চীন তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করলেও তাইওয়ান নিজেদের একটি স্বায়ত্তশাসিত ও গণতান্ত্রিক সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। এ নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে দিনি দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে তাইওয়ান।
তারই অংশ হিসেবে এবার সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন মোকাবেলায় বিশ্বের অন্যতম কার্যকর দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থা ব্যবহার করে সামরিক মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অত্যাধুনিক হিমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) রকেট ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীপটিকে এমন এক প্রতিরক্ষা বলয়ে পরিণত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বুধবার দেশটির পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় দ্রুত আঘাত হেনে অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা বা ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট বা গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার’ কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী জানায়, মধ্যাঞ্চলের তাইচুং এলাকায় পরিচালিত এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল হিমার্স-এর গতিশীলতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সক্ষমতা তুলে ধরা। রকেট নিক্ষেপের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের রাডার ও পাল্টা হামলা এড়ানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
মহড়ার পর ইউনিট কমান্ডার কো মিং-পিন বলেন, ‘আমাদের হিমার্স ইউনিট শক্তিশালী যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।’
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হিমার্স বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। তাইওয়ান গত বছর প্রথমবারের মতো পূর্ব উপকূলে এই অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে পশ্চিম উপকূলে এবারই প্রথম এটি মোতায়েন করা হলো।
প্রসঙ্গত, চীনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূল, যা যেকোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে চীনা সেনাবাহিনীর অবতরণের প্রচেষ্টার জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দেখা হয়। ফলে ওই এলাকায় এই মহড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বর্তমানে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল আধুনিকায়ন করছে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী। তাদের লক্ষ্য ছোট হলেও অত্যন্ত কার্যকর ও গতিশীল অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দ্বীপটিকে এমন এক প্রতিরক্ষা বলয়ে পরিণত করা হচ্ছে, যা আক্রমণ করা কঠিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যাকে ‘পর্কুপাইন স্ট্র্যাটেজি বা সজারু কৌশল’ নামে অভিহিত করেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার হিমার্স রকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানা সম্ভব।
এছাড়াও তাইওয়ানের নিজস্বভাবে উন্নত থান্ডারবোল্ট-২০০০ রকেট লঞ্চার ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এটি ব্যবহার করা হবে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে।
তবে চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান সরকার বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মহড়া তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।





