পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সংকট নিরসনে খুলনার ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পার্কটি সচলসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। সংগঠনটি বলেছে, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করলেই দেশের প্রথম সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমিতে নির্মিত হয় দেশের প্রথম সোলার পার্ক। এটি থেকে দৈনিক ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অব্যবস্থায় মাত্র দুই বছরেই প্লান্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় পার্কের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট ও পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র পাঁচ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পুরো বিনিয়োগ উঠে আসবে। বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।
আনোয়ারুল কাদির বলেন, এরইমধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবস্থা চালু করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ভবন অনুমোদনসহ সার্বিক বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-কে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
দাবিগুলো হলো নগর ভবন ও নগরের বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন মালিকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া; খুবির অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন; বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর ও খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক রেহেনা আক্তার, ফোরামের সদস্য সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, হুমায়ূন কবির ববি, সাংবাদিক মোস্তফা জামাল পপলু প্রমুখ।