১৮ জুন ২০০৫, সোফিয়া গার্ডেন্স, কার্ডিফ। মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরি।
এতটুকু বললেই সবাই বুঝে নেন কোন ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে। রিকি পন্টিংয়ের মহাপরাক্রমশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক জয়।
এত দিন সেটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ছিল। অবশেষে আজ এলো দ্বিতীয়টি; ২১ বছর পর আরেক জুনেই!
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও নাহিদ রানার গতিতে ধরাশায়ী হলো অস্ট্রেলিয়া। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ জিতল ৮৬ রানে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আজ প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পর বজ্রপাত শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর বাগড়া দেয় বৃষ্টি।
তাতে আর একটি বলও মাঠে না গড়নোয় ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট।
মিরপুরের সবুজাভ পিচে লক্ষ্যটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে ম্যাথু শটের বোল্ড হওয়া আর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মারনাস লাবুশেনের এলবিডাব্লিুউ হয়ে ফেরা রান তাড়াকে আরো কঠিন করে তোলে।
শুরুর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আলোচিত ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাই আসলে সফরকারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এই ম্যাচ দিয়েই প্রায় ৪ বছর পর বাংলাদেশ দলে ফেরা মোসাদ্দেকও দারুণ বোলিং করেছেন। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট।
তবে মোসাদ্দেক আসল কাজটা করেছেন ব্যাট হাতে। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে তার ৮৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসই বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন শর কাছাকাছি নিয়ে যায়।
এর আগে শুরুতে সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। তানজিদ-শান্ত দুজনই ফিফটির দেখা পান।
তবে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা হয়ে প্রত্যাবর্তনের দিনটা স্মরণীয় করে রেখেছেন মোসাদ্দেক।
মিরপুরেই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫, স্কট ২/৫৭)।
অস্ট্রেলিয়া : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২*, ক্যারি ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মুস্তাফিজ ২/২৪, মোসাদ্দেক ২/৩৭)।
ফল : বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতিতে)।
ম্যাচসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন।
সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।




