• ই-পেপার

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে হামজা বাদ, নতুন মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ

৪০ মিনিট ধরে সাহায্যের আকুতি, পুলিশ বুথের সামনেই রক্তক্ষরণে যুবকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
৪০ মিনিট ধরে সাহায্যের আকুতি, পুলিশ বুথের সামনেই রক্তক্ষরণে যুবকের মৃত্যু

মাত্র ২০ রুপি ভাড়া নিয়ে অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় রাজ কুমারের। এক পর্যায়ে সেই চালককে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ বুথে যান ২২ বছর বয়সী এই যুবক। এক পর্যায়ে কোনো সাড়া না পেয়ে বুথের দরজায় আঘাত করতে গেলে কাচ ভেঙে তার হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়। এ অবস্থায় সাহায্যের আকুতি জানালেও কোনো সহায়তা না পেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান।

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি ‘পিংক পুলিশ বুথের’ এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পিংক পুলিশ বুথ হলো শুধু নারী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নারী পুলিশ সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত রাজ কুমার পেশায় একজন গাড়ির মেকানিক ছিলেন। গত রবিবার বাপুধাম এলাকার একটি পিংক পুলিশ বুথের দরজায় আঘাত করতে গিয়ে কাচ ভেঙে তার হাতে গভীর ক্ষত হয়। এতে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুথে দায়িত্বরত নারী পুলিশ সদস্যরা ভয় পেয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং আহত যুবককে সাহায্য করতে বের হননি। একই অভিযোগ করেছেন রাজ কুমারের মা। তার দাবি, ছেলে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার ২০ রুপি ভাড়া নিয়ে অটোরিকশাচালকের সঙ্গে রাজ কুমারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। গাজিয়াবাদের সহকারী পুলিশ কমিশনার উপাসনা পাণ্ডে জানান, রাজ কুমার এবং অটোরিকশাচালক—দুজনই তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ভাড়া নিয়ে তর্কের পর দুজনই পিংক পুলিশ বুথে যান। সেখানে রাজ কুমার বুথের লোহার গেট জোরে আঘাত করতে থাকেন। পরে কাচের দরজায় আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায় এবং তার হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুথে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা রাজকুমারকে কাছের থানায় যেতে বলেন। কিন্তু রাজ কুমার বুথের দরজায় আঘাত করতে থাকলে পুলিশ সদস্যরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কাচ ভেঙে তার হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

রাজ কুমারের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুড়িয়া দেবী স্বামীর মৃত্যুর বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, গত ১২ জুলাই সকাল ৯টায় রাজ কুমার কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। তিনি গাজিয়াবাদে গাড়ির মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।

বাংলাদেশে বিয়ে করা নিয়ে নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীনের

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে বিয়ে করা নিয়ে নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীনের
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে বসবাসরত বা ভ্রমণরত চীনা নাগরিকদের বিয়ের জন্য অবৈধ ম্যাচমেকিং পরিষেবা বা দালালদের ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খোঁজার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে যান, তবে তিনি মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মানব পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী এই শাস্তির মাত্রা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া পাচার সংক্রান্ত কম গুরুতর অপরাধ বা এ ধরনের অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তর্জাতিক বিয়ের প্রতারণার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘কনে কেনা’র মতো বিষয়গুলো প্রায়ই আর্থিক শোষণ এবং শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়।

বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণা প্রতিরোধে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা এবং নিজেদের নাগরিকদের বড় অঙ্কের অর্থ খোয়ানো থেকে বাঁচাতে সক্রিয় রয়েছে চীন সরকার। এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান এবং নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

বেইজিংয়ের নিজস্ব তৎপরতাও বেড়েছে। চীনের সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেটরেট-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার ও প্রতারণামূলক ম্যাচমেকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ৫৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতারণার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে চীনা পুরুষরা স্ত্রী পাওয়ার আশায় মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদানের পর দেখেন যে তাদের বিদেশি কনেরা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকে অনিশ্চয়তা
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চান নেতানিয়াহু। তবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসরায়েল দুটি ফ্রন্টে সক্রিয় রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

ইউক্রেনে ভয়ংকর জুন, জুলাই হবে আরো ভয়ংকর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইউক্রেনে ভয়ংকর জুন, জুলাই হবে আরো ভয়ংকর
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে জুন মাসে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো, স্যাটেলাইট কেন্দ্রসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনায় অব্যাহত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। শুরুর দিকে বেশ সাফল্যও পেয়েছিল তারা। রাশিয়ার মতো তেল উৎপাদনকারী দেশেও তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। কিন্তু ইউক্রেনের জন্য ব্যাপারটা হয়ে যায় ভিমরুলের চাকে ঢিল দেওয়ার মতো।

পুতিন ইউক্রেনের চাপে কাবু হওয়ার বান্দা নন। তীব্রভাবে পাল্টা হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একদম তার শুরুর দিকের তীব্রতায় ফিরে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত জুন মাসটিই ছিল ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাস। মৃত্যু, হামলা, আগুন, ধ্বংসস্তুপ যেন কিয়েভের নিত্যচিত্র। আর সাইরেন শুনলেই শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া ছিল নাগরিকদের নিত্য রুটিন। শেল্টারে সবাই আশ্রয় নিতে পারেননি।

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার হামলায় জুন মাসে অন্তত ২৯৩ জন ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফলে চলতি বছরের এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর সংখ্যা ১,৪০০ তে পৌঁছেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ ভাগ বেশি, আর ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

তবে জুনের চেয়ে চলতি জুলাই মাস আরো ভয়ংকর হতে যাচ্ছে। জুলাই মাঝামাঝি সময়েই এ পর্যন্ত ২৪০ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। যুদ্ধের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে, জুলাই মাসে মৃত্যু আগের সব পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, জুনের পরিসংখ্যান ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের সাথে একটি উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়, যা শক্তিশালী অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে ঘটছে। এই অস্ত্রগুলো ঘনবসতিপূর্ণ শহর এলাকায় ব্যবহারের ফলে এর প্রভাব হয় মারাত্মক।

বেসামরিক মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পর্যবেক্ষণ মিশন দনিপ্রো, ওদেসা এবং রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ভবনগুলোতে দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলাকেই দায়ী করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দূরপাল্লার অস্ত্রের কারণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ৬০ ভাগ বেড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ফ্রন্ট লাইনের সবচেয়ে কাছের এলাকাগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং আঘাতের বড় অংশের জন্য দায়ী ছিল স্বল্পপাল্লার ড্রোন। বেল বলেন, এই ড্রোনগুলো ফ্রন্ট লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতি একেবারেই বদলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা খাবার কেনাকাটা, কুকুর নিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো, উঠানে কাজ করা বা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো সাধারণ দৈনন্দিন কাজগুলো করার সময়ও হামলার স্বীকার হয়েছেন।’
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ রাশিয়ান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে হামজা বাদ, নতুন মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ | কালের কণ্ঠ