• ই-পেপার

সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার চালু

ফেনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ফেনীর পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলার সোনাগাজী ও  ছাগলনাইয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন  দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের সেলিম চেয়ারম্যান বাড়ির জালাল আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ দুলাল (৩৫) এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ভূঁইয়াবাড়ীর নজির আহমেদের ছেলে মানিক (৩৭)। 

সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে সোনাগাজীর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ওয়াহিদ উদ্দিনের নতুন বাড়িতে আইপিএস মেরামতের কাজ করছিলেন মোহাম্মদ দুলাল। কাজ করার একপর্যায়ে অসতর্কতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নে বিদ্যুতায়িত হয়ে মানিক নামে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।       

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ কক্ষে অসতর্কতাবশত বিদ্যুতায়িত হন মানিক। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুলালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া জানান, মানিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

ঢাকা-কুড়িগ্রাম বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ঢাকা-কুড়িগ্রাম বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাস পোড়ানোর ঘটনার পর ঢাকা ও কুড়িগ্রামগামী সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা অটোরিকশায় জেলা সদরে গিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য হচ্ছে। একইভাবে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কুড়িগ্রাম ও ঢাকাগামী অসংখ্য যাত্রী।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের আন্ধারীঝাড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হলে উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী ‘স্বাধীন পরিবহন’ নামের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারী রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এদিকে বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদী হয়ে নামীয় ১৪ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ভোগান্তির শিকার যাত্রী মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন জানান, তারা ঢাকা যাওয়ার জন্য নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তবে কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না; কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে। এতে ব্যাগ, মালামালসহ প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অটোরিকশায় পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এতে সময়, অর্থ ও অতিরিক্ত শ্রম ব্যয় হচ্ছে।

আরো পড়ুন
চীনের বিরুদ্ধে যেভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে তাইওয়ান

চীনের বিরুদ্ধে যেভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে তাইওয়ান

 

কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন জানান, বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক ও বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে পুনরায় বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, বাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বাস চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিকেলে বসার কথা জানিয়েছেন।

অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে পেটালেন শিক্ষক

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে পেটালেন শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ চারজনের নামে মামলা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক সাহেব আলী জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি আমার পথরোধ করে বেধড়ক মারধর করেছেন। আমি প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করছি।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা অবিলম্বে ওই প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত কৃষক দল নেতা, বিএনপি নেতা আহত

বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত কৃষক দল নেতা, বিএনপি নেতা আহত

 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ড. মাহমুদা খাতুন জানান, ওই প্রধান শিক্ষককে ইতিমধ্যে দেরিতে স্কুলে আসায় শোকজ করা হয়েছে। সাংবাদিককে মারধটের ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

খুলনা

সোলার পার্ক চালুসহ ছয় দফা বাস্তবায়ন দাবি

খুলনা অফিস
সোলার পার্ক চালুসহ ছয় দফা বাস্তবায়ন দাবি
খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। ছবি: কালের কণ্ঠ

পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সংকট নিরসনে খুলনার ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পার্কটি সচলসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। সংগঠনটি বলেছে, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করলেই দেশের প্রথম সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমিতে নির্মিত হয় দেশের প্রথম সোলার পার্ক। এটি থেকে দৈনিক ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অব্যবস্থায় মাত্র দুই বছরেই প্লান্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় পার্কের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট ও পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র পাঁচ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পুরো বিনিয়োগ উঠে আসবে। বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।

আনোয়ারুল কাদির বলেন, এরইমধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবস্থা চালু করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ভবন অনুমোদনসহ সার্বিক বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-কে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

দাবিগুলো হলো নগর ভবন ও নগরের বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন মালিকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া; খুবির অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন; বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর ও খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক রেহেনা আক্তার, ফোরামের সদস্য সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, হুমায়ূন কবির ববি, সাংবাদিক মোস্তফা জামাল পপলু প্রমুখ।