• ই-পেপার

চীনে তিনতলা থেকে পড়ল ইলেকট্রিক গাড়ি, নিহত দুই

পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহতের ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি ১১ বছরের শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহতের ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি ১১ বছরের শিশু
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে করাচির গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। আদালতে জমা দেয়া একটি অভিযোগপত্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর গালফ নিউজ

গত শনিবার (৪ জুলাই) জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল রাজ্জাক গুজ্জারের মাধ্যমে এই অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে ১১ বছরের শিশু হুজাইফা, তার বাবা ভবনটিতে থাকা একটি কৃত্রিম ফুলের দোকানের মালিক নিয়ামতউল্লাহ এবং গুল প্লাজা ম্যানেজমেন্ট কমিটির চার সদস্যসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আটজন আহত হন। আগুনে ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের ১ হাজার ১০০-রও বেশি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর ফলে করাচির অন্যতম ব্যস্ত এই শপিং সেন্টারে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা তদন্তের ফলাফল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ডকৃত জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই ১১ বছর বয়সী শিশুকে দোকানের ভেতর দেশলাই কাঠি নিয়ে খেলার সময়ই আগুনের সূত্রপাত হয়। আরিয়ান নামের এক ১৩ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী আরেক কিশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দিতে জানায়, হুজাইফা যখন দেশলাই কাঠি নিয়ে খেলছিল এবং হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে, তখন সে ওই দোকানেই উপস্থিত ছিল।

মোহাম্মদ তালহা এবং হামজা আমির নামের আরও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবা নিয়ামতউল্লাহ নিয়মিতভাবে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে দোকানে একা থাকতে এবং দোকান চালাতে দিতেন।

তদন্তে গুল প্লাজা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদেরও অবহেলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করতে বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা দোকান পরিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভবনটিতে মৌলিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে বা যা ছিল তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভবনের জরুরি প্রস্থানের পথগুলো (এক্সিট পয়েন্ট) তালাবদ্ধ বা অবরুদ্ধ ছিল, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, কোনো ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম ছিল না এবং জরুরি ব্যাকআপ লাইটেরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই ত্রুটিগুলোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে পুরো স্থাপনা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা ফায়ার ব্রিগেড বা উদ্ধারকারী সংস্থাকে সময়মতো খবর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ঘটনার সেই সংকটপূর্ণ শুরুর মূহূর্তে তাদের কল ডেটা রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে জরুরি সেবার নম্বরে কোনও কল করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরান-কাতার

সমুদ্র বাণিজ্যের দুয়ার খুললেও রয়েছে শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সমুদ্র বাণিজ্যের দুয়ার খুললেও রয়েছে শঙ্কা
রয়টার্স ছবি

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর সমুদ্রপথে ইরান ও কাতারের বাণিজ্য আবার শুরু হয়েছে। রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহায় নিযুক্ত ইরানের বাণিজ্যিক সহদূত আব্বাস আবদোলখানি।

তবে এই উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার নৌপথ নিয়ে এখনও রয়ে গেছে কিছু বিরোধ ও অনিশ্চয়তা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

আব্বাস আবদোলখানি জানান, ইরানি দূতাবাস ও কাতারি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের দাইয়ার বন্দর এবং কাতারের আল রুয়াইস বন্দরের মধ্যে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দাইয়ার ও আল রুয়াইস—দুই বন্দরই মূলত আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ চলাকালে দাইয়ার বন্দর একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছিল।

এদিকে গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার মাধ্যমে চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘোষণা করা হয়।

ওই সমঝোতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের মতো সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা বলা হলেও উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার নৌপথ নিয়ে এখনও কিছু বিরোধ ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

গত জুনের শেষ দিকে ইরানের ট্রেড প্রোমোশন অর্গানাইজেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকে থাকা ইরানি পণ্য ছাড় করা শুরু হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এই বন্দরে পণ্য ছাড়ের ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই তীরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার পর বাথরুমে পুঁতে রাখল স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার পর বাথরুমে পুঁতে রাখল স্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যা করে বাড়ির বাথরুমের মেঝের নিচে মরদেহ চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। এ ঘটনার প্রায় ৪৫ দিন পরে পুলিশের তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অভিযুক্ত স্ত্রী রুবি শর্মা হত্যার আগে তার স্বামী সুরেন্দ্র শর্মাকে খাবারের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। 

প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ মে থেকে সুরেন্দ্র নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় গত ২৬ মে রুবি ও তার দেবর অনিল থানায় একটি অভিযোগ করেন। 

অন্যদিকে রুবি নিজেও স্বামীকে খুঁজে বের করার নাটক করেন এবং প্রতিবেশীদের সামনে কান্নাকাটি করে নিজেকে শোকাহত হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশের ভাষ্য, প্রতিবেশী ও স্বজনরা সুরেন্দ্রের খোঁজ জানতে চাইলে রুবি বারবার বলতেন, তিনি বাইরে গেছেন এবং শিগগিরই ফিরে আসবেন।

তবে সুরেন্দ্রের পরিবারের সদস্যরা রুবির বক্তব্যে অসংগতি লক্ষ করলে পুলিশ তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। ফলে প্রথমে ঘটনাটি নিখোঁজের মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু হলেও পরে তা হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

রুবির দাবি, ভরতপুরে মদ্যপ অবস্থায় সুরেন্দ্র আত্মীয়দের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এরপর সম্ভাব্য আইনি জটিলতা ও আদালতে যাতায়াতের আশঙ্কা থেকেই তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার পর রুবি স্বামীর মরদেহ টেনে বাড়ির মাটির বাথরুমে নিয়ে যান। পরদিন তিনি শ্রমিক ডেকে সেখানে অতিরিক্ত মাটি ফেলান এবং মরদেহ পুরোপুরি ঢেকে দেন। এরপর একজন রাজমিস্ত্রি দিয়ে বাথরুমের মেঝেতে কংক্রিটের নতুন ফ্লোর নির্মাণ করান।

হত্যার পরপরই বাথরুম সংস্কারের কাজ হওয়ায় শ্রমিকদের কারো সন্দেহ হয়নি এবং কোনো দুর্গন্ধও টের পাওয়া যায়নি। প্রায় ৪৫ দিনের তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশ বাথরুমের কংক্রিটের মেঝে ভেঙে সুরেন্দ্রের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

এই হত্যাকাণ্ডে রুবিকে অন্য কেউ সহায়তা করেছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানায় ভারতীয় পুলিশ।

নিউইয়র্কে ভয়াবহ গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউইয়র্কে ভয়াবহ গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৮
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কোনি আইল্যান্ডে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে চার শিশুসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। খবর এনবিসি নিউজ

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ৩৭ মিনিটে একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে আটজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের বয়স ৬ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে বুকে গুলিবিদ্ধ ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আহত শিশুদের মধ্যে একটি ৬ বছর বয়সী ছেলের পেটে, ৭ বছর বয়সী ছেলের দুই পায়ে, ১২ বছর বয়সী ছেলের পায়ে এবং ১৪ বছর বয়সী কিশোরের ঊরুতে গুলি লেগেছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে কোনি আইল্যান্ড থেকে বাসে ৪৭ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার কথা রয়েছে ব্রাজিলের। এতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ আরলিং হালান্ডের নরওয়ে।