যাতে আগামী বছরের শেষের মধ্যে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ঘোড়ার গাড়ির চালকদের ইউনিয়নও এই দুর্ঘটনায় মর্মাহত। ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে চালক তার ঘোড়া থেকে অন্তত এক হাত দূরে ছিলেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো চালকেরই ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়, কখনোই না। আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে সমর্থন করি।’ 

এরই মধ্যে গাড়ির চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে চালকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ইরান চুক্তির সময়সীমা শুরু : জেডি ভ্যান্স

অনলাইন ডেস্ক
ইরান চুক্তির সময়সীমা শুরু : জেডি ভ্যান্স
সংগৃহীত ছবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের মধ্যে অনুমোদিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) উল্লেখিত ৬০ দিনের সময়সীমা বৃহস্পতিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, ‘৬০ দিনের সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হয়েছে।’

তবে ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে উভয় পক্ষের কাছ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ভ্যান্স বিস্তারিত কিছু জানাননি।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়সীমা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে এবং এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করা হবে।