• ই-পেপার

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কমছে তেলের দাম

যুদ্ধে কতটা সফল ইরান?

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধে কতটা সফল ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন | সংগৃহীত ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধে তেহরানের পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশ সফলভাবে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির এক কর্মকর্তা।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সেটি ভূপাতিত হয়।

এমকিউ-৯ ড্রোনটির বাজারমূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০০ কোটিরও বেশি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক এই ড্রোনটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণের কাজে এই ড্রোন ব্যবহার করে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় ড্রোনটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ড্রোনটি ভূপাতিত করতে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

এর আগে গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। তখন হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে হামলা চালায়।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে পরে দুই দেশই নিজেদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে।

এদিকে বিভিন্ন আরব গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি হামলার পর বাহরাইনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, অন্তত ১৬টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে বুধবার ভোরে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। 

এক ইরানি সামরিক সূত্রের মতে, প্রাথমিক মূল্যায়নে অভিযানের পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া।

তবে ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলো অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির বেমানি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

প্রাদেশিক পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় জলাধার এবং সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর চলমান পাল্টা হামলাকে শক্তিশালী ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আরো ব্যাপক ও কঠোর হামলা চালানো হবে।

যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টে সহিংসতা : অভিবাসী হামলার পর আগুন-ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টে সহিংসতা : অভিবাসী হামলার পর আগুন-ভাঙচুর
সংগৃহীত ছবি

ব্রিটেনে ভয়াবহ এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বেলফাস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে ঘটে যাওয়া একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনায়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক সুদানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি রাস্তায় এক ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছেন এবং তাকে শিরশ্ছেদের চেষ্টা করেছেন। সেই সময় আশপাশের মানুষ আহত ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। এর পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার শিকার ব্যক্তি ছিলেন ৪০-এর কোঠার একজন পুরুষ। তিনি সোমবার গভীর রাতে আক্রমণের শিকার হন। তার চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ এই ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি জনসমক্ষে ছুরি বহন এবং হত্যার হুমকির অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পরপরই উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অনেক বিক্ষোভকারী মুখ ঢেকে অংশ নেন। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। বাস, গাড়ি এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাস্তা অবরোধ করা হয় এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আগুনে জ্বলতে থাকা বাড়ি থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে অনেকেই কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন।

বেলফাস্টে প্রায় দেড় বছর ধরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী ইমরান বলেন, সন্ধ্যার দিকে জনমানুষ ডাস্টবিনে আগুন দিতে শুরু করে। এরপর পুলিশ গাড়ি ও সাইরেনের শব্দ শোনা যায়।

তিনি আরো বলেন, ধীরে ধীরে আরো মানুষ জড়ো হয়। তারা পেট্রল বোমা ছুড়তে শুরু করে। হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ঢুকে যায়। পরে দমকল এসে তাদের নিচে নামতে বলে। 

এক মাস আগে বেলফাস্টে আগত চিলির নাগরিক কামিলা ঘটনাটিকে ভয়ংকর বলে বর্ণনা করেন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নেইল এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মুখোশ পরে পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আগুন লাগানো ‘ঘৃণ্য কাপুরুষতা’। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্ণবাদ ও সহিংসতার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন।

আরো পড়ুন
সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ আসতে পারে যেসব বড় পরিবর্তন

সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ আসতে পারে যেসব বড় পরিবর্তন

 

এ ঘটনার পেছনে আগে থেকেই চলমান অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ব্রিটেনে অভিবাসন নীতি নিয়ে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। সরকার নিশ্চিত করেছে, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন সুদানি শরণার্থী। তার আবাসনের অনুমতি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ ছিল। উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের প্রধান জানান, তিনি ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্যারিস ও আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য শেয়ার করেন। এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা আরো বাড়ে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী নাওমি লং সতর্ক করে বলেন, কিছু মানুষ এই ঘটনাকে ব্যবহার করে জনগণের ক্ষোভকে উসকে দিচ্ছে এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের পরিস্থিতি বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে, তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

বিরোধী দল এসডিএলপি নেতা ক্লেয়ার হান্না এই ঘটনাকে ‘বর্ণভিত্তিক গণসহিংসতা’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যারা অনলাইনে উসকানি দিচ্ছে, তারা পরে সরে যাবে, কিন্তু ক্ষতি সামলাতে হবে সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সহিংসতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ৬
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার তাইর দেব্বা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আলজাজিরা

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের উদ্দেশে এলাকা ত্যাগের নির্দেশনা বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

লেবাননের কর্মকর্তারা জানান, চলমান হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার ফলে লেবাননে ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটিতে মানবিক সংকট আরো গভীর হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অস্থিরতা, আগুনে পুড়ল একাধিক বাড়ি ও যানবাহন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে অস্থিরতা, আগুনে পুড়ল একাধিক বাড়ি ও যানবাহন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুদানের নাগরিক বলে ধারণা করা ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে বাড়িঘর, একটি বাস, গাড়ি এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, একাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ছে এবং জরুরি সেবার যানবাহন ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউটাউন অ্যাবি ও কিলকিলেসহ আশপাশের এলাকায়ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের কিছু শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। 

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল বলেন, ‘মুখোশধারী একটি দল পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে।’ 

পুলিশ জানিয়েছে, ছুরি হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় আরেকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর পরই এলাকায় বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে ঘটে যাওয়া ছুরি হামলার একটি ভিডিও একজন প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রক্তাক্ত আরেকজনকে মাটিতে চেপে ধরে একাধিকবার আক্রমণ করছে। পরে পথচারী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে এক্সে অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করে এবং প্রতিবাদের আহ্বান জানায়।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বসহ বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কও বিক্ষোভের আহ্বান ও বিভিন্ন পোস্ট আবার শেয়ার করেন। বিতর্কিত আন্দোলনকারী টমি রবিনসন দেশব্যাপী সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল বারবার এবং জোরালোভাবে প্রতিবাদ করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’

উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও বিক্ষোভের ঘটনাকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সহিংসতা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, উত্তর বেলফাস্টের হামলাটি ছিল ‘জঘন্য ও অন্যায়’, তবে এই ঘটনাকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ণবাদ, ভয়ভীতি ও সহিংসতা যেখানেই ঘটুক না কেন, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সোমবার রাতের ছুরি হামলাকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশের রাস্তায় এমন সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এদিকে ব্যাংগর, গ্লাসগো ও লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মুখোমুখি হয় এবং অভিবাসনবিরোধী স্লোগান দেয়। 

বেলফাস্টের আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার হানা বিবিসির নিউজনাইটকে বলেন, কিছু অনলাইন কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক মন্তব্য এই ঘটনাকে উসকে দিয়ে বিভেদ ও সহিংসতা বাড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ গায়ের রঙের ভিত্তিতে বিদেশিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির এবং কিছু জায়গায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাইকে শান্ত থাকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন বলেন, জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বেলফাস্টের ছুরি হামলা

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে বেলফাস্টের ক্যানার্ড এভিনিউয়ে ৪০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হন।

পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ভুক্তভোগীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পিঠ ও মুখেও মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুদানের নাগরিক বলে মনে করা এক ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিস থেকে ডাবলিনে এসে উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করেন এবং সেখানে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

হেন্ডারসন বলেন, এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক আছে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তিনি আরো জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কমছে তেলের দাম | কালের কণ্ঠ