• ই-পেপার

টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় বাংলালিংক

প্রবাসী তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও আউটসোর্সিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া গ্রুপ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের নতুন অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মার্কিন বাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও কাজ করবে তারা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর আটলান্টার নরক্রসে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিটোপিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশিদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন আইটিভিত্তিক সেবা দিয়ে আসছে বিটোপিয়া গ্রুপ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশটির ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সহায়তা, অনলাইন ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল উপস্থিতি বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা, গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টম সমাধান নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মুহাম্মদ মনির হোসেন আরো বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশি তরুণদের সম্ভাবনা অনেক বড়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা বিশ্ববাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। সে কারণে প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেডএইচবি সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও প্রিন্সিপাল এজেন্ট প্রকৌশলী জহিরুল হক ভূইয়া বলেন, নতুন অফিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সহায়তা, আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, বীমা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সমন্বিত সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আইটি সাপোর্ট, ম্যানেজড সার্ভিস, ক্লাউড সলিউশন, ডেভঅপস এবং সাইবার সিকিউরিটি সেবার পাশাপাশি ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া অটো, হোম ও ব্যবসায়িক বীমা সেবা এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগ পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট সেবাও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

অনুষ্ঠানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পাঁচবারের নির্বাচিত সিনেটর শেখ রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান সাহেলসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, আউটসোর্সিং খাতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি হয়।

আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

অনলাইন ডেস্ক
আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে
প্রতীকী ছবি

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার। তাই সাইবার অপরাধীরা ক্রমেই স্মার্টফোনকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ফোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়েছে বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার (ম্যালওয়্যার) ইনস্টল হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে সহজেই ধারণা করা যায় ফোনটি হ্যাক হয়েছে কিনা। নিচে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো।

১. অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া

ফোনের ব্যাটারি হঠাৎ করে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত শেষ হতে শুরু করলে সতর্ক হওয়া উচিত। অনেক ম্যালওয়্যার বা গুপ্তচর অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সারাক্ষণ চলতে থাকে, যা অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করে।

২. ফোন অস্বাভাবিক ধীরগতির হয়ে যাওয়া

ফোনে কোনো ভারী অ্যাপ ব্যবহার না করলেও যদি সেটি বারবার হ্যাং করে, ধীরগতিতে কাজ করে বা নিজে থেকেই রিস্টার্ট হয়, তাহলে এটি হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে। ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনের প্রসেসর ও মেমোরি ব্যবহার করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

৩. অচেনা অ্যাপ বা সেটিংস দেখা যাওয়া

ফোনে এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পেলে যা আপনি কখনো ইনস্টল করেননি, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। হ্যাকাররা অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।

৪. মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া

সাধারণ ব্যবহার সত্ত্বেও যদি ডেটা খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে কোনো ম্যালওয়্যার আপনার তথ্য অন্য কোথাও পাঠাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা দরকার। ফোনের ডেটা ব্যবহারের হিসাব দেখে সন্দেহজনক অ্যাপ শনাক্ত করা যেতে পারে।

৫. অদ্ভুত পপ-আপ বা অচেনা বার্তা পাওয়া

ফোনে বারবার বিজ্ঞাপন, পপ-আপ উইন্ডো বা অজানা নম্বর থেকে সন্দেহজনক বার্তা আসা হ্যাকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ফোন হ্যাক হয়েছে সন্দেহ হলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রথমে সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে এবং ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করা উচিত। সমস্যা গুরুতর মনে হলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, অননুমোদিত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা ফোনকে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কয়েকবছর আগে বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে ছাত্রদের গাদাগাদি করে থাকার একটি ছবি ছাপা হয়েছিল। ছবিতে ছাত্রদের দুরবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছিল। ছবিতে তারচেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল আরেকটি ছবি। এতগুলো তরুণ এক রুমে গাদাগাদি করে আছে। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না, কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। সবার চোখ যার যার ফোনের স্ক্রিনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি অসামাজিক করে তুলছে। শুধু অসামাজিক করা পর্যন্ত সীমিত থাকলেও না হয় চলতো। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি এখন এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট সৃষ্টি করছে।

আরো পড়ুন
শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

 

আসক্তি শব্দটা আগে শুধু মাদকের সঙ্গেই ব্যবহার করা হতো। আসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছু্ই খারাপ। এমনকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভাতও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পান, তামাক, সিগারেট থেকে শুরু করে হিরোইন, গাজা, মদ—সবই ক্ষতিকর। প্রচলিত এসব নেশা মানুষ লুকিয়ে চুরিয়ে করে। কিন্তু এসব নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক নেশা আমাদের চোখের সামনেই আমাদের সন্তানদের বর্তমান, ভবিষ্যত গ্রাস করে নিচ্ছে। আর এই নেশার নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অন্ধকার এক ভার্চুয়াল জগৎ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাজারটা ভালো দিক আছে। গোটা বিশ্বে কোটি মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উপকার করেছে; আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি আমাদের জীবনে বহুবিধ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তির ফলে বাস্তব জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাওয়া, চাইলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে বেরুতে না পারা, কোনো কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে না পারলে বিরক্ত বা ক্রদ্ধ হওয়া, অনলাইনে না থাকলেও কল্পনায় ভার্চুয়াল জগতে বাস করা, লুকিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, এমনকি খাওয়া, ঘুম, ব্যয়ামের রুটিন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে আমাদের জীবনে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাস্তব সম্পর্ক ভুলে যাওয়া, নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগী না হওয়া, নিজের ক্ষতি করা, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন
ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আগের জগতটা ছিল বাস্তব। মানুষে মানুষে সম্পর্ক হতো মুখের কথায়, একটু ছোঁয়া, একটু মান-অভিমান আমাদের ভাসিয়ে নিতো সুখের সাগরে। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ঝগড়া-অভিমান— সবই হতো মুখোমুখি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৃষ্টি করা এক কল্পনার জগৎ আমাদের বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এক বিভ্রমের জগতে আমরা কাল্পনিক সুখের সাগরে ভাসতে গিয়ে আসলে ডুবে যাই। পাশের ঘরে হয়তো মা অসুখে কষ্ট পাচ্ছে। আর সন্তান ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে মা দিবসের আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। বাস্তবের মায়ের চেয়ে কল্পনার ’মা দিবস’ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কারণ মা দিবসের স্ট্যাটাসের লাইক আসবে, কমেন্টস আসবে। সে মনের সুখে বারবার চেক করে আপডেট নেবে। পাশের রুমে মা যে কষ্ট পাচ্ছে, সে খেয়াল রাখার সময় কোথায়? ভার্চুয়াল জগতে আচ্ছন্ন থেকে আমরা ভুলে যাই পাশের প্রিয়জন বা বন্ধুর কথা। আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকা সত্যিকারের স্বজনরা পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ- সবকিছুই অগ্রাধিকারের তালিকায় খালি পিছিয়েই ‍যায়। বারবার ডিভাইস চেক করতে গিয়ে আমরা বাস্তব জগতকে ভুলে যাই। বাস্তবের চেয়ে কল্পনা এগিয়ে যায় আর আমরা পিছিয়ে যাই। 

আরো পড়ুন
আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

 

এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা দিনে গড়ে ৩৪৪ বার তার ফোন বা স্মাট ডিভাইস চেক করেন। তরুণদের অনেকে ফোন নিয়েই ঘুমাতে যায় এবং রাতভর স্ট্যাটাস আপডেট চেক করে। তাতে শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমটা আর হয় না। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, তীব্র হতাশা, মানসিক অবসাদ, নার্ভাসনেস, ক্রোধ, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন গবেষকরা নিরবচ্ছিন্ন শান্তির ঘুমের জন্য স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার দুই ঘণ্টায় সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাস্তব জগতে আমরা সত্যিটাই শুধু দেখি। সেই সত্যিটা সবসময় আমাদের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগৎ সবকিছু আমাদের সামনে উপস্থাপন করে সুন্দরভাবে, আমাদের মনের মতো করে। ভার্চুয়াল জগতের ফিল্টার করা সৌন্দর্য্য দেখে তরুণ-তরুণীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

এক জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৪০ ভাগ তরুণী এবং ১৪ ভাগ তরুণ নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য্য নিয়ে গ্লানিতে ভোগেন। তাদের খালি মনে হতে থাকে, অমুককে এত সুন্দর দেখায়, আমি এত কুৎসিত কেন?

আরো পড়ুন
পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

 

ভার্চুয়াল জগতের সবকিছুই কিন্তু সুন্দর নয়। সেই কল্পনার জগতেও আছে গভীর, গভীরতর অন্ধকার। ভার্চুয়াল জগতে প্রেম করে প্রতারিত হওয়ার হাজারটা উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই আছে। গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার উদাহরণও তো ভুরি ভুরি। নতুন নতুন আইন করেও ঠেকানো যাচ্ছে না প্রতারণা আর ব্ল্যাকমেইল। বাস্তব জগতের বুলিং আর সাইবার বুলিং-এ আকাশ-পাতাল ফারাক। বাস্তবের ঝগড়া, গালি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে আসে। আবার মিলিয়েও যায়। কিন্তু সাইবার বুলিং সাইবার স্পেসে থেকে যায়, ভাইরাল হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে যায় আমাদের মনে, মননে।

তাছাড়া ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের যে আনন্দ দেয়, বাস্তব জগতে সে আনন্দ না পেলে তরুণ প্রজন্ম হতাশ হয়। এসব হতাশা, প্রতারণা, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইলের চাপ তরুণ-তরুণীরা নিতে পারে না। তারা আরো গভীর হতাশায় তলিয়ে যায়। জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে তা কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। 

আরো পড়ুন
সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

 

কিন্তু এভাবে তরুণ প্রজন্মকে, আমাদের মানবসভ্যতার ভবিষ্যতকে ভার্চুয়াল জগতের হাতে ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে বসে আফসোস করলে তো চলবে না। আমাদের সন্তানদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে হিরোইন নিতে দেবেন না। স্মার্ট ডিভাইস কিন্তু হিরোইনের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। একজন মাদকাসক্তকে যেমন হুট করে মাদক কেড়ে নিয়েই সুস্থ করে তোলা সম্ভব নয়। তেমনি হঠাৎ একদিন সন্তানের হাত থেকে স্মাট ডিভাইস কেড়ে নিলেই তার আসক্তি দূর হয়ে যাবে না। আপনাকে আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে গভীর ভালোবাসা নিয়ে। তাকে বোঝান বাস্তব জগতের ভালোবাসাটাই আসল। তাকে সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো নয়, সমসা মোকাবেলা করতে শেখান। আপনার সন্তানকে বলুন, সে কত ভালো, সে কত সুন্দর, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে কি অপার সম্ভাবনা। তাকে বোঝান পৃথিবীটা কত সুন্দর। সন্তানকে স্ক্রিন টাইম মানেজ করতে শেখান। হুট করে ৮ ঘণ্টার স্ক্রিন টাইমকে আপনি ২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে পারবেন না। আস্তে আস্তে বোঝাতে হবে, কমাতে হবে। তাকে সময়ের মূল্য বোঝান। অপ্রয়োজনে স্ক্রল করা বন্ধ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে শেখান। নিশ্চয়ই একদিন সে বুঝবে, কল্পনার আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, বাস্তবের আনন্দ চিরদিনের। জীবন একটাই। সে জীবন যাপন করতে হবে বাস্তব আনন্দের সঙ্গে, প্রিয়জনের সান্নিধ্যে।

লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে
ছবি : রয়টার্স

চাকরির প্রস্তাবের আড়ালে সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে চীনা গুপ্তচররা। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ফাইভ আইজ’ গোয়েন্দা জোটের সদস্য দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই , যুক্তরাজ্যের এমআই৫ , কানাডার সিএসআইএস , অস্ট্রেলিয়ার এএসআইও এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেড এসআইএস যৌথভাবে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এ প্রতবেদনে জানানো হয়, চীনা সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।

গুপ্তচররা নিজেদের মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তা বা নিয়োগদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিংকডইন, ইনডিড ও আপওয়ার্ক এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে সাধারণ চাকরির সুযোগের মতো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ভুয়া নিয়োগদাতারা সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক সদস্যদের বেশি টার্গেট করছেন। তবে শুধু তারাই নন, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা ফ্রিল্যান্স লেখকরাও তাদের নজরদারির তালিকায় রয়েছেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রথমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের সময় তাদের সরকারি সংযোগ, সামরিক কার্যক্রম বা সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে চীন-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতেও বলা হয়।

এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে আরো সংবেদনশীল ও অপ্রকাশিত তথ্য চাওয়া শুরু হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে যোগাযোগ এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপে স্থানান্তর করা হয়। বিনিময়ে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ পাঠানো হয় পেপ্যাল , ওয়াইজ , জেল কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ফৌজদারি মামলা, চাকরি হারানো এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। এমনকি সাধারণ বা অশ্রেণিবদ্ধ তথ্যও অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

ফাইভ আইজ জোটের মতে, চাকরির প্রলোভনে গোপন তথ্য সংগ্রহের এই কৌশল বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তাই অপরিচিত নিয়োগদাতা ও সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।